Dhaka ০৭:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ১৬৪, আহত প্রায় এক হাজার গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা মহেশপুরে এডিপির অর্থায়নে অসহায় মানুষের মাঝে বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ তিস্তাসহ নদী ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বাড়াতে একমত বাংলাদেশ-চীন দেশে ভয়াবহ হারে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণু বাড়ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফ্রান্সে গরম থেকে বাঁচতে পানিতে নেমে ৪০ জনের মৃত্যু লক্ষ্মীপুরে একই পরিবারের ৩ জনকে গলা কেটে হত্যা ৪৩তম বিসিএস নন-ক্যাডার পদে পুনরায় ফল প্রকাশের নির্দেশ মধুখালীতে অগ্নিকাণ্ডে ডেকরেটর প্রতিষ্ঠানের শোরুম ও গুদামঘর পুড়ে ছাই ব্রাজিল ম্যাচে ফের সেই রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, কী বলছেন বিশ্লেষকরা

দীর্ঘ ৪৩ বছরের আইনী লড়াই শেষে দখলমুক্ত রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৩ শতাংশ জমি

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৫:৪৫:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 130

  দীর্ঘ ৪৩ বছরের আইনী লড়াই শেষে অবশেষে রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৩ শতাংশ জমি দখলমুক্ত হয়েছে। সোমবার আদালতের পক্ষ থেকে জমিটি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এসময় জমির মালিকের দাবিদার পক্ষের লোকজন বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে এবং শ্রমিকদের বটি দিয়ে তাড়া করে।

রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় সূত্র জানায়, বিদ্যালয়ের পূর্ব দিকে একটি পুকুরসহ ২৩ শতাংশ জমি নিজেদের দাবি করে সেখানকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ১৯৮২ সালে মুন্সেফ কোর্টে মামলা করেন। ১৯৯৪ সালে মামলাটি আদালত খারিজ করে দেন। এর মাঝে তিনি ওই জায়গার কিছু অংশ জুড়ে দোতলা বাড়ি নির্মাণ করেন। এরপর ১৯৯৭ সালে সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করেছিলেন। সেখানেও মামলাটি ডিসচার্জ হয়। ২০০৭ সালে সুপ্রীম কোর্টে লিভ টু আপিল করলে ২০৯৯ সালে আদালত খারিজ করে দেন। ২০০৫ সালে রাজবাড়ী সদর সহকারী জর্জ আদালতে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মামল করলে ২০১২ সালে আদালত সেটিও খারিজ করে দেন। একই বছর দেওয়ানী আদালতে আপীল করেও কোনো সুবিধা করতে পারেননি। দীর্ঘ আইনী লড়াই শেষে ২০১৪ সালে বিদ্যালয়ের পক্ষ হতে আনোয়ার গংকে জমিটি বুঝিয়ে দিতে বললে তিনি তা অস্বীকার করেন। ফলে বিদ্যালয়ে পক্ষ হতে খাস দখলের উচ্ছেদ মামলা করা হয়। গত ৩০ মে তারিখে আদালত বিদ্যালয়ের পক্ষে  খাস দখলের ডিগ্রী প্রদান করেন।

সোমবার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, আদালতের পক্ষ থেকে একজন আইনজীবী দাঁড়িয়ে থেকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জমিটি বুঝিয়ে দিচ্ছেন। নির্দিষ্ট সীমানায় লাল নিশানা টাঙানো হয়েছে। কয়েকজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এক্সকাভেটর দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চলছে। আনোয়ার হোসেনের দ্বিতল ভবনের ১২ ফুট জায়গা পড়েছে বিদ্যালয় অংশে। বিদ্যালয়ের অংশে থাকা সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়েছে। এসময় আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে থাকা নারীরা বের হয়ে উচ্চ বাচ্য করছেন। শ্রমিকরা বিদ্যালয়ের অংশ চিহ্নিত করতে গেলে তাদের বটি দিয়ে তাড়া করা হয়। শ্রমিক বাবলু শেখ জানান, তারা সিঁিড় দিয়ে ওঠার সময় কয়েক নারী বটি নিয়ে তাদের মারতে আসেন। অল্পের জন্য তারা বেঁচে গেছেন।

আনোয়ার হোসেনকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। আনোয়ার হোসেনের বোন জাকিয়া বেগম বলেন, তারা কোনো কিছু না জানিয়েই বাড়ি ভাঙতে এসেছে। বাড়িতে তারা ছাড়াও সাত ঘর ভাড়াটিয়া আছে। তারা আদালতে জিতেছে আমরা ভেবেছি খালি জায়গা নিয়ে জিতেছে। বাড়ির অংশ পেচে গেছে তা তারা জানতেন না। বিল্ডিং ভাঙতে হলে তাদের সময় দিতে হবে।

রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোফাজ্জেল হোসেন জানান, বিদ্যালয়ের ২৩ শতাংশ জমি আনোয়ার হোসেন গং দখল করে রেখেছিল। দীর্ঘ আইনী লড়াই শেষে তারা নিজেদের জমি বুঝে পেয়েছেন। এতে তিনি সন্তুষ্ট। কিন্তু দখল বুঝে নিতে গিয়েও আনোয়ার হোসেনদের তরফ থেকে প্রবল আপত্তি আসছে। আদালতের রায় বাস্তবায়ন চলমান রয়েছে। কেউ যেন কখনও সরকারি জমি দখল করতে না যায়।

