Dhaka ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
সব নাগরিককে এক ডিজিটাল আইডির আওতায় আনতে চায় সরকার : রেহান আসিফ ৯ বছর পর মুক্তি মিলছে গাজীপুর সাফারি পার্কের দুই লেপার্ডের ডিআইজিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ২৪ কর্মকর্তাকে বদলি সবার জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পূর্বশর্ত : রাষ্ট্রপতি কানাডার উৎসবে সেরা অভিনেত্রী তুষি, ‘রইদ’ পেল তিন পুরস্কার শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণে ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গুণী শিক্ষক হিসেবে সংবর্ধনা পাচ্ছেন আব্দুর রাজ্জাক একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাবার আহাজারি, ‘আমার বাচ্চা ফেরত দেন, আর কিছু চাই না’ এলপিজির দাম বাড়ল সাতদিন ধরে চলে ‘বরের মেলা’: সেজেগুজে থাকেন পাত্ররা, পছন্দ করে কিনে নেন কনেরা!
মেজবাহ উল করিম রিন্টু স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগ

চরের দেড়শ পরিবার পেল ফলজ বনজ ও ঔষধি গাছের চারা

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৯:০৯:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • / 213

 রাজবাড়ী জেলার দুর্গম চরাঞ্চল কুশেহাটার প্রায় দেড়শ পরিবার পেল ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা| পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণে উৎসাহ সৃষ্টির লক্ষ্যে সামাজিক সংগঠন মেজবাহ উল করিম রিন্টু স্মৃতি পরিষদ এ উদ্যোগ গ্রহণ করে|
সংগঠনের সদস্যরা দীর্ঘ নদীপথ অতিক্রম করে কুশেহাটা চরে গিয়ে বসবাসরত প্রতিটি পরিবারের হাতে পাঁচটি করে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা তুলে দেন| বিতরণ করা চারার মধ্যে ছিল আম, জাম, লেবু, পেয়ারা, আমলকি, সেগুনসহ বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ|
আয়োজকরা জানান, চরাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের অনেকেরই ইচ্ছা থাকলেও সহজে গাছের চারা সংগ্রহের সুযোগ থাকে না| যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে তারা শহরে গিয়ে চারা কিনতে পারেন না| তাই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের অংশ হিসেবে সরাসরি চরবাসীর কাছে চারা পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়|
চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে সংগঠনের আহ্বায়ক আজিজা খানম বলেন, মেজবাহ উল করিম রিন্টুর ¯^প্ন ছিল চারদিকে সবুজের সমারোহ সৃষ্টি করা| তিনি জীবদ্দশায় রাজবাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় সুযোগ পেলেই বৃক্ষরোপণ করতেন এবং মানুষকে গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন| তাঁর সেই ¯^প্ন ও আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখতে আমরা প্রতি বছর বৃক্ষরোপণ ও গাছের চারা বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি| আমরা বিশ্বাস করি, একটি গাছ শুধু পরিবেশের জন্য নয়, একটি পরিবারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কল্যাণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে|
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বেশি বেশি গাছ লাগানোর বিকল্প নেই| বিশেষ করে নদীভাঙনপ্রবণ চরাঞ্চলে বৃক্ষরোপণ পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি ভূমি সংরক্ষণেও সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে|
এ সময় সংগঠনের সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, আহসান হাবীব, অপূর্ব দাস, সুজিত সাহা, সৌমিত্র শীল, ফারুক উদ্দিন, মো. পারভেজ, সাথী সরকার, বর্ষণ দাস, রবিউল রবি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন|
গাছের চারা পেয়ে চরবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়| শহীদ কাজী নামে এক বাসিন্দা বলেন, “আমাদের গাছ লাগানোর ইচ্ছা থাকলেও চারা সংগ্রহ করা সহজ নয়| সপ্তাহে একদিন হাটে গেলেও নানা কাজের ব্যস্ততায় চারা কেনা হয়ে ওঠে না| সংগঠনের পক্ষ থেকে বাড়িতে এসে গাছের চারা দেওয়ায় আমরা খুবই উপকৃত হয়েছি| এসব গাছ বড় হলে পরিবেশ সুন্দর হবে, পাশাপাশি ফলও পাওয়া যাবে|”
স্থানীয়দের আশা, এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে চরাঞ্চলে সবুজের পরিমাণ বাড়বে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে|

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

মেজবাহ উল করিম রিন্টু স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগ

চরের দেড়শ পরিবার পেল ফলজ বনজ ও ঔষধি গাছের চারা

প্রকাশের সময় : ০৯:০৯:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

 রাজবাড়ী জেলার দুর্গম চরাঞ্চল কুশেহাটার প্রায় দেড়শ পরিবার পেল ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা| পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণে উৎসাহ সৃষ্টির লক্ষ্যে সামাজিক সংগঠন মেজবাহ উল করিম রিন্টু স্মৃতি পরিষদ এ উদ্যোগ গ্রহণ করে|
সংগঠনের সদস্যরা দীর্ঘ নদীপথ অতিক্রম করে কুশেহাটা চরে গিয়ে বসবাসরত প্রতিটি পরিবারের হাতে পাঁচটি করে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা তুলে দেন| বিতরণ করা চারার মধ্যে ছিল আম, জাম, লেবু, পেয়ারা, আমলকি, সেগুনসহ বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ|
আয়োজকরা জানান, চরাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের অনেকেরই ইচ্ছা থাকলেও সহজে গাছের চারা সংগ্রহের সুযোগ থাকে না| যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে তারা শহরে গিয়ে চারা কিনতে পারেন না| তাই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের অংশ হিসেবে সরাসরি চরবাসীর কাছে চারা পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়|
চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে সংগঠনের আহ্বায়ক আজিজা খানম বলেন, মেজবাহ উল করিম রিন্টুর ¯^প্ন ছিল চারদিকে সবুজের সমারোহ সৃষ্টি করা| তিনি জীবদ্দশায় রাজবাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় সুযোগ পেলেই বৃক্ষরোপণ করতেন এবং মানুষকে গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন| তাঁর সেই ¯^প্ন ও আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখতে আমরা প্রতি বছর বৃক্ষরোপণ ও গাছের চারা বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি| আমরা বিশ্বাস করি, একটি গাছ শুধু পরিবেশের জন্য নয়, একটি পরিবারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কল্যাণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে|
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বেশি বেশি গাছ লাগানোর বিকল্প নেই| বিশেষ করে নদীভাঙনপ্রবণ চরাঞ্চলে বৃক্ষরোপণ পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি ভূমি সংরক্ষণেও সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে|
এ সময় সংগঠনের সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, আহসান হাবীব, অপূর্ব দাস, সুজিত সাহা, সৌমিত্র শীল, ফারুক উদ্দিন, মো. পারভেজ, সাথী সরকার, বর্ষণ দাস, রবিউল রবি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন|
গাছের চারা পেয়ে চরবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়| শহীদ কাজী নামে এক বাসিন্দা বলেন, “আমাদের গাছ লাগানোর ইচ্ছা থাকলেও চারা সংগ্রহ করা সহজ নয়| সপ্তাহে একদিন হাটে গেলেও নানা কাজের ব্যস্ততায় চারা কেনা হয়ে ওঠে না| সংগঠনের পক্ষ থেকে বাড়িতে এসে গাছের চারা দেওয়ায় আমরা খুবই উপকৃত হয়েছি| এসব গাছ বড় হলে পরিবেশ সুন্দর হবে, পাশাপাশি ফলও পাওয়া যাবে|”
স্থানীয়দের আশা, এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে চরাঞ্চলে সবুজের পরিমাণ বাড়বে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে|