শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
কালুখালীতে ১৩ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য জব্দ, গ্রেফতার ১ কারাগারেই কাটছে ‘বাকের ভাই’র জন্মদিন রাজধানীর ছয় রুটে কাল থেকে ছয় কোম্পানির বাস চলাচলের পরিকল্পনা আন্দোলন নয়, সরকার পরিবর্তনের একমাত্র গণতান্ত্রিক পথ নির্বাচন: চিফ হুইপ শ্রমিক অসন্তোষে কোনাবাড়ি-চন্দ্রা সড়কের সব পোশাক কারখানায় ছুটি নওগাঁয় ট্যাপেন্টাডলসহ দুই মাদক কারবারি আটক ৮৯ বছর পর ইন্দোনেশিয়ায় দেখা মিলল বিরল বিষধর প্রাইমেটের রাজবাড়ীর প্রথম নারী আইনজীবী দেবাহুতি চক্রবর্তীকে অশ্রুসিক্ত বিদায় এমবাপ্পেকে ২৮ পয়েন্টে হারিয়ে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন কেইন, অন্যরা কে কত নতুন রূপে ফিরছে ‘দ্য প্রিন্সেস অ্যান্ড দ্য ফ্রগ’

৮৯ বছর পর ইন্দোনেশিয়ায় দেখা মিলল বিরল বিষধর প্রাইমেটের

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৫:৪৭:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 7

ইন্দোনেশিয়ার বাংকা দ্বীপে প্রায় ৮৯ বছর পর বিরল প্রজাতির বিষধর প্রাইমেট ‘বাংকা স্লো লরিস’-এর সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। নিশাচর এ প্রাণীটি বিশ্বের একমাত্র বিষধর প্রাইমেট হিসেবে পরিচিত। ১৯৩৭ সালের পর প্রাণীটির অস্তিত্বের বিষয়ে বিজ্ঞানীদের কাছে উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য না থাকায় একসময় এটিকে বিলুপ্ত বলে ধারণা করা হয়েছিল।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বাংকা দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে ৯০টির বেশি বাংকা স্লো লরিসের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। বাড়ির পেছনে, রাস্তার পাশে এমনকি বিদ্যুতের তারেও দেখা গেছে প্রাণীগুলোকে। এদের অনেকেই ছিল আহত।

আহত প্রাণীগুলোকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেয় আলোবি ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টার। কেন্দ্রটির উদ্যোগে চিকিৎসা শেষে ৮৬টি প্রাণীকে আবার প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বাংকা স্লো লরিস সাধারণত গাছে বসবাস করে। ইন্দোনেশিয়ার বাংকা, সুমাত্রা ও বোর্নিও দ্বীপে এদের দেখা যায়। বড় চোখের ছোট আকৃতির এ প্রাণীর দৈর্ঘ্য গড়ে প্রায় ১০ ইঞ্চি।

প্রাণীটির হাতে থাকা বিশেষ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত পদার্থ মুখের লালার সঙ্গে মিশে বিষাক্ত হয়ে ওঠে। এই বিষ মানুষের শরীরে মারাত্মক অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া, এমনকি অ্যানাফিল্যাকটিক শক সৃষ্টি করতে পারে। সাধারণত শিকারি বা অন্য প্রাণীর আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষায় এ বিষ ব্যবহার করে তারা।

জনবসতির এত কাছাকাছি অবস্থান করেও প্রাণীটি দীর্ঘদিন বিজ্ঞানীদের নজরের বাইরে থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন গবেষক টিমন গ্ল। তাঁর মতে, এই আবিষ্কার আশার সঞ্চার করেছে যে, আরও অনেক বিরল প্রাণী হয়তো প্রকৃতিতে টিকে আছে, যাদের অস্তিত্ব এখনো বিজ্ঞানীদের অজানা।

তবে নতুন করে সন্ধান পাওয়ার পরও বাংকা স্লো লরিসের অস্তিত্ব হুমকির মুখে। আলোবি ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টারের পরিচালক লংকা সানি জানান, অবৈধ টিন খনি ও পাম তেলের বাগান সম্প্রসারণের কারণে ব্যাপক বন উজাড় হচ্ছে। এতে প্রাণীটির প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) লাল তালিকায় প্রাণীটিকে বর্তমানে চরম বিপন্ন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, বাংকা স্লো লরিস রক্ষায় আরও গবেষণা, নিয়মিত জরিপ এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ প্রয়োজন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

৮৯ বছর পর ইন্দোনেশিয়ায় দেখা মিলল বিরল বিষধর প্রাইমেটের

প্রকাশের সময় : ০৫:৪৭:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ার বাংকা দ্বীপে প্রায় ৮৯ বছর পর বিরল প্রজাতির বিষধর প্রাইমেট ‘বাংকা স্লো লরিস’-এর সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। নিশাচর এ প্রাণীটি বিশ্বের একমাত্র বিষধর প্রাইমেট হিসেবে পরিচিত। ১৯৩৭ সালের পর প্রাণীটির অস্তিত্বের বিষয়ে বিজ্ঞানীদের কাছে উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য না থাকায় একসময় এটিকে বিলুপ্ত বলে ধারণা করা হয়েছিল।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বাংকা দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে ৯০টির বেশি বাংকা স্লো লরিসের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। বাড়ির পেছনে, রাস্তার পাশে এমনকি বিদ্যুতের তারেও দেখা গেছে প্রাণীগুলোকে। এদের অনেকেই ছিল আহত।

আহত প্রাণীগুলোকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেয় আলোবি ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টার। কেন্দ্রটির উদ্যোগে চিকিৎসা শেষে ৮৬টি প্রাণীকে আবার প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বাংকা স্লো লরিস সাধারণত গাছে বসবাস করে। ইন্দোনেশিয়ার বাংকা, সুমাত্রা ও বোর্নিও দ্বীপে এদের দেখা যায়। বড় চোখের ছোট আকৃতির এ প্রাণীর দৈর্ঘ্য গড়ে প্রায় ১০ ইঞ্চি।

প্রাণীটির হাতে থাকা বিশেষ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত পদার্থ মুখের লালার সঙ্গে মিশে বিষাক্ত হয়ে ওঠে। এই বিষ মানুষের শরীরে মারাত্মক অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া, এমনকি অ্যানাফিল্যাকটিক শক সৃষ্টি করতে পারে। সাধারণত শিকারি বা অন্য প্রাণীর আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষায় এ বিষ ব্যবহার করে তারা।

জনবসতির এত কাছাকাছি অবস্থান করেও প্রাণীটি দীর্ঘদিন বিজ্ঞানীদের নজরের বাইরে থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন গবেষক টিমন গ্ল। তাঁর মতে, এই আবিষ্কার আশার সঞ্চার করেছে যে, আরও অনেক বিরল প্রাণী হয়তো প্রকৃতিতে টিকে আছে, যাদের অস্তিত্ব এখনো বিজ্ঞানীদের অজানা।

তবে নতুন করে সন্ধান পাওয়ার পরও বাংকা স্লো লরিসের অস্তিত্ব হুমকির মুখে। আলোবি ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টারের পরিচালক লংকা সানি জানান, অবৈধ টিন খনি ও পাম তেলের বাগান সম্প্রসারণের কারণে ব্যাপক বন উজাড় হচ্ছে। এতে প্রাণীটির প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) লাল তালিকায় প্রাণীটিকে বর্তমানে চরম বিপন্ন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, বাংকা স্লো লরিস রক্ষায় আরও গবেষণা, নিয়মিত জরিপ এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ প্রয়োজন।