Dhaka ০৯:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
সাপাহারে সীমান্ত এলাকায় সম্প্রীতি ও শান্তি বজায় রাখতে মতবিনিময় সভা পত্রিকার কাগজে চপ-পেঁয়াজু, সুস্বাদের আড়ালে স্বাস্থ্যঝুঁকি ১২ দিনে নিখোঁজ ৫ মাদরাসা ছাত্র, উদ্বেগে অভিভাবকরা দেশের সব দোকানপাট খোলার সময় বৃদ্ধি চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ব্যবসায়ীদের চিঠি পাল্টাপাল্টি হামলা স্থগিতের ঘোষণা ইরান-ইসরায়েলের: রিপোর্ট এসির তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রির নিচে যায় না কেন? জেনে নিন প্রযুক্তিগত কারণ বালিয়াকান্দিতে তাঁতবস্ত্র ও কুটির শিল্প বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন আবাসিক হোটেলে সাবেক ইউপি সদস্যের মৃত্যুর কারণ জানালেন সেই নারী স্থগিত থাকছে বদির জামিন ঝিনাইদহে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, এলাকায় চাঞ্চল্য

এসির তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রির নিচে যায় না কেন? জেনে নিন প্রযুক্তিগত কারণ

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৮:১১:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • / 22

তীব্র গরমে ঘরে ফিরে এয়ার কন্ডিশনার (এসি) চালানোর পর অনেকেই দ্রুত ঠান্ডা পেতে তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে দেন। কিন্তু প্রায় সব এসিতেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সাধারণত ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামানো যায় না। এর পেছনে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাজনিত কারণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসির মূল কাজ হলো ঘরের গরম বাতাস শোষণ করে ঠান্ডা বাতাস সরবরাহ করা। এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইভ্যাপোরেটর, যা রেফ্রিজারেন্ট বা কুল্যান্টের মাধ্যমে ঠান্ডা হয়ে বাতাসকে শীতল করে।

যদি এসির তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রির নিচে নামানোর সুযোগ দেওয়া হতো, তাহলে ইভ্যাপোরেটরের ভেতরে অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে বরফ জমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকত। এতে বাতাসের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতো এবং কুলিং সিস্টেম কার্যকরভাবে কাজ করতে পারত না। ফলে ঘর ঠান্ডা হওয়ার বদলে এসির ভেতরেই বরফ জমে যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতো।

এই ঝুঁকি এড়াতে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তা ও কার্যক্ষমতার কথা বিবেচনায় রেখে এসির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস নির্ধারণ করে দিয়েছে।

অন্যদিকে, এসির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সাধারণত ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে। কারণ ২৪ থেকে ৩০ ডিগ্রির মধ্যে মানুষ স্বাভাবিকভাবে আরামদায়ক অনুভব করে। এর বেশি তাপমাত্রা দিলে কুলিং প্রভাব কার্যত কমে যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে এসি ঠিকভাবে কাজ করে না।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং কার্যকর কুলিংয়ের জন্য এসির আদর্শ তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই রেঞ্জে ঘর যেমন আরামদায়ক থাকে, তেমনি বিদ্যুৎ খরচও তুলনামূলক কম হয়।

সব মিলিয়ে, এসির তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রির নিচে না নামার বিষয়টি কোনো সীমাবদ্ধতা নয়; বরং এটি যন্ত্রের নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী কার্যকারিতা নিশ্চিত করার একটি প্রযুক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

এসির তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রির নিচে যায় না কেন? জেনে নিন প্রযুক্তিগত কারণ

প্রকাশের সময় : ০৮:১১:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

তীব্র গরমে ঘরে ফিরে এয়ার কন্ডিশনার (এসি) চালানোর পর অনেকেই দ্রুত ঠান্ডা পেতে তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে দেন। কিন্তু প্রায় সব এসিতেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সাধারণত ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামানো যায় না। এর পেছনে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাজনিত কারণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসির মূল কাজ হলো ঘরের গরম বাতাস শোষণ করে ঠান্ডা বাতাস সরবরাহ করা। এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইভ্যাপোরেটর, যা রেফ্রিজারেন্ট বা কুল্যান্টের মাধ্যমে ঠান্ডা হয়ে বাতাসকে শীতল করে।

যদি এসির তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রির নিচে নামানোর সুযোগ দেওয়া হতো, তাহলে ইভ্যাপোরেটরের ভেতরে অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে বরফ জমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকত। এতে বাতাসের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতো এবং কুলিং সিস্টেম কার্যকরভাবে কাজ করতে পারত না। ফলে ঘর ঠান্ডা হওয়ার বদলে এসির ভেতরেই বরফ জমে যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতো।

এই ঝুঁকি এড়াতে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তা ও কার্যক্ষমতার কথা বিবেচনায় রেখে এসির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস নির্ধারণ করে দিয়েছে।

অন্যদিকে, এসির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সাধারণত ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে। কারণ ২৪ থেকে ৩০ ডিগ্রির মধ্যে মানুষ স্বাভাবিকভাবে আরামদায়ক অনুভব করে। এর বেশি তাপমাত্রা দিলে কুলিং প্রভাব কার্যত কমে যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে এসি ঠিকভাবে কাজ করে না।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং কার্যকর কুলিংয়ের জন্য এসির আদর্শ তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই রেঞ্জে ঘর যেমন আরামদায়ক থাকে, তেমনি বিদ্যুৎ খরচও তুলনামূলক কম হয়।

সব মিলিয়ে, এসির তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রির নিচে না নামার বিষয়টি কোনো সীমাবদ্ধতা নয়; বরং এটি যন্ত্রের নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী কার্যকারিতা নিশ্চিত করার একটি প্রযুক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা।