Dhaka ১০:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
১৪ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য সরকারের: প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ‘ওজু শেখানোর’ নাম করে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, ধর্মীয় শিক্ষক কারাগারে সংশোধিত হচ্ছে সাইবার আইন, গুজব-মানহানিতে থাকবে কঠোর শাস্তি সাপাহারে সীমান্ত এলাকায় সম্প্রীতি ও শান্তি বজায় রাখতে মতবিনিময় সভা পত্রিকার কাগজে চপ-পেঁয়াজু, সুস্বাদের আড়ালে স্বাস্থ্যঝুঁকি ১২ দিনে নিখোঁজ ৫ মাদরাসা ছাত্র, উদ্বেগে অভিভাবকরা দেশের সব দোকানপাট খোলার সময় বৃদ্ধি চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ব্যবসায়ীদের চিঠি পাল্টাপাল্টি হামলা স্থগিতের ঘোষণা ইরান-ইসরায়েলের: রিপোর্ট এসির তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রির নিচে যায় না কেন? জেনে নিন প্রযুক্তিগত কারণ বালিয়াকান্দিতে তাঁতবস্ত্র ও কুটির শিল্প বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন

পত্রিকার কাগজে চপ-পেঁয়াজু, সুস্বাদের আড়ালে স্বাস্থ্যঝুঁকি

নাহিদ হাসান
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৩১:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • / 30

বিকেলের আড্ডা কিংবা সকালের নাস্তায় চপ, পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ বা ডালপুরি—এসব ভাজাপোড়া খাবার বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হাজারো মানুষ রাস্তার পাশের দোকান কিংবা স্থানীয় বাজার থেকে এসব খাবার কিনে খাচ্ছেন। তবে সুস্বাদু এই খাবারগুলো পরিবেশনের একটি প্রচলিত পদ্ধতি নীরবে তৈরি করছে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা।

এখনও অনেক দোকানে দেখা যায়, গরম ও তেলযুক্ত ভাজাপোড়া খাবার পুরনো সংবাদপত্রের কাগজে মুড়িয়ে বা তার ওপর সাজিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। ক্রেতাদের অনেকেই বিষয়টিকে স্বাভাবিক মনে করলেও স্বাস্থ্য সচেতন ব্যক্তিরা এটিকে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পুরনো পত্রিকার কাগজ সাধারণত দীর্ঘ সময় বিভিন্ন স্থানে সংরক্ষিত থাকে। ফলে এতে ধুলাবালি, ময়লা ও অন্যান্য দূষিত উপাদান জমা হওয়ার সুযোগ থাকে। অন্যদিকে গরম খাবার সরাসরি কাগজের সংস্পর্শে এলে কাগজের মুদ্রিত অংশ ও খাবারের মধ্যে প্রতিক্রিয়া ঘটার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

স্থানীয় বাজারগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, খরচ কমানো এবং সহজলভ্যতার কারণে অনেক ব্যবসায়ী এখনও সংবাদপত্রের কাগজ ব্যবহার করছেন। তবে সচেতন ক্রেতারা বলছেন, সামান্য খরচ বাড়লেও খাবার পরিবেশনে নিরাপদ কাগজ বা খাদ্য উপযোগী প্যাকেজিং ব্যবহার করা উচিত।

জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সচেতন নাগরিকদের মতে, খাদ্যের স্বাদ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপদ পরিবেশন ব্যবস্থা। অল্প অসচেতনতা দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই ভোক্তা ও ব্যবসায়ী—উভয়ের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য পরিবেশনের সংস্কৃতি গড়ে তোলা সময়ের দাবি।

খাবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু ব্যবসায়ীর দায়িত্ব নয়, সচেতন ভোক্তা হিসেবেও আমাদের দায়িত্ব নিরাপদ খাদ্য গ্রহণে গুরুত্ব দেওয়া। সুস্বাদু খাবারের পাশাপাশি নিরাপদ খাবার নিশ্চিত হলেই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পথ আরও সুগম হবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

পত্রিকার কাগজে চপ-পেঁয়াজু, সুস্বাদের আড়ালে স্বাস্থ্যঝুঁকি

প্রকাশের সময় : ০৯:৩১:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

বিকেলের আড্ডা কিংবা সকালের নাস্তায় চপ, পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ বা ডালপুরি—এসব ভাজাপোড়া খাবার বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হাজারো মানুষ রাস্তার পাশের দোকান কিংবা স্থানীয় বাজার থেকে এসব খাবার কিনে খাচ্ছেন। তবে সুস্বাদু এই খাবারগুলো পরিবেশনের একটি প্রচলিত পদ্ধতি নীরবে তৈরি করছে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা।

এখনও অনেক দোকানে দেখা যায়, গরম ও তেলযুক্ত ভাজাপোড়া খাবার পুরনো সংবাদপত্রের কাগজে মুড়িয়ে বা তার ওপর সাজিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। ক্রেতাদের অনেকেই বিষয়টিকে স্বাভাবিক মনে করলেও স্বাস্থ্য সচেতন ব্যক্তিরা এটিকে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পুরনো পত্রিকার কাগজ সাধারণত দীর্ঘ সময় বিভিন্ন স্থানে সংরক্ষিত থাকে। ফলে এতে ধুলাবালি, ময়লা ও অন্যান্য দূষিত উপাদান জমা হওয়ার সুযোগ থাকে। অন্যদিকে গরম খাবার সরাসরি কাগজের সংস্পর্শে এলে কাগজের মুদ্রিত অংশ ও খাবারের মধ্যে প্রতিক্রিয়া ঘটার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

স্থানীয় বাজারগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, খরচ কমানো এবং সহজলভ্যতার কারণে অনেক ব্যবসায়ী এখনও সংবাদপত্রের কাগজ ব্যবহার করছেন। তবে সচেতন ক্রেতারা বলছেন, সামান্য খরচ বাড়লেও খাবার পরিবেশনে নিরাপদ কাগজ বা খাদ্য উপযোগী প্যাকেজিং ব্যবহার করা উচিত।

জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সচেতন নাগরিকদের মতে, খাদ্যের স্বাদ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপদ পরিবেশন ব্যবস্থা। অল্প অসচেতনতা দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই ভোক্তা ও ব্যবসায়ী—উভয়ের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য পরিবেশনের সংস্কৃতি গড়ে তোলা সময়ের দাবি।

খাবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু ব্যবসায়ীর দায়িত্ব নয়, সচেতন ভোক্তা হিসেবেও আমাদের দায়িত্ব নিরাপদ খাদ্য গ্রহণে গুরুত্ব দেওয়া। সুস্বাদু খাবারের পাশাপাশি নিরাপদ খাবার নিশ্চিত হলেই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পথ আরও সুগম হবে।