আইনজীবী সমিতির ‘ঘুষের হার নির্ধারণ’ রেজল্যুশন ভাইরাল, তীব্র সমালোচনা
- প্রকাশের সময় : ১২:১৬:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ মার্চ ২০২৫
- / 190
শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির একটি রেজল্যুশন ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। রেজল্যুশনে আদালতের পেশকার ও পিয়নদের ঘুষের হার নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
গত ৬ মার্চ শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী সভায় এই রেজল্যুশন গৃহীত হয়। এতে সি আর ফাইলিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ ১০০ টাকা, জামিননামা দাখিলের জন্য ১০০ থেকে ২০০ টাকা, সিভিল ফাইলিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ ২০০ টাকা এবং হলফনামার জন্য ১০০ টাকা ঘুষ নির্ধারণ করা হয়েছে। রেজল্যুশনটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. জাহাঙ্গীর আলম কাশেম দাবি করেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ঘুষের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং হয়রানি কমাতে।
তিনি বলেন, ‘কোর্টের কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে ইচ্ছামতো ঘুষ আদায় করে আসছে। আমরা এটি বন্ধ করতে চাই, কিন্তু হুট করে সম্ভব নয়। তাই নির্ধারিত অঙ্ক ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই অনৈতিক লেনদেন পুরোপুরি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন সংশ্লিষ্টরা। শরীয়তপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির শেখ মহসিন স্বপন বলেন, ‘এটি নজিরবিহীন ঘটনা।
কোনো আইনজীবী সমিতি সভা ডেকে ঘুষের হার নির্ধারণ করতে পারে না। এটি বিচার বিভাগকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।’
মানবাধিকার সংগঠন ও নাগরিক সমাজের নেতারাও এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের (বিএইচআরসি) শরীয়তপুর জেলা সভাপতি অ্যাড. মাসুদুর রহমান বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে সঠিক নয়। ঘুষের ব্যাপারটাকে সব সময়ই আমরা নিরুৎসাহিত করি।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) শরীয়তপুরের সভাপতি অ্যাড. রাশিদুল হাসান (মাসুম) বলেন, আইনজীবী সমিতির এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের কোনো এখতিয়ার নেই। এটি বেআইনি।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত আইনজীবীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা এতে অংশ নিতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই রেজল্যুশন নিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই এটিকে ঘুষকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা বলে মনে করছেন। আইনজীবী সমিতির এই সিদ্ধান্ত আদালতের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা প্রশ্নের মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।























