বিয়ে এড়াতে আত্মগোপন, ধর্ষণ ও ভ্রুণ নষ্টের মামলায় গ্রেফতার শিবির নেতা
- প্রকাশের সময় : ০৬:৪৯:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
- / 20
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ধর্ষণের মাধ্যমে এক নারীকে অন্তঃসত্ত্বা করার পর ওষুধ খাইয়ে তার ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে ছাত্রশিবিরের এক নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত জিসান মিয়া প্রধানকে প্রধান আসামি করে মোট চারজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) রাতে জেলার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে জিসানকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, তাকে গাড়িযোগে অপহরণ করা হয়েছিল। তবে কুমিল্লা জেলা পুলিশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, অপহরণের কোনো ঘটনা ঘটেনি; তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জিসান মিয়া প্রধান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি ছিলেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২০ মে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দাউদকান্দির একটি ভাড়া বাসায় ওই নারীকে ধর্ষণ করেন জিসান। এতে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে তার ভ্রূণ নষ্ট করা হয়। পরে ভুক্তভোগী বিয়ের জন্য চাপ দিলে শুক্রবার বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দেন জিসান।
তবে পুলিশ জানায়, বিয়ে এড়াতে বৃহস্পতিবার তিনি আত্মগোপনে যান এবং তার চাচাতো ভাই রাসেল আহাম্মদের মাধ্যমে থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করান। জিসানকে উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর শুক্রবার রাতেই ওই নারী বাদী হয়ে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহায়তা এবং ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, নিখোঁজ শিবির নেতাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে কেউ অপহরণ করেনি। এক নারীর সঙ্গে প্রতারণামূলক ঘটনার জেরে তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। ওই নারী তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। মামলায় ভ্রূণ নষ্টসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে লাকসাম ক্রসিং থানা পুলিশ।





















