বাঁশের বেড়ায় বন্ধ শিক্ষার্থীদের চলাচলের রাস্তা, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ
- প্রকাশের সময় : ০৪:৫০:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
- / 10
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার পিঞ্জরী ইউনিয়নের কাশাতলী গ্রাম থেকে গোয়ালংক গ্রামের সংযোগ সড়কে বাঁশের বেড়া দিয়ে পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে একটি মহিলা মাদ্রাসা, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষকসহ হাজারো গ্রামবাসীর চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত এ পথটি হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের অনেক দূর ঘুরে বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় যেতে হচ্ছে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিতিও কমে গেছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াতও ব্যাহত হচ্ছে।
গোয়ালংক হালিমাতুস সাদিয়া (রা.) মহিলা মাদ্রাসার পরিচালক মো. আব্দুর রহমান বলেন, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার সময় সেখানে একটি বাঁশের সাঁকো ছিল। পরে সরকার সেখানে সেতু নির্মাণ করে। এরপর থেকেই মাদ্রাসার ছাত্রী, গোয়ালংক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা এ পথ ব্যবহার করে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি কাশাতলী গ্রামের আব্দুর ছত্তার ঘরামী, আক্তার ঘরামী ও মোক্তার ঘরামী বাঁশের বেড়া দিয়ে রাস্তার মুখ বন্ধ করে দিয়েছেন। কেন এমন করা হয়েছে, তা তারা জানেন না। এতে মাদ্রাসা ও বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে গেছে। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত সমাধানের জন্য উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
১৫৮ নম্বর গোয়ালংক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসাম্মদ আসমা আক্তার বলেন, রাস্তা বন্ধ হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করার কথাও জানিয়েছেন।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী পিনাকী বাড়ৈ ও ইভা খানম এবং দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা খানম জানায়, রাস্তা বন্ধ থাকায় তাদের অনেক দূর ঘুরে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে। এতে প্রায়ই সময়মতো ক্লাসে পৌঁছাতে পারছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা ছোলায়মান হোসেন ঘরামী ও আব্দুল ছালাম ঘরামী বলেন, এটি দীর্ঘদিনের জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা। দ্রুত এটি উন্মুক্ত করার দাবি জানান তারা।
অভিযোগের বিষয়ে মোক্তার ঘরামী বলেন, জমিটি তাদের রেকর্ডভুক্ত। প্রায়ই গবাদিপশু জমিতে ঢুকে ফসলের ক্ষতি করায় সাময়িকভাবে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে। রাস্তা পুকুরের দক্ষিণ দিকে সরিয়ে নেওয়ার পর আগের মতো সবাই চলাচল করতে পারবেন।
এ বিষয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক বলেন, শিক্ষার্থীদের চলাচলের পথে কেউ বাধা সৃষ্টি করে থাকলে তিনি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।





















