বারোমাসি বিলে উদ্ধার অজ্ঞাত লাশের রহস্য উদ্ঘাটন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই হত্যাকারী গ্রেপ্তার
- প্রকাশের সময় : ০৬:০১:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
- / 38
নওগাঁর বারোমাসি বিল থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত লাশের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। লাশ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত আরও একজন আসামি পলাতক রয়েছে।
নওগাঁ জেলা পুলিশ জানায়, গত ১১ জুন সকালে নওগাঁ সদর উপজেলার বারোমাসি বিলে কচুরিপানার নিচে একটি অজ্ঞাত লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে নওগাঁ সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে এবং তদন্ত শুরু করে।
পরে লাশটির পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহত শফিকুল ইসলাম জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর এলাকার বাসিন্দা এবং পুরাতন মোবাইল ফোন ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রীর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শফিকুল ইসলাম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় গত ৯ জুন নওগাঁ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। ব্যবসায়িক কাজে বের হওয়ার পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) ও নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়।
তথ্যপ্রযুক্তি, গোপন সংবাদের তথ্য এবং বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িত জয়নুলকে নওগাঁ শহর থেকে এবং আশরাফুলকে মান্দা উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত জয়নুলের কাছ থেকে নিহতের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এছাড়া নিহতের মোটরসাইকেলও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতরা নিহত শফিকুল ইসলামের ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন। গত ৭ জুন তারা শফিকুলকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৮ জুন ভীমপুর কলেজ মোড় এলাকায় তারা একত্রিত হয় এবং পরে দুটি মোটরসাইকেলে বারোমাসি বিল সংলগ্ন পাথরঘাটা ব্রিজ এলাকায় যায়।
সেখানে এক পর্যায়ে পলাতক আসামি নাইলনের রশি দিয়ে শফিকুল ইসলামের গলায় ফাঁস দেয়। এ সময় জয়নুল তার হাত এবং আশরাফুল তার পা চেপে ধরে রাখে। শফিকুল অচেতন হয়ে পড়লে তারা তাকে বিলের পানিতে বারবার ডুবিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে মরদেহ কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পুলিশ জানায়, হত্যার পর আসামিরা নিহতের মোটরসাইকেল ও নগদ এক হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে যায় এবং নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। সামান্য অর্থ ও মোটরসাইকেলের লোভেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত অপর পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
নওগাঁ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




















