আবাসিক হোটেলে সাবেক ইউপি সদস্যের মৃত্যুর কারণ জানালেন সেই নারী
- প্রকাশের সময় : ০৭:২৭:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
- / 14
বগুড়া শহরের একটি আবাসিক হোটেলে সাবেক ইউপি সদস্য বিপুল চন্দ্র পালের (৪৮) মৃত্যুর ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা মোর্শেদা বেগম নামে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী দাবি করেছেন, হোটেল কক্ষে অবস্থানকালে বিপুল চন্দ্র পাল অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে মারা যান।
রোববার (৮ জুন) ঠাকুরগাঁও শহরের একটি আবাসিক হোটেল থেকে মোর্শেদা বেগমকে আটক করে বগুড়া সদর থানা-পুলিশ।
এর আগে শনিবার দুপুরে বগুড়া শহরের সেঞ্চুরি হোটেলের ৬১০ নম্বর কক্ষ থেকে বিপুল চন্দ্র পালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার একজন সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিপুল চন্দ্র পালের সঙ্গে এক নারী হোটেল কক্ষে প্রবেশ করেছিলেন। তবে মরদেহ উদ্ধারের সময় ওই নারীকে সেখানে পাওয়া যায়নি। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে শনাক্ত করে আটক করা হয়।
বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে মোর্শেদা বেগম নিজেকে বিপুল চন্দ্র পালের দীর্ঘদিনের পরিচিত ও ঘনিষ্ঠজন বলে দাবি করেছেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মোর্শেদা বেগম জানিয়েছেন, ঘটনার দিন হোটেল কক্ষে অবস্থানকালে বিপুল চন্দ্র পাল অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তার মৃত্যু হলে আতঙ্কিত হয়ে তিনি হোটেল ত্যাগ করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোর্শেদা বেগম দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আরও জানান, প্রায় ছয় বছর ধরে বিপুল চন্দ্র পালের সঙ্গে তার পরিচয় ও সম্পর্ক ছিল এবং তারা বিভিন্ন সময় একসঙ্গে দেখা করতেন।
হোটেল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে বিপুল চন্দ্র পাল এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে হোটেলে ওঠেন। পরদিন নির্ধারিত সময়ে কক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ কক্ষের দরজা খুলে তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পায়। ঘটনাস্থল থেকে কিছু ওষুধ, কোমল পানীয় ও পানির বোতল উদ্ধার করা হয়।
এদিকে নিহতের স্ত্রী লিপি রানী পাল অভিযোগ করেছেন, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পরিদর্শক মাহফুজ আলম বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় বর্তমানে একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।





















