Dhaka ০৭:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
নওগাঁয় অপ্রত্যাশিত ফল পাওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুপ্রেরণামূলক সমাবেশ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আইনি বাধা নেই: অ্যাটর্নি জেনারেল কোটালীপাড়ায় ইয়াবা সেবনের দায়ে যুবকের দুই মাসের কারাদণ্ড আত্রাইয়ে সরকারি গাছ কাটতে গিয়ে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা কালুখালীর মদাপুর ইউনিয়নের নতুন প্রশাসক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কালুখালীর সাওরাইল ইউনিয়নে নদী ভাঙ্গন রোধে জিও ব্যাগ কর্মসূচির উদ্বোধন কলকাতায় হোটেলে আগুনে স্ত্রী-সন্তান-শ্বশুরসহ সাংবাদিক নিহত, বাড়ি কুষ্টিয়া কলকাতার হোটেলে নিহতদের মধ্যে ৫ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত পাংশায় চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, পরিবারের দাবি ‘পরিকল্পিত হত্যা’ গোপালগঞ্জে ৬৪ হাজার ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

নওগাঁয় অপ্রত্যাশিত ফল পাওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুপ্রেরণামূলক সমাবেশ

খোরশেদ আলম, নওগাঁ
  • প্রকাশের সময় : ০৬:০৩:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / 10

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অপ্রত্যাশিত ফলাফল পাওয়া শিক্ষার্থীদের মানসিক শক্তি বৃদ্ধি ও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে নওগাঁয় শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুপ্রেরণামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

আয়োজকরা জানান, পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের হতাশা কাটিয়ে নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার সাহস ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

সমাবেশে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহাদৎ হোসেন, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. মুনির আলী আকন্দ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীন মাহমুদ, পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম, নওগাঁ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. রাবেয়া খাতুন, অভিভাবক মিনানুর রহমান মিনু এবং শিক্ষার্থী লাবনী আক্তার।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আয়শা সিদ্দিকা, জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বক্তারা নিজেদের জীবনের সফলতা ও ব্যর্থতার বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, পুরো জীবনই একটি সফলতার গল্প। যারা হেরে গিয়ে আবার নতুন করে জীবন সাজানোর চেষ্টা করেন, তারা কখনোই প্রকৃত অর্থে হেরে যান না। এসএসসিতে খারাপ ফলাফল হয়েছে মানেই ভবিষ্যতে ভালো কিছু করা সম্ভব নয়—এমন চিন্তা থেকে শিক্ষার্থীদের বেরিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, জীবনের প্রতিটি দিনই নতুন করে সফল হওয়ার সুযোগ। তাই ব্যর্থতায় ভেঙে না পড়ে আগামীতে আরও ভালো ফলাফল করার শক্তি ও সাহস ধারণ করতে হবে। বিশ্বের অনেক বিখ্যাত মানুষ জীবনে ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন অনুপ্রেরণায় নিজেদের জীবন সাজিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নিজের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রেখে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। জীবনে প্রত্যাশিত সবকিছু একসঙ্গে পাওয়া সম্ভব নয়। যারা আজ প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি, তারাই আগামী দিনে অনেক ভালো কিছু করার ক্ষমতা রাখে।

তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আরও যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আজ সন্তান ভালো ফল করতে পারেনি বলে ভবিষ্যতে সে ভালো কিছু করতে পারবে না—এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। বরং ব্যর্থতার পর সন্তানকে উৎসাহ ও সাহস দিয়ে নতুন করে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, বিশ্বের অনেক সফল ও অর্থশালী মানুষ জীবনের শুরুতে ছোট ছোট কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাদের সফলতার পেছনে ছিল দৃঢ় মনোবল ও কঠোর পরিশ্রম। তাই ভালো ফলাফল না হওয়ায় ভেঙে পড়ে হাল ছেড়ে দেওয়া মানেই নিজেকে পরাজিত করা। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও সহপাঠীদের পারস্পরিক উৎসাহ ও অনুপ্রেরণার মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

অনুষ্ঠান শেষে র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২০ জন শিক্ষার্থীকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরস্কার দেওয়া হয়।

আয়োজকরা জানান, চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নওগাঁর সাতটি উপজেলার মোট ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাধ্যমিক, মাদরাসা ও কারিগরি—এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিওভুক্ত উভয় ধরনের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শিক্ষার্থীদের এমন ফলাফল থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে।

খোরশেদ আলম, নওগাঁ প্রতিনিধি

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অপ্রত্যাশিত ফলাফল পাওয়া শিক্ষার্থীদের মানসিক শক্তি বৃদ্ধি ও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে নওগাঁয় শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুপ্রেরণামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

