আন্দোলন নয়, সরকার পরিবর্তনের একমাত্র গণতান্ত্রিক পথ নির্বাচন: চিফ হুইপ

- প্রকাশের সময় : ০৬:০৬:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / 11

আন্দোলন করে সরকার গঠন করা যায় না, সরকার পরিবর্তনের একমাত্র গণতান্ত্রিক পথ নির্বাচন—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেছেন, জনগণ সরকারের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট না হলে পরবর্তী নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে নতুন সরকার নির্বাচন করবে। আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে জনগণকে জিম্মি করার চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি) মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে সংগঠনটির ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন চিফ হুইপ।
নূরুল ইসলাম মনি বলেন, আন্দোলন করে কি সরকার গঠন করা সম্ভব? সরকার গঠনের সঠিক পথ একমাত্র নির্বাচন। যারা আন্দোলনের নামে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন, তাঁদের দেশের স্থিতিশীলতা ও জনগণের কল্যাণের বিষয়টি অনুধাবন করতে হবে।
দেশে সুদৃঢ় গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার ভালো কাজ করলে তার সুফল সরাসরি জনগণ পাবে। আর সরকার ভালো কাজ করতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী নির্বাচনে জনগণ ভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের সুস্থ গণতান্ত্রিক ধারা প্রতিষ্ঠা করাই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত।
জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আন্দোলন ও কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে চিফ হুইপ বলেন, রাজনীতিতে ভিন্নমত ও মতপার্থক্য স্বাভাবিক। তবে নিজেদের মধ্যে ক্রমাগত বিরোধ ও সংঘাত তৈরি করলে তৃতীয় কোনো পক্ষ সেই সুযোগ নেবে। দুই ভাইয়ের ঝগড়ার সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশী সালিশ করতে এসে একপর্যায়ে তাঁদের সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করতে পারে—এমন উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, নিজেদের কোন্দলের মাধ্যমে যারা দেশকে বিভক্ত দেখতে চায়, তাদের পথই সুগম করা হচ্ছে।
দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশ ধ্বংস হয়ে গেলে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে জবাব দেওয়ার কিছু থাকবে না। স্বাধীনতার পর ৫৪ বছরে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট হয়েছে। এখন বিভেদ ভুলে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সময় এসেছে। দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় সমাজের সব স্তরের মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সম্মেলনে উপস্থিত ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উদ্দেশে চিফ হুইপ বলেন, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে প্রকৌশলীদের অবদান অনস্বীকার্য। দক্ষ ও সুশিক্ষিত জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে তরুণদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো এবং বরিশাল বিভাগের সার্বিক উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রকৌশলীদের দেশ গড়ার কারিগর উল্লেখ করে তিনি বলেন, পেশাজীবীদের মেধা, জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো হবে। ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের যৌক্তিক দাবিদাওয়ার বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেবেন এবং বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরবেন।
আইডিইবির ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতারা, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ডিপ্লোমা প্রকৌশলী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।





















