হ্যালোইন ঘিরে জার্মানি-ফ্রান্সে ‘জেন-জি’ বিক্ষোভ, সহিংসতার শঙ্কা

- প্রকাশের সময় : ০৪:২৩:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / 7

হ্যালোইন উৎসবের সপ্তাহান্তে নতুন করে বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে জার্মানি ও ফ্রান্স। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থা এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা থেকে দুই দেশেই বড় ধরনের বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে।
সম্ভাব্য সহিংসতা, নাশকতা ও লুটপাট ঠেকাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি বিভিন্ন দোকানপাটের জানালা ও প্রবেশপথ সুরক্ষিত করা হচ্ছে।
জার্মানিতে শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রায় ৩০টি শহরে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এতে অংশ নিতে প্রায় দেড় লাখ মানুষ নিবন্ধন করেছেন। বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও কোলোনের মতো বড় শহরেও কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে অতিরিক্ত কয়েক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে কর্তৃপক্ষ। সম্ভাব্য লুটপাট ও সহিংসতা এড়াতে কিছু বিলাসবহুল গয়না ও পোশাকের দোকান ইতোমধ্যে নিজেদের জানালা ও প্রবেশপথ সুরক্ষিত করেছে।
জার্মানিতে ‘জেনজি রেগেল্ট!’ (জেন-জি সামলাবে) নামের একটি সংগঠনের নেতৃত্বে বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বিদ্যালয়গুলোর জরাজীর্ণ অবস্থা, সরকারি ব্যয় সংকোচন এবং তরুণ প্রজন্মের স্বার্থ উপেক্ষা করে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা।
এদিকে ফ্রান্সেও কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা তরুণদের বিক্ষোভের পর নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাটের জানালা সুরক্ষিত করতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নিয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।
প্যারিসের ৪০টির বেশি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। বিক্ষোভে মুখ ঢাকার মাস্ক পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সপ্তাহান্তে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ার ‘অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি’ রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন। দুই সপ্তাহ আগে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি নিয়ে বিক্ষোভ দেশটির বিভিন্ন শহরে ব্যাপক লুটপাট ও দাঙ্গায় রূপ নেয়। গত সপ্তাহেও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ফ্রান্সের চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি অ্যালাঁ দি ক্রেসেনজো বলেন, শনিবারের পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন। তাঁর ভাষায়, ‘দোকানিরা চাইছেন, শনিবারটা যেন দ্রুত পার হয়ে যায়।’
হ্যালোইন উপলক্ষে অনেকের মুখোশ পরার বিষয়টি পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
সূত্র: আল-জাজিরা



















