শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:

রাজধানীর ছয় রুটে কাল থেকে ছয় কোম্পানির বাস চলাচলের পরিকল্পনা

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৬:১৮:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 14

রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ নীতিতে বাস পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে আগামীকাল রবিবার (১ নভেম্বর) থেকে রাজধানীর ছয়টি প্রধান রুটে পরীক্ষামূলকভাবে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে পাঁচটি নন-এসি ও একটি এসি রুটে প্রায় ৮১৬টি বাস পরিচালনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় একই সড়কে বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ, নির্ধারিত স্টপেজে যাত্রী ওঠানামা, কাউন্টারভিত্তিক টিকিট ব্যবস্থা চালু এবং বাস চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত ৩২টি প্রধান রুটের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ছয়টি রুটে এ কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে। গত ১৮ অক্টোবর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় রুট, বাস পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, বাসের সংখ্যা ও স্টপেজ নিয়ে আলোচনা হয়।

ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রাজধানীর গণপরিবহনের শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকা মহানগরীতে ৩২ রুটে বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতি ও ২৫ রুটে চক্রাকার বাস সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আগামীকাল পহেলা নভেম্বর থেকে প্রাথমিকভাবে ছয় রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া তিনটি রুটে চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু করা হবে। একটি রুটে একটি কোম্পানির বাস চলাচল করবে। প্রতিটি রুটের বাসের রং পৃথক থাকবে। এ ছাড়া পলাশী-আজিমপুর, পলাশী-মোহাম্মদপুর-বসিলা ও দিয়াবাড়ী-পঞ্চবটি রুটে চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু করা হবে।’

তিনি জানান, বাস সার্ভিসগুলো পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হবে। পরে পর্যালোচনা করে স্থায়ীভাবে বাস রুট হিসেবে চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ছয় রুটে যেসব কোম্পানির বাস

প্রাথমিক পর্যায়ে যেসব রুটে নতুন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে প্রথমটি গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে ঢাকেশ্বরী মন্দির পর্যন্ত। এ রুটে শিববাড়ী থেকে টঙ্গী, বিমানবন্দর, মহাখালী ও নিউমার্কেট হয়ে বাস চলাচল করবে। বিকাশ পরিবহন, বিকাশ সেবা ও ডিভাইস পরিবহনের কার্যক্রম সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে এ রুটে।

দ্বিতীয় রুটটি গাবতলী থেকে ডেমরা পর্যন্ত। এ পথে শ্যামলী, মহাখালী, গুলশান-১ ও রামপুরা হয়ে বাস চলবে। এ রুটে আলিফ এন্টারপ্রাইজ, বৈশাখ পরিবহন ও রয়েল পরিবহনের বাস সমন্বিতভাবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তৃতীয় রুটটি দুয়ারীপাড়া থেকে সদরঘাট পর্যন্ত। এ পথে শ্যামলী, সায়েন্স ল্যাব ও আজিমপুর হয়ে বাস চলাচল করবে। এ রুটে যুক্ত থাকবে দিশারী পরিবহন, তানজিল পরিবহন, মেট্রো লিংক ও ট্রান্স সিলভা।

চতুর্থ রুটটি ঘাটারচর থেকে ডেমরা পর্যন্ত। মোহাম্মদপুর, শাহবাগ ও রামপুরা হয়ে চলাচলকারী এ রুটে রমজান, মালঞ্চ, মিডলাইন ও রজনীগন্ধা পরিবহনের কার্যক্রম সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

পঞ্চম রুটটি ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত। শাহবাগ, পল্টন ও সাইনবোর্ড হয়ে এ পথে বাস চলাচল করবে। এ রুটেও রমজান, মালঞ্চ, মিডলাইন ও রজনীগন্ধা পরিবহনের বাস সমন্বিতভাবে পরিচালনার কথা রয়েছে।

ষষ্ঠ রুটটি মিরপুর-১২ থেকে মাওয়া পর্যন্ত। এ পথে ফার্মগেট, শাহবাগ, গুলিস্তান ও কেরানীগঞ্জ হয়ে বাস চলবে। এ রুটে স্বাধীন পরিবহন, বিহঙ্গ পরিবহন, বিকল্প পরিবহন ও শিকড় পরিবহনের বাস সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

এসব রুটে বর্তমানে চলাচলকারী পরিবহন কোম্পানিগুলোকে একক পরিচালন কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, একাধিক কোম্পানির বাস থাকলেও পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা হবে রুটভিত্তিক সমন্বিত কোম্পানির মাধ্যমে।

৩২টি প্রধান রুটে বাস চলাচলের পরিকল্পনা

ডিটিসিএর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে অনুমোদিত বাস রুটের সংখ্যা ৪১৮টি। তবে বাস্তবে বাস চলাচল করছে মাত্র ৯৮টি রুটে। এসব রুটে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ বাস পরিচালনা করছে ৬৬টি পরিবহন কোম্পানি।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমানে চালু থাকা ৯৮টি রুট পুনর্বিন্যাস করে ৩২টি প্রধান রুটে নিয়ে আসা হবে। প্রস্তাবিত রুটগুলোর প্রায় ৭০ শতাংশ বিদ্যমান সড়কপথ অনুসরণ করবে। ফলে কিছু যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছাতে মাঝপথে বাস পরিবর্তন করতে হতে পারে।

এ ছাড়া রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ২৫টি চক্রাকার বা সার্কুলার রুট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

রাজধানীর ছয় রুটে কাল থেকে ছয় কোম্পানির বাস চলাচলের পরিকল্পনা

প্রকাশের সময় : ০৬:১৮:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ নীতিতে বাস পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে আগামীকাল রবিবার (১ নভেম্বর) থেকে রাজধানীর ছয়টি প্রধান রুটে পরীক্ষামূলকভাবে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে পাঁচটি নন-এসি ও একটি এসি রুটে প্রায় ৮১৬টি বাস পরিচালনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় একই সড়কে বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ, নির্ধারিত স্টপেজে যাত্রী ওঠানামা, কাউন্টারভিত্তিক টিকিট ব্যবস্থা চালু এবং বাস চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত ৩২টি প্রধান রুটের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ছয়টি রুটে এ কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে। গত ১৮ অক্টোবর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় রুট, বাস পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, বাসের সংখ্যা ও স্টপেজ নিয়ে আলোচনা হয়।

ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রাজধানীর গণপরিবহনের শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকা মহানগরীতে ৩২ রুটে বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতি ও ২৫ রুটে চক্রাকার বাস সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আগামীকাল পহেলা নভেম্বর থেকে প্রাথমিকভাবে ছয় রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া তিনটি রুটে চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু করা হবে। একটি রুটে একটি কোম্পানির বাস চলাচল করবে। প্রতিটি রুটের বাসের রং পৃথক থাকবে। এ ছাড়া পলাশী-আজিমপুর, পলাশী-মোহাম্মদপুর-বসিলা ও দিয়াবাড়ী-পঞ্চবটি রুটে চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু করা হবে।’

তিনি জানান, বাস সার্ভিসগুলো পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হবে। পরে পর্যালোচনা করে স্থায়ীভাবে বাস রুট হিসেবে চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ছয় রুটে যেসব কোম্পানির বাস

প্রাথমিক পর্যায়ে যেসব রুটে নতুন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে প্রথমটি গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে ঢাকেশ্বরী মন্দির পর্যন্ত। এ রুটে শিববাড়ী থেকে টঙ্গী, বিমানবন্দর, মহাখালী ও নিউমার্কেট হয়ে বাস চলাচল করবে। বিকাশ পরিবহন, বিকাশ সেবা ও ডিভাইস পরিবহনের কার্যক্রম সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে এ রুটে।

দ্বিতীয় রুটটি গাবতলী থেকে ডেমরা পর্যন্ত। এ পথে শ্যামলী, মহাখালী, গুলশান-১ ও রামপুরা হয়ে বাস চলবে। এ রুটে আলিফ এন্টারপ্রাইজ, বৈশাখ পরিবহন ও রয়েল পরিবহনের বাস সমন্বিতভাবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তৃতীয় রুটটি দুয়ারীপাড়া থেকে সদরঘাট পর্যন্ত। এ পথে শ্যামলী, সায়েন্স ল্যাব ও আজিমপুর হয়ে বাস চলাচল করবে। এ রুটে যুক্ত থাকবে দিশারী পরিবহন, তানজিল পরিবহন, মেট্রো লিংক ও ট্রান্স সিলভা।

চতুর্থ রুটটি ঘাটারচর থেকে ডেমরা পর্যন্ত। মোহাম্মদপুর, শাহবাগ ও রামপুরা হয়ে চলাচলকারী এ রুটে রমজান, মালঞ্চ, মিডলাইন ও রজনীগন্ধা পরিবহনের কার্যক্রম সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

পঞ্চম রুটটি ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত। শাহবাগ, পল্টন ও সাইনবোর্ড হয়ে এ পথে বাস চলাচল করবে। এ রুটেও রমজান, মালঞ্চ, মিডলাইন ও রজনীগন্ধা পরিবহনের বাস সমন্বিতভাবে পরিচালনার কথা রয়েছে।

ষষ্ঠ রুটটি মিরপুর-১২ থেকে মাওয়া পর্যন্ত। এ পথে ফার্মগেট, শাহবাগ, গুলিস্তান ও কেরানীগঞ্জ হয়ে বাস চলবে। এ রুটে স্বাধীন পরিবহন, বিহঙ্গ পরিবহন, বিকল্প পরিবহন ও শিকড় পরিবহনের বাস সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

এসব রুটে বর্তমানে চলাচলকারী পরিবহন কোম্পানিগুলোকে একক পরিচালন কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, একাধিক কোম্পানির বাস থাকলেও পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা হবে রুটভিত্তিক সমন্বিত কোম্পানির মাধ্যমে।

৩২টি প্রধান রুটে বাস চলাচলের পরিকল্পনা

ডিটিসিএর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে অনুমোদিত বাস রুটের সংখ্যা ৪১৮টি। তবে বাস্তবে বাস চলাচল করছে মাত্র ৯৮টি রুটে। এসব রুটে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ বাস পরিচালনা করছে ৬৬টি পরিবহন কোম্পানি।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমানে চালু থাকা ৯৮টি রুট পুনর্বিন্যাস করে ৩২টি প্রধান রুটে নিয়ে আসা হবে। প্রস্তাবিত রুটগুলোর প্রায় ৭০ শতাংশ বিদ্যমান সড়কপথ অনুসরণ করবে। ফলে কিছু যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছাতে মাঝপথে বাস পরিবর্তন করতে হতে পারে।

এ ছাড়া রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ২৫টি চক্রাকার বা সার্কুলার রুট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।