Dhaka ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
বৈদেশিক ঋণ এখন জাতির ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে: প্রধানমন্ত্রী বাঁশের বেড়ায় বন্ধ শিক্ষার্থীদের চলাচলের রাস্তা, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএন লাগবে না নওগাঁয় যানজট নিরসনে পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে এসপির মতবিনিময় নতুন পে-স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা, ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে পারে মূল বেতন কালীগঞ্জ পৌরসভার ৫১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বালিয়াকান্দি সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ভেনেজুয়েলার পাশে নেইমার নওগাঁ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১৪৩ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল উদ্ধার সোনার দাম ভরিতে কমলো ৩ হাজার ২৬৬ টাকা

নতুন পে-স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা, ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে পারে মূল বেতন

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৪:২৪:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • / 14

সরকারি কর্মচারীদের বহুল প্রত্যাশিত নবম পে-স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন বেতনকাঠামোর মূল বেতন কার্যকর হতে পারে। তবে নতুন ভাতা কার্যকর হবে ২০২৭-২৮ অর্থবছরের শুরু থেকে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বেতন বৃদ্ধির হারও নবম বেতন কমিশনের সুপারিশের তুলনায় কিছুটা কমানো হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুরুতে বাস্তবায়ন কমিটি তিন ধাপে নতুন পে-স্কেল কার্যকরের সুপারিশ করেছিল। ওই প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কমিশনের সুপারিশকৃত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ, ২০২৭ সালের ১ জুলাই বাকি ৫০ শতাংশ এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন ভাতা কার্যকর করার কথা ছিল।

তবে এ প্রস্তাব নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে আপত্তি ওঠে। অনেকের ক্ষেত্রে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের কারণে বর্তমান মূল বেতন এমন অবস্থায় রয়েছে যে নতুন বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর হলেও প্রকৃত বেতন বৃদ্ধি খুবই সামান্য হতো। এমনকি কারও কারও মোট বেতন কমে যাওয়ার আশঙ্কাও দেখা দেয়।

এ পরিস্থিতিতে বাস্তবায়ন কমিটি পরিকল্পনা পরিবর্তন করে দুই ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ করছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন মূল বেতন এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরের শুরু থেকে নতুন ভাতা কার্যকর করা হবে।

এ বিষয়ে সাবেক অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা থাকলে এক ধাপেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা যেত। তবে তিন ধাপের পরিবর্তে দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হলে সেটিও ইতিবাচক হবে। একই সঙ্গে তিনি সরকারি কর্মচারীদের রাজস্ব আহরণে আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

এর আগে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঘোষণা দেন, নতুন অর্থবছর থেকেই সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতনকাঠামোয় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থসচিব, জনপ্রশাসনসচিব, আইনসচিব, প্রতিরক্ষাসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষাসচিব, স্বাস্থ্যসেবাসচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক রয়েছেন।

সূত্র জানায়, বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং সশস্ত্র বাহিনীর পৃথক বেতনকাঠামো সম্পর্কিত প্রতিবেদনও প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এখন সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষা।

বর্তমানে অষ্টম বেতনকাঠামোয় সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা। নবম বেতন কমিশন সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে। কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, এ সুপারিশ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

নতুন পে-স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা, ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে পারে মূল বেতন

প্রকাশের সময় : ০৪:২৪:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

সরকারি কর্মচারীদের বহুল প্রত্যাশিত নবম পে-স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন বেতনকাঠামোর মূল বেতন কার্যকর হতে পারে। তবে নতুন ভাতা কার্যকর হবে ২০২৭-২৮ অর্থবছরের শুরু থেকে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বেতন বৃদ্ধির হারও নবম বেতন কমিশনের সুপারিশের তুলনায় কিছুটা কমানো হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুরুতে বাস্তবায়ন কমিটি তিন ধাপে নতুন পে-স্কেল কার্যকরের সুপারিশ করেছিল। ওই প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কমিশনের সুপারিশকৃত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ, ২০২৭ সালের ১ জুলাই বাকি ৫০ শতাংশ এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন ভাতা কার্যকর করার কথা ছিল।

তবে এ প্রস্তাব নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে আপত্তি ওঠে। অনেকের ক্ষেত্রে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের কারণে বর্তমান মূল বেতন এমন অবস্থায় রয়েছে যে নতুন বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর হলেও প্রকৃত বেতন বৃদ্ধি খুবই সামান্য হতো। এমনকি কারও কারও মোট বেতন কমে যাওয়ার আশঙ্কাও দেখা দেয়।

এ পরিস্থিতিতে বাস্তবায়ন কমিটি পরিকল্পনা পরিবর্তন করে দুই ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ করছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন মূল বেতন এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরের শুরু থেকে নতুন ভাতা কার্যকর করা হবে।

এ বিষয়ে সাবেক অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা থাকলে এক ধাপেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা যেত। তবে তিন ধাপের পরিবর্তে দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হলে সেটিও ইতিবাচক হবে। একই সঙ্গে তিনি সরকারি কর্মচারীদের রাজস্ব আহরণে আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

এর আগে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঘোষণা দেন, নতুন অর্থবছর থেকেই সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতনকাঠামোয় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থসচিব, জনপ্রশাসনসচিব, আইনসচিব, প্রতিরক্ষাসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষাসচিব, স্বাস্থ্যসেবাসচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক রয়েছেন।

সূত্র জানায়, বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং সশস্ত্র বাহিনীর পৃথক বেতনকাঠামো সম্পর্কিত প্রতিবেদনও প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এখন সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষা।

বর্তমানে অষ্টম বেতনকাঠামোয় সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা। নবম বেতন কমিশন সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে। কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, এ সুপারিশ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।