আয়োজকরা জানান, পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের হতাশা কাটিয়ে নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার সাহস ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

সমাবেশে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহাদৎ হোসেন, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. মুনির আলী আকন্দ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীন মাহমুদ, পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম, নওগাঁ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. রাবেয়া খাতুন, অভিভাবক মিনানুর রহমান মিনু এবং শিক্ষার্থী লাবনী আক্তার।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আয়শা সিদ্দিকা, জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বক্তারা নিজেদের জীবনের সফলতা ও ব্যর্থতার বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, পুরো জীবনই একটি সফলতার গল্প। যারা হেরে গিয়ে আবার নতুন করে জীবন সাজানোর চেষ্টা করেন, তারা কখনোই প্রকৃত অর্থে হেরে যান না। এসএসসিতে খারাপ ফলাফল হয়েছে মানেই ভবিষ্যতে ভালো কিছু করা সম্ভব নয়—এমন চিন্তা থেকে শিক্ষার্থীদের বেরিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, জীবনের প্রতিটি দিনই নতুন করে সফল হওয়ার সুযোগ। তাই ব্যর্থতায় ভেঙে না পড়ে আগামীতে আরও ভালো ফলাফল করার শক্তি ও সাহস ধারণ করতে হবে। বিশ্বের অনেক বিখ্যাত মানুষ জীবনে ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন অনুপ্রেরণায় নিজেদের জীবন সাজিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নিজের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রেখে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। জীবনে প্রত্যাশিত সবকিছু একসঙ্গে পাওয়া সম্ভব নয়। যারা আজ প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি, তারাই আগামী দিনে অনেক ভালো কিছু করার ক্ষমতা রাখে।

তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আরও যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আজ সন্তান ভালো ফল করতে পারেনি বলে ভবিষ্যতে সে ভালো কিছু করতে পারবে না—এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। বরং ব্যর্থতার পর সন্তানকে উৎসাহ ও সাহস দিয়ে নতুন করে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, বিশ্বের অনেক সফল ও অর্থশালী মানুষ জীবনের শুরুতে ছোট ছোট কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাদের সফলতার পেছনে ছিল দৃঢ় মনোবল ও কঠোর পরিশ্রম। তাই ভালো ফলাফল না হওয়ায় ভেঙে পড়ে হাল ছেড়ে দেওয়া মানেই নিজেকে পরাজিত করা। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও সহপাঠীদের পারস্পরিক উৎসাহ ও অনুপ্রেরণার মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

অনুষ্ঠান শেষে র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২০ জন শিক্ষার্থীকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরস্কার দেওয়া হয়।

আয়োজকরা জানান, চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নওগাঁর সাতটি উপজেলার মোট ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাধ্যমিক, মাদরাসা ও কারিগরি—এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিওভুক্ত উভয় ধরনের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শিক্ষার্থীদের এমন ফলাফল থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

নওগাঁয় অপ্রত্যাশিত ফল পাওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুপ্রেরণামূলক সমাবেশ

প্রকাশের সময় : ০৬:০৩:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অপ্রত্যাশিত ফলাফল পাওয়া শিক্ষার্থীদের মানসিক শক্তি বৃদ্ধি ও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে নওগাঁয় শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুপ্রেরণামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

আয়োজকরা জানান, পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের হতাশা কাটিয়ে নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার সাহস ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

সমাবেশে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহাদৎ হোসেন, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. মুনির আলী আকন্দ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীন মাহমুদ, পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম, নওগাঁ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. রাবেয়া খাতুন, অভিভাবক মিনানুর রহমান মিনু এবং শিক্ষার্থী লাবনী আক্তার।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আয়শা সিদ্দিকা, জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বক্তারা নিজেদের জীবনের সফলতা ও ব্যর্থতার বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, পুরো জীবনই একটি সফলতার গল্প। যারা হেরে গিয়ে আবার নতুন করে জীবন সাজানোর চেষ্টা করেন, তারা কখনোই প্রকৃত অর্থে হেরে যান না। এসএসসিতে খারাপ ফলাফল হয়েছে মানেই ভবিষ্যতে ভালো কিছু করা সম্ভব নয়—এমন চিন্তা থেকে শিক্ষার্থীদের বেরিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, জীবনের প্রতিটি দিনই নতুন করে সফল হওয়ার সুযোগ। তাই ব্যর্থতায় ভেঙে না পড়ে আগামীতে আরও ভালো ফলাফল করার শক্তি ও সাহস ধারণ করতে হবে। বিশ্বের অনেক বিখ্যাত মানুষ জীবনে ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন অনুপ্রেরণায় নিজেদের জীবন সাজিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নিজের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রেখে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। জীবনে প্রত্যাশিত সবকিছু একসঙ্গে পাওয়া সম্ভব নয়। যারা আজ প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি, তারাই আগামী দিনে অনেক ভালো কিছু করার ক্ষমতা রাখে।

তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আরও যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আজ সন্তান ভালো ফল করতে পারেনি বলে ভবিষ্যতে সে ভালো কিছু করতে পারবে না—এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। বরং ব্যর্থতার পর সন্তানকে উৎসাহ ও সাহস দিয়ে নতুন করে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, বিশ্বের অনেক সফল ও অর্থশালী মানুষ জীবনের শুরুতে ছোট ছোট কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাদের সফলতার পেছনে ছিল দৃঢ় মনোবল ও কঠোর পরিশ্রম। তাই ভালো ফলাফল না হওয়ায় ভেঙে পড়ে হাল ছেড়ে দেওয়া মানেই নিজেকে পরাজিত করা। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও সহপাঠীদের পারস্পরিক উৎসাহ ও অনুপ্রেরণার মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

অনুষ্ঠান শেষে র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২০ জন শিক্ষার্থীকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরস্কার দেওয়া হয়।

আয়োজকরা জানান, চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নওগাঁর সাতটি উপজেলার মোট ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাধ্যমিক, মাদরাসা ও কারিগরি—এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিওভুক্ত উভয় ধরনের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শিক্ষার্থীদের এমন ফলাফল থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে।

খোরশেদ আলম, নওগাঁ প্রতিনিধি

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অপ্রত্যাশিত ফলাফল পাওয়া শিক্ষার্থীদের মানসিক শক্তি বৃদ্ধি ও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে নওগাঁয় শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুপ্রেরণামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

আয়োজকরা জানান, পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের হতাশা কাটিয়ে নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার সাহস ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

সমাবেশে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহাদৎ হোসেন, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. মুনির আলী আকন্দ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীন মাহমুদ, পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম, নওগাঁ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. রাবেয়া খাতুন, অভিভাবক মিনানুর রহমান মিনু এবং শিক্ষার্থী লাবনী আক্তার।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আয়শা সিদ্দিকা, জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বক্তারা নিজেদের জীবনের সফলতা ও ব্যর্থতার বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, পুরো জীবনই একটি সফলতার গল্প। যারা হেরে গিয়ে আবার নতুন করে জীবন সাজানোর চেষ্টা করেন, তারা কখনোই প্রকৃত অর্থে হেরে যান না। এসএসসিতে খারাপ ফলাফল হয়েছে মানেই ভবিষ্যতে ভালো কিছু করা সম্ভব নয়—এমন চিন্তা থেকে শিক্ষার্থীদের বেরিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, জীবনের প্রতিটি দিনই নতুন করে সফল হওয়ার সুযোগ। তাই ব্যর্থতায় ভেঙে না পড়ে আগামীতে আরও ভালো ফলাফল করার শক্তি ও সাহস ধারণ করতে হবে। বিশ্বের অনেক বিখ্যাত মানুষ জীবনে ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন অনুপ্রেরণায় নিজেদের জীবন সাজিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নিজের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রেখে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। জীবনে প্রত্যাশিত সবকিছু একসঙ্গে পাওয়া সম্ভব নয়। যারা আজ প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি, তারাই আগামী দিনে অনেক ভালো কিছু করার ক্ষমতা রাখে।

তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আরও যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আজ সন্তান ভালো ফল করতে পারেনি বলে ভবিষ্যতে সে ভালো কিছু করতে পারবে না—এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। বরং ব্যর্থতার পর সন্তানকে উৎসাহ ও সাহস দিয়ে নতুন করে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, বিশ্বের অনেক সফল ও অর্থশালী মানুষ জীবনের শুরুতে ছোট ছোট কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাদের সফলতার পেছনে ছিল দৃঢ় মনোবল ও কঠোর পরিশ্রম। তাই ভালো ফলাফল না হওয়ায় ভেঙে পড়ে হাল ছেড়ে দেওয়া মানেই নিজেকে পরাজিত করা। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও সহপাঠীদের পারস্পরিক উৎসাহ ও অনুপ্রেরণার মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

অনুষ্ঠান শেষে র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২০ জন শিক্ষার্থীকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরস্কার দেওয়া হয়।

আয়োজকরা জানান, চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নওগাঁর সাতটি উপজেলার মোট ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাধ্যমিক, মাদরাসা ও কারিগরি—এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিওভুক্ত উভয় ধরনের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শিক্ষার্থীদের এমন ফলাফল থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে।