Dhaka ০৮:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
কোস্ট গার্ডের নতুন মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মঈনুল হাসান কারা মহাপরিদর্শক মোতাহের হোসেনকে সেনাবাহিনীতে প্রত্যাবাসন শার্শায় ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, আটক ১ রাজবাড়ী উদীচীতে কমরেড কমল কৃষ্ণ গুহকে স্মরণ পরিবেশ কর্মসূচির ব্যানারে জাকসুর নাম বাদ, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন পাংশায় নিখোঁজের একদিন পর দুই সন্তানের জননীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ কাল, শপথ শুক্রবার : চিফ হুইপ নওগাঁয় অপ্রত্যাশিত ফল পাওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুপ্রেরণামূলক সমাবেশ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আইনি বাধা নেই: অ্যাটর্নি জেনারেল কোটালীপাড়ায় ইয়াবা সেবনের দায়ে যুবকের দুই মাসের কারাদণ্ড

পরিবেশ কর্মসূচির ব্যানারে জাকসুর নাম বাদ, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

জাবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৪৯:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / 8

 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) উদ্যোগে আয়োজিত পরিবেশবিষয়ক কর্মসূচির ব্যানারে জাকসুর নাম ও লোগো না রাখার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাকসুর পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক।

বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিবেশসংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসনের সহযোগিতা পেতে নানা জটিলতার মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রী হল সংলগ্ন মহাসড়ককে ‘নো হর্ন জোন’ ঘোষণা, বিশ্ববিদ্যালয়ের লেক ও জলাশয় সংস্কার, খনন ও সংরক্ষণ এবং কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তার দাবি, জাকসু ও নেক্সটএরা ফর এনভায়রনমেন্ট, ইকুইটি অ্যান্ড রাইটসের (নির) যৌথ উদ্যোগে পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের পর জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়ন সংস্থার (ইউএনআইডিও) সঙ্গে তাদের সংযোগ করিয়ে দেওয়া হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়কে একক-ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকমুক্ত ক্যাম্পাস ঘোষণা, প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহার, টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ছাত্রী হল সংলগ্ন মহাসড়কে ‘নো হর্ন জোন’ কার্যকর করার বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া যায়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং দ্বিতীয় ধাপে পুরো ক্যাম্পাস থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ, স্থায়ী ও অস্থায়ী বর্জ্য বিন স্থাপন, প্লাস্টিক বর্জ্য কমপ্যাক্ট মেশিন উদ্বোধন এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে একক-ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকমুক্ত ঘোষণার পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

পোস্টে বলা হয়, দ্বিতীয় ধাপের অনুষ্ঠানে নরওয়ের রাষ্ট্রদূতের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। পাশাপাশি পরিবেশগত উদ্যোগে সহযোগিতা ও অর্থায়নের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। তবে অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীকে প্রধান অতিথি করার প্রয়োজন ছিল।

এ জন্য প্রায় দুই মাস ধরে জাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর সময়সূচি দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও সময়মতো তা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন জাকসুর এই সম্পাদক। এ সময়ের মধ্যে ইউএনআইডিও তাদের বরাদ্দ অন্যত্র দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রবের উদ্যোগে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ইউএনআইডিওর সঙ্গে অনলাইন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও টেকসই প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একটি ছোট কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয় বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়। তবে কয়েকদিন পর ট্রেজারারের পরিবর্তন হলে বিষয়টি আবার অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট উপাচার্য তাদের জানান যে ১৮ আগস্ট পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম সময় দিয়েছেন। এরপর দ্রুত অনুষ্ঠানের আয়োজন শুরু হয়। মাত্র একদিনের নোটিশে ইউএনআইডিও প্রথমে অপারগতা প্রকাশ করলেও পরে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করতে সম্মত হয় বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়।

তবে ১৭ আগস্ট রাতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান তাদের জানান, কিছু ‘ইস্যু ও আপত্তি’ থাকায় অনুষ্ঠানের ব্যানারে জাকসুর নাম বা লোগো রাখা যাবে না। সেখানে শুধু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম থাকবে বলে জানানো হয়।

