রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইরাদত আলী ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা স্থাবর অস্থাবর সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ
- প্রকাশের সময় : ০৭:১৫:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 77
রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইরাদত আলীসহ তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ৬৫ কোটি ৬৫ লাখ ৫৫ হাজার ৮৬৩ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশন ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার রাজবাড়ী স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান এ আদেশ দেন। কাজী ইরাদত আলী রাজবাড়ী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলীর সহোদর ছোট ভাই। তারা উভয়েই রাজবাড়ী শহরের সজ্জনকান্দার বাসিন্দা। জব্দ করা সম্পদের মধ্যে ব্যাংকে গচ্ছিত টাকার পরিমাণ ১৩ কোটি ৩২ লাখ ২৮ হাজার ৩০৬ টাকা এবং স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৫২ কোটি ৩৩ লাখ ২৭ হাজার ৫৫৭ টাকা।
জানা গেছে, গত ৩০ নভেম্বর তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশন ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজ রাজবাড়ী সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে কাজী ইরাদত আলী, তার স্ত্রী রাবেয়া পারভীন, ছেলে কাজী রাকিবুল হাসান শান্তনু, পুত্রবধূ আফসানা নওমীন তাকিনা, মেয়ে কাজী সিরাজুম মুনিরা এবং জামাতার নুরুল ইসলামের নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করার আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, তাদের নামে থাকা সম্পদ অন্যত্র স্থানান্তরের সম্ভাবনা রয়েছে।
আদালতে দুদকের দেওয়া আবেদন সূত্রে জানা গেছে, কাজী ইরাদত আলীর নামে ১০টি ব্যাংকে ১ কোটি ৬৫ লাখ ৮৭ হাজার টাকা, কাজী ইরাদত আলীর স্ত্রী রাবেয়া পারভীনের নামে সাতটি ব্যাংকে ১ কোটি ২৮ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৪ টাকা, ছেলে রাকিবুল হাসান শান্তনুর নামে ১৩টি ব্যাংকে ৪৫ লাখ ৬৫ হাজার ২১৮ টাকা, পুত্রবধূ আফসানা নওমীন তাকিনার নামে আটটি ব্যাংকে ১১ লাখ ১১ হাজার ১১১ টাকা, মেয়ে কাজী সিরাজুম মুনিরার নামে ১১টি ব্যাংকে ২ কোটি ৩ লাখ ৮১ হাজার ২১২ টাকা, জামাতা নুরুল ইসলামের নামে ১০টি ব্যাংকে ১ কোটি ৯০ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭৫ টাকার সন্ধান পান। কাজী ইরাদত আলী ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বক্তিদের নামে ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে। জব্দ তালিকায় রয়েছে চারটি গাড়ী, রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বেথুলিয়া মৌজায় কাজী ইরাদত আলীর মালিকানাধীন গোল্ডেশিয়া জুট মিলের নামে কেনা ১১৫৮ শতাংশ জমি, সদর উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় কাজী ইরাদত আলীর নিজ নামে কেনা ২ হাজার ৩৭৮ শতাংশ জমি, শহরের ভবানীপুরে ২১ শতাংশ জায়গার উপর নির্মিত কাজী ফিলিং স্টেশন, শহরের শ্রীপুরে ০.৫৮৩০ একর জমিতে নির্মিত রাজবাড়ী ফিলিং স্টেশন, শহরের খলিফা পট্টিতে কাজী ভবন, সদর উপজেলার কল্যাণপুর এলাকায় ০.৭০ একর জমি, ঢাকার গুলশানে ৮২ শতাংশ জমিতে নির্মিত ছয়ছ তলা বিশিষ্ট ভবন ইতাদি। যার সর্বমোট মূল্য দেখানো হয়েছে ৫২ কোটি ৩৩ লাখ ২৭ হাজার ৫৫৭ টাকা।
দুদকের আইনজীবী অ্যাড. বিজন কুমার বোস বলেন, গত ৩০ নভেম্বর তারিখে দুদক ফরিদপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজ রাজবাড়ীর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইরাদত আলীসহ তার পরিবারের সদস্যদের নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধ এবং ক্রোকের জন্য আবেদন করেন। আয় বহিভর্‚ত এসব সম্পদ অবরুদ্ধ করা না হলে তা অন্যত্র স্থানান্তর হতে পারে বলে মামলার অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে। তপশিল বর্ণিত ৬৫ কোটি ৬৫ লাখ ৫৫ হাজার ৮৬৩ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোকের জন্য আবেদন করেন। আদালতে বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে আদালত ক্রোকের আদেশ দেন।
রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইরাদত আলী ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের তপর থেকে পলাতক। যেকারণে তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার ফোনটিও বন্ধ পাওয়া গেছে।


























