লাগেজ হারিয়েছে সৌদিতে, দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়
- প্রকাশের সময় : ০৬:২২:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
- / 6
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা পৌর শহরের শাহপুর ও আড়াইবাড়ি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে হজযাত্রীর হারিয়ে যাওয়া লাগেজকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় চার ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়েছে।
শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন রাবার বুলেট এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করলেও পরিস্থিতি দীর্ঘ সময় নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর শাহপুর গ্রামের এক বৃদ্ধা হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে যান। সেখানে তার একটি লাগেজ হারিয়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই হজযাত্রী হারিয়ে যাওয়া লাগেজের বিষয়ে জানতে আড়াইবাড়ি গ্রামের মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন পরিচালিত ‘কসবা হজ কাফেলা’ ট্রাভেল এজেন্সিতে যান। তখন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হারিয়ে যাওয়া লাগেজের দায়ভার সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীর নিজস্ব বিষয় এবং এ বিষয়ে ট্রাভেল এজেন্সির কিছু করার নেই। এ কথা নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা, হাতাহাতি হয়। এরপর থেকেই দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
এরই জের ধরে শনিবার সকালে শাহপুর ও আড়াইবাড়ি গ্রামের শতশত লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষ চলাকালে দুইপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের কারণে কদমতলী মোড়সহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ হয়ে পড়ে। বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়।
খবর পেয়ে কসবা থানা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। সংঘর্ষকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। তবে বিকাল ৪টায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে উত্তেজনা ও সংঘর্ষ চলছিল বলে জানা গেছে।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনিন সুলতানা বলেন, ‘পূর্ববিরোধের জের ধরে শাহপুর ও আড়াইবাড়ি গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।’
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর এবং কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।



















