দুর্নীতি, মাদক ও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে এমপি হারুন-অর-রশিদ

- প্রকাশের সময় : ০১:৩১:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / 33

দুর্নীতি, অনিয়ম, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদ। নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন, জনস্বার্থ রক্ষা এবং সরকারি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। বিশেষ করে নদী ও পরিবেশের ক্ষতি করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে আইনানুগ পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন এই সংসদ সদস্য।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২ লাখ ৩৭ হাজার ২৫৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন হারুন-অর-রশিদ। পাংশা, কালুখালী ও বালিয়াকান্দি উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজবাড়ী-২ আসনের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
সংসদ সদস্য হারুন-অর-রশিদ জানান, সংসদ অধিবেশনে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ওয়াই-সেতু নির্মাণের দাবিতে তিনি জোরালো বক্তব্য দিয়েছেন। এটি ওই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, গোয়ালন্দ-পাটুরিয়া ওয়াই-সেতু নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে।
তিনি বলেছেন, অন্যায়, দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধের সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠ কেউ জড়িত থাকলেও তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে তিনি। তাঁর বক্তব্য, আইনের চোখে সবাই সমান; অপরাধের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচ্য নয়।
নির্বাচনের আগে ঘোষিত ১২ দফা নির্বাচনী ইশতেহারেও সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করেন তিনি। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা, এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
রাজবাড়ীর নদ-নদী ও পরিবেশ সংরক্ষণও তাঁর নির্বাচনী এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে গড়াই নদীসহ বিভিন্ন নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রির কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, তীরবর্তী জনবসতি ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সম্প্রতি পাংশার কসবামাজাইল এলাকায় গড়াই নদী সংস্কারের সময় উত্তোলিত বালু অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় একটি মহল তাঁর নাম ব্যবহার করার চেষ্টা করে বলে জানা গেছে। বিষয়টি জানার পর সংসদ সদস্য হারুন-অর-রশিদ পাংশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
তাঁর ১২ দফা নির্বাচনী ইশতেহারে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, যোগাযোগব্যবস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে পাংশা, কালুখালী ও বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো পর্যায়ক্রমে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য বিনামূল্যে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা এবং দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের উন্নত চিকিৎসার সুযোগ সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
শিক্ষাক্ষেত্রে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি চালু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই জোন স্থাপন এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর ইশতেহারে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বেকার যুবক ও নারীদের সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে স্বাবলম্বী করা, নারীদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনাও তুলে ধরেছেন তিনি। এ ছাড়া খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার, যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নাগরিক সেবা সহজীকরণে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে হারুন-অর-রশিদের। তিনি রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকার ধারাবাহিকতায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি তাঁকে রাজবাড়ী-২ আসনে মনোনয়ন দেয়।
নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর সংসদীয় দায়িত্বের পাশাপাশি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত হন তিনি। এ দায়িত্বের মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট খাতের নীতিগত বিষয়ে সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
রাজবাড়ী-২ আসনের মানুষের প্রত্যাশা, দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে তাঁর ঘোষিত অবস্থান বাস্তবে কার্যকর হবে। পাশাপাশি নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।
পদ্মা ও গড়াই নদীবিধৌত এ অঞ্চলের নদীভাঙন, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, আধুনিক চিকিৎসাসেবা, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং তরুণদের কর্মমুখী সুযোগ সৃষ্টি এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সংসদীয় দায়িত্ব কাজে লাগিয়ে এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় মানুষের।
দলমত-নির্বিশেষে সবার জন্য সমান নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা, অপরাধ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনের প্রয়োগ এবং পাংশা, কালুখালী ও বালিয়াকান্দিকে পরিকল্পিত উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে নেওয়াই এখন রাজবাড়ী-২ আসনের মানুষের প্রত্যাশা।






















