Dhaka ০৯:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
অবহেলায় মায়ের মৃত্যু : যুগ্ম সচিব ছেলেকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার আদ-দ্বীনে ৬ নবজাতকের মৃত্যু : স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা ঢাকা মহানগর জাতীয়তাবাদী হিন্দু ছাত্র ফোরামের নেতৃত্বে জবির সৈকত-তূর্ণা নওগাঁয় ডিসি-এসপি পরিচয়ে চাঁদাবাজি, ডিবির হাতে প্রতারক গ্রেপ্তার পত্নীতলায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ রাজবাড়ীতে ইয়াবাসহ জুতার দোকানের কর্মচারী আটক সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি শুরু ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় অপরাধী ছাড়া পাবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী দিল্লিতে রেস্তোরাঁয় আগুনের ঘটনায় ৫ বাংলাদেশী আহত

নওগাঁয় ডিসি-এসপি পরিচয়ে চাঁদাবাজি, ডিবির হাতে প্রতারক গ্রেপ্তার

নওগাঁ প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৭:২১:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
  • / 20

নওগাঁর জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৪টি মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন অপারেটরের ৩৮টি সিমকার্ড জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মে এক ব্যক্তি নিজেকে সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এক হোমিওপ্যাথিক ওষুধ ব্যবসায়ীর কাছে মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, ওই ব্যবসায়ীর ওষুধ সেবন করে একজন শিশু মারা গেছে এবং মামলা এড়াতে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে। মামলার ভয় দেখিয়ে তিনি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ২০ হাজার ৩০০ টাকা আদায় করেন।

এছাড়া গত ৩০ মে একই ব্যক্তি নিজেকে সিআইডির এসপি জাহিদ পরিচয় দিয়ে এক বিকাশ ও নগদ ব্যবসায়ীকে ফোন ও বার্তা পাঠান। তিনি অভিযোগ করেন, ওই ব্যবসায়ীর দোকান থেকে অনলাইন জুয়ার লেনদেন পরিচালিত হচ্ছে এবং মামলা না করতে ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন।

এ ধরনের প্রতারণার অভিযোগ পাওয়ার পর নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি মো. হাসিবুল্লাহ হাসিব এবং পুলিশ সুপারের আইসিটি শাখাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সহায়তায় ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযানে নামে। অভিযানের একপর্যায়ে বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার নামাপোওতা গ্রামের বাসিন্দা মো. নাইম হোসেন (২৮)-কে সান্তাহার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৪টি মোবাইল ফোন, ৩টি সচল সিমসহ মোট ৩৮টি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদে নাইম হোসেন স্বীকার করেন যে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে কখনো পুলিশ সুপার, কখনো ওসি, কখনো জেলা প্রশাসক (ডিসি) কিংবা প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

নওগাঁয় ডিসি-এসপি পরিচয়ে চাঁদাবাজি, ডিবির হাতে প্রতারক গ্রেপ্তার

প্রকাশের সময় : ০৭:২১:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

নওগাঁর জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৪টি মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন অপারেটরের ৩৮টি সিমকার্ড জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মে এক ব্যক্তি নিজেকে সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এক হোমিওপ্যাথিক ওষুধ ব্যবসায়ীর কাছে মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, ওই ব্যবসায়ীর ওষুধ সেবন করে একজন শিশু মারা গেছে এবং মামলা এড়াতে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে। মামলার ভয় দেখিয়ে তিনি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ২০ হাজার ৩০০ টাকা আদায় করেন।

এছাড়া গত ৩০ মে একই ব্যক্তি নিজেকে সিআইডির এসপি জাহিদ পরিচয় দিয়ে এক বিকাশ ও নগদ ব্যবসায়ীকে ফোন ও বার্তা পাঠান। তিনি অভিযোগ করেন, ওই ব্যবসায়ীর দোকান থেকে অনলাইন জুয়ার লেনদেন পরিচালিত হচ্ছে এবং মামলা না করতে ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন।

এ ধরনের প্রতারণার অভিযোগ পাওয়ার পর নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি মো. হাসিবুল্লাহ হাসিব এবং পুলিশ সুপারের আইসিটি শাখাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সহায়তায় ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযানে নামে। অভিযানের একপর্যায়ে বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার নামাপোওতা গ্রামের বাসিন্দা মো. নাইম হোসেন (২৮)-কে সান্তাহার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৪টি মোবাইল ফোন, ৩টি সচল সিমসহ মোট ৩৮টি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদে নাইম হোসেন স্বীকার করেন যে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে কখনো পুলিশ সুপার, কখনো ওসি, কখনো জেলা প্রশাসক (ডিসি) কিংবা প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।