রাজবাড়ী জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট কমিশনার খায়রুজ্জামান সোহেল বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশে তিনি জমি বুঝিয়ে দিতে এসেছেন। আদালতের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই তারা এখানে এসেছেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

দীর্ঘ ৪৩ বছরের আইনী লড়াই শেষে দখলমুক্ত রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৩ শতাংশ জমি

প্রকাশের সময় : ০৫:৪৫:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

  দীর্ঘ ৪৩ বছরের আইনী লড়াই শেষে অবশেষে রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৩ শতাংশ জমি দখলমুক্ত হয়েছে। সোমবার আদালতের পক্ষ থেকে জমিটি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এসময় জমির মালিকের দাবিদার পক্ষের লোকজন বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে এবং শ্রমিকদের বটি দিয়ে তাড়া করে।

রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় সূত্র জানায়, বিদ্যালয়ের পূর্ব দিকে একটি পুকুরসহ ২৩ শতাংশ জমি নিজেদের দাবি করে সেখানকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ১৯৮২ সালে মুন্সেফ কোর্টে মামলা করেন। ১৯৯৪ সালে মামলাটি আদালত খারিজ করে দেন। এর মাঝে তিনি ওই জায়গার কিছু অংশ জুড়ে দোতলা বাড়ি নির্মাণ করেন। এরপর ১৯৯৭ সালে সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করেছিলেন। সেখানেও মামলাটি ডিসচার্জ হয়। ২০০৭ সালে সুপ্রীম কোর্টে লিভ টু আপিল করলে ২০৯৯ সালে আদালত খারিজ করে দেন। ২০০৫ সালে রাজবাড়ী সদর সহকারী জর্জ আদালতে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মামল করলে ২০১২ সালে আদালত সেটিও খারিজ করে দেন। একই বছর দেওয়ানী আদালতে আপীল করেও কোনো সুবিধা করতে পারেননি। দীর্ঘ আইনী লড়াই শেষে ২০১৪ সালে বিদ্যালয়ের পক্ষ হতে আনোয়ার গংকে জমিটি বুঝিয়ে দিতে বললে তিনি তা অস্বীকার করেন। ফলে বিদ্যালয়ে পক্ষ হতে খাস দখলের উচ্ছেদ মামলা করা হয়। গত ৩০ মে তারিখে আদালত বিদ্যালয়ের পক্ষে  খাস দখলের ডিগ্রী প্রদান করেন।

সোমবার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, আদালতের পক্ষ থেকে একজন আইনজীবী দাঁড়িয়ে থেকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জমিটি বুঝিয়ে দিচ্ছেন। নির্দিষ্ট সীমানায় লাল নিশানা টাঙানো হয়েছে। কয়েকজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এক্সকাভেটর দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চলছে। আনোয়ার হোসেনের দ্বিতল ভবনের ১২ ফুট জায়গা পড়েছে বিদ্যালয় অংশে। বিদ্যালয়ের অংশে থাকা সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়েছে। এসময় আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে থাকা নারীরা বের হয়ে উচ্চ বাচ্য করছেন। শ্রমিকরা বিদ্যালয়ের অংশ চিহ্নিত করতে গেলে তাদের বটি দিয়ে তাড়া করা হয়। শ্রমিক বাবলু শেখ জানান, তারা সিঁিড় দিয়ে ওঠার সময় কয়েক নারী বটি নিয়ে তাদের মারতে আসেন। অল্পের জন্য তারা বেঁচে গেছেন।

আনোয়ার হোসেনকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। আনোয়ার হোসেনের বোন জাকিয়া বেগম বলেন, তারা কোনো কিছু না জানিয়েই বাড়ি ভাঙতে এসেছে। বাড়িতে তারা ছাড়াও সাত ঘর ভাড়াটিয়া আছে। তারা আদালতে জিতেছে আমরা ভেবেছি খালি জায়গা নিয়ে জিতেছে। বাড়ির অংশ পেচে গেছে তা তারা জানতেন না। বিল্ডিং ভাঙতে হলে তাদের সময় দিতে হবে।

রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোফাজ্জেল হোসেন জানান, বিদ্যালয়ের ২৩ শতাংশ জমি আনোয়ার হোসেন গং দখল করে রেখেছিল। দীর্ঘ আইনী লড়াই শেষে তারা নিজেদের জমি বুঝে পেয়েছেন। এতে তিনি সন্তুষ্ট। কিন্তু দখল বুঝে নিতে গিয়েও আনোয়ার হোসেনদের তরফ থেকে প্রবল আপত্তি আসছে। আদালতের রায় বাস্তবায়ন চলমান রয়েছে। কেউ যেন কখনও সরকারি জমি দখল করতে না যায়।

রাজবাড়ী জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট কমিশনার খায়রুজ্জামান সোহেল বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশে তিনি জমি বুঝিয়ে দিতে এসেছেন। আদালতের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই তারা এখানে এসেছেন।