জাকসুর পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক বলেন, এ সময় তারা প্রতিমন্ত্রী না আসা বা অসহযোগিতার মনোভাবের আশঙ্কা করেছিলেন। তবে ৩০০ শিক্ষার্থীর সার্টিফিকেট প্রদান এবং অনুষ্ঠানটির গুরুত্ব বিবেচনায় তারা বিষয়টি মেনে নেন।

অনুষ্ঠানের দিন অতিথি প্যানেলে বক্তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা নিয়েও জটিলতা তৈরি হয় বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়। তার দাবি, ইউএনআইডিওর সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পদধারী ব্যক্তিদের বাইরে রাজনৈতিক দলীয় পরিচয়ের কাউকে তাদের অনুষ্ঠানে বক্তা হিসেবে রাখা হয় না।

এ নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনে ইউএনআইডিও ও জাকসু প্রতিনিধিদের আলোচনা দীর্ঘায়িত হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের অনুষ্ঠান শুরুতে বিলম্ব হয় বলেও তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে জাকসুর পক্ষ থেকে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের কাছে পরিবেশসংক্রান্ত কয়েকটি দাবি স্মারকলিপি আকারে দেওয়া হয়। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল ছাত্রী হল সংলগ্ন মহাসড়কে ‘নো হর্ন জোন’ ঘোষণা ও কার্যকর করা, মহাসড়কের পাশে গ্রিন ব্যারিয়ার নির্মাণ, টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাজেট বরাদ্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরের বর্জ্য ডাম্পিং স্টেশন বন্ধ করে প্রতিদিনের বর্জ্য সিটি করপোরেশনের ডাম্পিং স্টেশনে পাঠানোর ব্যবস্থা করা।

পোস্টে বলা হয়, উপাচার্যও প্রতিমন্ত্রীর কাছে কয়েকটি দাবি পুনরায় তুলে ধরেন। পরে প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের স্বার্থে দাবিগুলো আলোচনা করে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।

জাকসুর পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক বলেন, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের পরিবেশসংক্রান্ত দাবিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাকসু শুরু থেকেই প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ জাকসুর কার্যক্রমে প্রশাসনের ভূমিকা এবং জাকসুর প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “জাকসুর কার্যক্রমে জাকসু কতটুকু স্বাধীন? প্রশাসন কতটুকু নিরপেক্ষ?”

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

পরিবেশ কর্মসূচির ব্যানারে জাকসুর নাম বাদ, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশের সময় : ০৭:৪৯:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) উদ্যোগে আয়োজিত পরিবেশবিষয়ক কর্মসূচির ব্যানারে জাকসুর নাম ও লোগো না রাখার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাকসুর পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক।

বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিবেশসংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসনের সহযোগিতা পেতে নানা জটিলতার মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রী হল সংলগ্ন মহাসড়ককে ‘নো হর্ন জোন’ ঘোষণা, বিশ্ববিদ্যালয়ের লেক ও জলাশয় সংস্কার, খনন ও সংরক্ষণ এবং কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তার দাবি, জাকসু ও নেক্সটএরা ফর এনভায়রনমেন্ট, ইকুইটি অ্যান্ড রাইটসের (নির) যৌথ উদ্যোগে পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের পর জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়ন সংস্থার (ইউএনআইডিও) সঙ্গে তাদের সংযোগ করিয়ে দেওয়া হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়কে একক-ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকমুক্ত ক্যাম্পাস ঘোষণা, প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহার, টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ছাত্রী হল সংলগ্ন মহাসড়কে ‘নো হর্ন জোন’ কার্যকর করার বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া যায়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং দ্বিতীয় ধাপে পুরো ক্যাম্পাস থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ, স্থায়ী ও অস্থায়ী বর্জ্য বিন স্থাপন, প্লাস্টিক বর্জ্য কমপ্যাক্ট মেশিন উদ্বোধন এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে একক-ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকমুক্ত ঘোষণার পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

পোস্টে বলা হয়, দ্বিতীয় ধাপের অনুষ্ঠানে নরওয়ের রাষ্ট্রদূতের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। পাশাপাশি পরিবেশগত উদ্যোগে সহযোগিতা ও অর্থায়নের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। তবে অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীকে প্রধান অতিথি করার প্রয়োজন ছিল।

এ জন্য প্রায় দুই মাস ধরে জাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর সময়সূচি দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও সময়মতো তা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন জাকসুর এই সম্পাদক। এ সময়ের মধ্যে ইউএনআইডিও তাদের বরাদ্দ অন্যত্র দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রবের উদ্যোগে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ইউএনআইডিওর সঙ্গে অনলাইন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও টেকসই প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একটি ছোট কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয় বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়। তবে কয়েকদিন পর ট্রেজারারের পরিবর্তন হলে বিষয়টি আবার অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট উপাচার্য তাদের জানান যে ১৮ আগস্ট পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম সময় দিয়েছেন। এরপর দ্রুত অনুষ্ঠানের আয়োজন শুরু হয়। মাত্র একদিনের নোটিশে ইউএনআইডিও প্রথমে অপারগতা প্রকাশ করলেও পরে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করতে সম্মত হয় বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়।

তবে ১৭ আগস্ট রাতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান তাদের জানান, কিছু ‘ইস্যু ও আপত্তি’ থাকায় অনুষ্ঠানের ব্যানারে জাকসুর নাম বা লোগো রাখা যাবে না। সেখানে শুধু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম থাকবে বলে জানানো হয়।

জাকসুর পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক বলেন, এ সময় তারা প্রতিমন্ত্রী না আসা বা অসহযোগিতার মনোভাবের আশঙ্কা করেছিলেন। তবে ৩০০ শিক্ষার্থীর সার্টিফিকেট প্রদান এবং অনুষ্ঠানটির গুরুত্ব বিবেচনায় তারা বিষয়টি মেনে নেন।

অনুষ্ঠানের দিন অতিথি প্যানেলে বক্তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা নিয়েও জটিলতা তৈরি হয় বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়। তার দাবি, ইউএনআইডিওর সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পদধারী ব্যক্তিদের বাইরে রাজনৈতিক দলীয় পরিচয়ের কাউকে তাদের অনুষ্ঠানে বক্তা হিসেবে রাখা হয় না।

এ নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনে ইউএনআইডিও ও জাকসু প্রতিনিধিদের আলোচনা দীর্ঘায়িত হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের অনুষ্ঠান শুরুতে বিলম্ব হয় বলেও তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে জাকসুর পক্ষ থেকে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের কাছে পরিবেশসংক্রান্ত কয়েকটি দাবি স্মারকলিপি আকারে দেওয়া হয়। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল ছাত্রী হল সংলগ্ন মহাসড়কে ‘নো হর্ন জোন’ ঘোষণা ও কার্যকর করা, মহাসড়কের পাশে গ্রিন ব্যারিয়ার নির্মাণ, টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাজেট বরাদ্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরের বর্জ্য ডাম্পিং স্টেশন বন্ধ করে প্রতিদিনের বর্জ্য সিটি করপোরেশনের ডাম্পিং স্টেশনে পাঠানোর ব্যবস্থা করা।

পোস্টে বলা হয়, উপাচার্যও প্রতিমন্ত্রীর কাছে কয়েকটি দাবি পুনরায় তুলে ধরেন। পরে প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের স্বার্থে দাবিগুলো আলোচনা করে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।

জাকসুর পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক বলেন, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের পরিবেশসংক্রান্ত দাবিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাকসু শুরু থেকেই প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ জাকসুর কার্যক্রমে প্রশাসনের ভূমিকা এবং জাকসুর প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “জাকসুর কার্যক্রমে জাকসু কতটুকু স্বাধীন? প্রশাসন কতটুকু নিরপেক্ষ?”