Dhaka ০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আইনের মুখোমুখি হতে হবে: রাশেদ খান ছাত্রদলের হামলায় চোয়াল ভেঙেছে জবি শিক্ষার্থীর, অস্ত্রোপচারের পরও কথা বলতে পারছেন না গ্রিস উপকূলে দুই শতাধিক অভিবাসী উদ্ধার, অধিকাংশই বাংলাদেশি ১০ লাখে কিডনি বিক্রির পর দিনমজুর পেলেন মাত্র ৫০ হাজার টাকা ‘এরকম এতিম দশায় ওপেন হইলো কেন’, জুলাই জাদুঘর নিয়ে প্রশ্ন ফারুকীর সাকিবকে দেশে ফেরানো নিয়ে আগের অবস্থান থেকে সরে গেলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক করল পুলিশ ওয়েব সিরিজ দেখে স্ত্রীকে হত্যা, টাকাপয়সা নিয়ে চম্পট প্রযুক্তিবিদের নওগাঁয় মাছের সাথে শত্রুতা, ৮ লাখ টাকার ক্ষতি শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে জাবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ককে শোকজ

জাল দলিল লেখার অভিযোগে কোটালীপাড়ায় দুই দলিল লেখক সাময়িক বহিষ্কার

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় : ০৩:০৬:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / 196

 

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে দলিল রেজিস্ট্রির অভিযোগে দুই দলিল লেখককে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে।

সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত দুই দলিল লেখক হলেন উপজেলার বংকুরা গ্রামের মৃত নেহাল উদ্দিনের ছেলে নাসির উদ্দিন শেখ এবং কাঠি গ্রামের মৃত শহীদুল শরীফের ছেলে মিজানুর রহমান বুলবুল শরীফ।

মঙ্গলবার উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নূরে তোজাম্মেল হোসেন এ আদেশ দেন। নোটিশে তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি কোটালীপাড়া সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে নাসির উদ্দিন শেখ ও মিজানুর রহমান বুলবুলসহ কয়েকজন দলিল লেখকের বিরুদ্ধে জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে দলিল রেজিস্ট্রির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর ওই দুই দলিল লেখককে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়।

বহিষ্কৃত দলিল লেখক মিজানুর রহমান বুলবুল দাবি করেন, গত ১৫ জুলাই উনশিয়া গ্রামের মৃত ফহম মিয়ার স্ত্রী আমেনা বেগম দলিল ও পর্চার কাগজপত্র নিয়ে তার কাছে আসেন। তিনি নিয়ম মেনে কাগজপত্র সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দেন এবং তা যাচাই-বাছাই শেষে দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, আমেনা বেগম জাল কাগজপত্র ব্যবহার করেছেন। এ ঘটনায় তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনি নোটিশের লিখিত জবাবও দিয়েছেন বলে জানান।

অপর বহিষ্কৃত দলিল লেখক নাসির উদ্দিন শেখ বলেন, কয়েক দিন আগে একটি দলিল রেজিস্ট্রির জন্য তিনি কাগজপত্র জমা দেন। পরে কাগজপত্র জাল বলে অভিযোগ এনে তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তিনিও নোটিশের জবাব জমা দিয়েছেন বলে দাবি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আমেনা বেগমের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ও দলিল লেখক অভিযোগ করেন, কোটালীপাড়া সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের কয়েকজন দলিল লেখক দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে জাল দলিল তৈরি করে আসছেন। এ কাজে অফিসের একটি চক্রও জড়িত বলে তাদের দাবি। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে স্থায়ী ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নূরে তোজাম্মেল হোসেন বলেন, দলিল রেজিস্ট্রির সময় জাল কাগজপত্র উপস্থাপনের অভিযোগে নাসির উদ্দিন শেখ ও মিজানুর রহমান বুলবুলকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

জাল দলিল লেখার অভিযোগে কোটালীপাড়ায় দুই দলিল লেখক সাময়িক বহিষ্কার

প্রকাশের সময় : ০৩:০৬:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

 

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে দলিল রেজিস্ট্রির অভিযোগে দুই দলিল লেখককে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে।

সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত দুই দলিল লেখক হলেন উপজেলার বংকুরা গ্রামের মৃত নেহাল উদ্দিনের ছেলে নাসির উদ্দিন শেখ এবং কাঠি গ্রামের মৃত শহীদুল শরীফের ছেলে মিজানুর রহমান বুলবুল শরীফ।

মঙ্গলবার উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নূরে তোজাম্মেল হোসেন এ আদেশ দেন। নোটিশে তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি কোটালীপাড়া সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে নাসির উদ্দিন শেখ ও মিজানুর রহমান বুলবুলসহ কয়েকজন দলিল লেখকের বিরুদ্ধে জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে দলিল রেজিস্ট্রির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর ওই দুই দলিল লেখককে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়।

বহিষ্কৃত দলিল লেখক মিজানুর রহমান বুলবুল দাবি করেন, গত ১৫ জুলাই উনশিয়া গ্রামের মৃত ফহম মিয়ার স্ত্রী আমেনা বেগম দলিল ও পর্চার কাগজপত্র নিয়ে তার কাছে আসেন। তিনি নিয়ম মেনে কাগজপত্র সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দেন এবং তা যাচাই-বাছাই শেষে দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, আমেনা বেগম জাল কাগজপত্র ব্যবহার করেছেন। এ ঘটনায় তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনি নোটিশের লিখিত জবাবও দিয়েছেন বলে জানান।

অপর বহিষ্কৃত দলিল লেখক নাসির উদ্দিন শেখ বলেন, কয়েক দিন আগে একটি দলিল রেজিস্ট্রির জন্য তিনি কাগজপত্র জমা দেন। পরে কাগজপত্র জাল বলে অভিযোগ এনে তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তিনিও নোটিশের জবাব জমা দিয়েছেন বলে দাবি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আমেনা বেগমের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ও দলিল লেখক অভিযোগ করেন, কোটালীপাড়া সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের কয়েকজন দলিল লেখক দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে জাল দলিল তৈরি করে আসছেন। এ কাজে অফিসের একটি চক্রও জড়িত বলে তাদের দাবি। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে স্থায়ী ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নূরে তোজাম্মেল হোসেন বলেন, দলিল রেজিস্ট্রির সময় জাল কাগজপত্র উপস্থাপনের অভিযোগে নাসির উদ্দিন শেখ ও মিজানুর রহমান বুলবুলকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।