Dhaka ০১:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
মার্জিন বিধিমালার সংশোধনী গেজেট প্রকাশ, ঋণের শর্তে এসেছে পরিবর্তন জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির নতুন চার সদস্যের শ্রদ্ধা মুখস্থনির্ভর শিক্ষা নয়, খেলায় খেলায় শিশুদের শেখাতে হবে : ববি হাজ্জাজ চার দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক করল দূতাবাস আমার এখনো বিয়ে হয়নি : পূজা চেরি নেপাল সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল পদ পেলেন ভারতের সেনাপ্রধান রাষ্ট্রপতি নির্বাচন : প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আজ ঢাকায় আর্জেন্টাইন তারকা ক্যানিজিয়া, প্রত্যাশা বাংলাদেশ একদিন বিশ্বকাপ খেলবে দুদকের নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি আসাদুজ্জামান, প্রজ্ঞাপন জারি দেশে ফিরলেন লিবিয়ায় বন্দি থাকা ১৭৪ বাংলাদেশি
মেজবাহ উল করিম রিন্টু স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগ

চরের দেড়শ পরিবার পেল ফলজ বনজ ও ঔষধি গাছের চারা

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৯:০৯:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • / 141

 রাজবাড়ী জেলার দুর্গম চরাঞ্চল কুশেহাটার প্রায় দেড়শ পরিবার পেল ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা| পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণে উৎসাহ সৃষ্টির লক্ষ্যে সামাজিক সংগঠন মেজবাহ উল করিম রিন্টু স্মৃতি পরিষদ এ উদ্যোগ গ্রহণ করে|
সংগঠনের সদস্যরা দীর্ঘ নদীপথ অতিক্রম করে কুশেহাটা চরে গিয়ে বসবাসরত প্রতিটি পরিবারের হাতে পাঁচটি করে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা তুলে দেন| বিতরণ করা চারার মধ্যে ছিল আম, জাম, লেবু, পেয়ারা, আমলকি, সেগুনসহ বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ|
আয়োজকরা জানান, চরাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের অনেকেরই ইচ্ছা থাকলেও সহজে গাছের চারা সংগ্রহের সুযোগ থাকে না| যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে তারা শহরে গিয়ে চারা কিনতে পারেন না| তাই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের অংশ হিসেবে সরাসরি চরবাসীর কাছে চারা পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়|
চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে সংগঠনের আহ্বায়ক আজিজা খানম বলেন, মেজবাহ উল করিম রিন্টুর ¯^প্ন ছিল চারদিকে সবুজের সমারোহ সৃষ্টি করা| তিনি জীবদ্দশায় রাজবাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় সুযোগ পেলেই বৃক্ষরোপণ করতেন এবং মানুষকে গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন| তাঁর সেই ¯^প্ন ও আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখতে আমরা প্রতি বছর বৃক্ষরোপণ ও গাছের চারা বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি| আমরা বিশ্বাস করি, একটি গাছ শুধু পরিবেশের জন্য নয়, একটি পরিবারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কল্যাণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে|
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বেশি বেশি গাছ লাগানোর বিকল্প নেই| বিশেষ করে নদীভাঙনপ্রবণ চরাঞ্চলে বৃক্ষরোপণ পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি ভূমি সংরক্ষণেও সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে|
এ সময় সংগঠনের সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, আহসান হাবীব, অপূর্ব দাস, সুজিত সাহা, সৌমিত্র শীল, ফারুক উদ্দিন, মো. পারভেজ, সাথী সরকার, বর্ষণ দাস, রবিউল রবি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন|
গাছের চারা পেয়ে চরবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়| শহীদ কাজী নামে এক বাসিন্দা বলেন, “আমাদের গাছ লাগানোর ইচ্ছা থাকলেও চারা সংগ্রহ করা সহজ নয়| সপ্তাহে একদিন হাটে গেলেও নানা কাজের ব্যস্ততায় চারা কেনা হয়ে ওঠে না| সংগঠনের পক্ষ থেকে বাড়িতে এসে গাছের চারা দেওয়ায় আমরা খুবই উপকৃত হয়েছি| এসব গাছ বড় হলে পরিবেশ সুন্দর হবে, পাশাপাশি ফলও পাওয়া যাবে|”
স্থানীয়দের আশা, এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে চরাঞ্চলে সবুজের পরিমাণ বাড়বে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে|

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

মেজবাহ উল করিম রিন্টু স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগ

চরের দেড়শ পরিবার পেল ফলজ বনজ ও ঔষধি গাছের চারা

প্রকাশের সময় : ০৯:০৯:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

 রাজবাড়ী জেলার দুর্গম চরাঞ্চল কুশেহাটার প্রায় দেড়শ পরিবার পেল ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা| পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণে উৎসাহ সৃষ্টির লক্ষ্যে সামাজিক সংগঠন মেজবাহ উল করিম রিন্টু স্মৃতি পরিষদ এ উদ্যোগ গ্রহণ করে|
সংগঠনের সদস্যরা দীর্ঘ নদীপথ অতিক্রম করে কুশেহাটা চরে গিয়ে বসবাসরত প্রতিটি পরিবারের হাতে পাঁচটি করে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা তুলে দেন| বিতরণ করা চারার মধ্যে ছিল আম, জাম, লেবু, পেয়ারা, আমলকি, সেগুনসহ বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ|
আয়োজকরা জানান, চরাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের অনেকেরই ইচ্ছা থাকলেও সহজে গাছের চারা সংগ্রহের সুযোগ থাকে না| যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে তারা শহরে গিয়ে চারা কিনতে পারেন না| তাই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের অংশ হিসেবে সরাসরি চরবাসীর কাছে চারা পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়|
চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে সংগঠনের আহ্বায়ক আজিজা খানম বলেন, মেজবাহ উল করিম রিন্টুর ¯^প্ন ছিল চারদিকে সবুজের সমারোহ সৃষ্টি করা| তিনি জীবদ্দশায় রাজবাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় সুযোগ পেলেই বৃক্ষরোপণ করতেন এবং মানুষকে গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন| তাঁর সেই ¯^প্ন ও আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখতে আমরা প্রতি বছর বৃক্ষরোপণ ও গাছের চারা বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি| আমরা বিশ্বাস করি, একটি গাছ শুধু পরিবেশের জন্য নয়, একটি পরিবারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কল্যাণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে|
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বেশি বেশি গাছ লাগানোর বিকল্প নেই| বিশেষ করে নদীভাঙনপ্রবণ চরাঞ্চলে বৃক্ষরোপণ পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি ভূমি সংরক্ষণেও সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে|
এ সময় সংগঠনের সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, আহসান হাবীব, অপূর্ব দাস, সুজিত সাহা, সৌমিত্র শীল, ফারুক উদ্দিন, মো. পারভেজ, সাথী সরকার, বর্ষণ দাস, রবিউল রবি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন|
গাছের চারা পেয়ে চরবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়| শহীদ কাজী নামে এক বাসিন্দা বলেন, “আমাদের গাছ লাগানোর ইচ্ছা থাকলেও চারা সংগ্রহ করা সহজ নয়| সপ্তাহে একদিন হাটে গেলেও নানা কাজের ব্যস্ততায় চারা কেনা হয়ে ওঠে না| সংগঠনের পক্ষ থেকে বাড়িতে এসে গাছের চারা দেওয়ায় আমরা খুবই উপকৃত হয়েছি| এসব গাছ বড় হলে পরিবেশ সুন্দর হবে, পাশাপাশি ফলও পাওয়া যাবে|”
স্থানীয়দের আশা, এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে চরাঞ্চলে সবুজের পরিমাণ বাড়বে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে|