Dhaka ০৯:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
বিদায় নিশ্চিত তিউনিসিয়ার, গ্রুপ সেরা মিশনে নেদারল্যান্ডস চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার হবে: রিজভী যশোরের শার্শায় বজ্রপাতে বিজিবি সদস্য আহত ১৯০০ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প ভেনেজুয়েলায় পাঁচ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও এক সহকারী পুলিশ সুপারকে বদলি ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে জমির ন্যায্য মূল্য দাবিতে মানববন্ধন নওগাঁ সীমান্তে ২৭০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারি আটক জাতীয় পর্যায়ের বিজ্ঞান মেলায় জেলার প্রতিনিধিত্ব করবে কাজী আব্দুল মাজেদ একাডেমি রাজবাড়ীতে রাতের অন্ধকারে কৃষকের সবজি ক্ষেত বিনষ্টের অভিযোগ ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ১৬৪, আহত প্রায় এক হাজার

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী যে ছোট সাপ

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০১:৪৯:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
  • / 97

আকারে ছোট হলেও প্রাণঘাতী ক্ষমতায় বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর সাপ সো-স্কেলড ভাইপার। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাপের কামড়ে বিশ্বের অনেক বড় আকারের সাপের তুলনায়ও বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে।

শুষ্ক মরুভূমি ও উষ্ণ অঞ্চলে বসবাসকারী এই সাপের বিস্তৃতি মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত। পরিবেশের সঙ্গে মিলিয়ে বাদামি বা লালচে বর্ণের শরীরের কারণে এটি সহজেই চোখে পড়ে না— যা মানুষের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে।

মাত্র আড়াই ফুট পর্যন্ত লম্বা হলেও এই সাপের ভয়াবহতার মূল কারণ এর স্বভাব ও বিষ। অন্যান্য অনেক বিষধর সাপ বিপদ বুঝলে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলেও সো-স্কেলড ভাইপার বরং আক্রমণাত্মক আচরণ করে। বিপদের মুখে এটি শরীর পেঁচিয়ে ‘৮’ আকৃতির ভঙ্গি নেয় এবং মুহূর্তের মধ্যে আঘাত হানতে সক্ষম হয়।

আক্রমণের আগে অনেক সময় এটি শরীরের খাঁজযুক্ত আঁশ ঘষে এক ধরনের ‘সাঁসাঁ’ শব্দ তৈরি করে, যা সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত। তবে এই শব্দ শোনার আগেই অনেক ক্ষেত্রে আঘাত হানতে পারে, ফলে প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগ থাকে খুবই কম।

এই সাপের বিষ অত্যন্ত শক্তিশালী হেমোরেজিক, যা শরীরের রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া ব্যাহত করে। এতে ব্যাপক অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ, টিস্যু ক্ষয় এবং রক্তনালির মারাত্মক ক্ষতি হয়। একবার কামড়ে এটি প্রায় ৭০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত বিষ প্রবেশ করাতে পারে, যেখানে মাত্র ৫ মিলিগ্রামই একজন মানুষের প্রাণনাশের জন্য যথেষ্ট।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের বসতির কাছাকাছি বসবাসের প্রবণতা এবং দ্রুত আক্রমণাত্মক আচরণের কারণেই এই সাপের কামড়ে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রাণঘাতী হলেও সময়মতো অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা গেলে জীবন রক্ষা সম্ভব— এটাই বিশেষজ্ঞদের সবচেয়ে বড় আশার কথা।

সূত্র: ইয়াহু

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী যে ছোট সাপ

প্রকাশের সময় : ০১:৪৯:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

আকারে ছোট হলেও প্রাণঘাতী ক্ষমতায় বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর সাপ সো-স্কেলড ভাইপার। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাপের কামড়ে বিশ্বের অনেক বড় আকারের সাপের তুলনায়ও বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে।

শুষ্ক মরুভূমি ও উষ্ণ অঞ্চলে বসবাসকারী এই সাপের বিস্তৃতি মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত। পরিবেশের সঙ্গে মিলিয়ে বাদামি বা লালচে বর্ণের শরীরের কারণে এটি সহজেই চোখে পড়ে না— যা মানুষের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে।

মাত্র আড়াই ফুট পর্যন্ত লম্বা হলেও এই সাপের ভয়াবহতার মূল কারণ এর স্বভাব ও বিষ। অন্যান্য অনেক বিষধর সাপ বিপদ বুঝলে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলেও সো-স্কেলড ভাইপার বরং আক্রমণাত্মক আচরণ করে। বিপদের মুখে এটি শরীর পেঁচিয়ে ‘৮’ আকৃতির ভঙ্গি নেয় এবং মুহূর্তের মধ্যে আঘাত হানতে সক্ষম হয়।

আক্রমণের আগে অনেক সময় এটি শরীরের খাঁজযুক্ত আঁশ ঘষে এক ধরনের ‘সাঁসাঁ’ শব্দ তৈরি করে, যা সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত। তবে এই শব্দ শোনার আগেই অনেক ক্ষেত্রে আঘাত হানতে পারে, ফলে প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগ থাকে খুবই কম।

এই সাপের বিষ অত্যন্ত শক্তিশালী হেমোরেজিক, যা শরীরের রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া ব্যাহত করে। এতে ব্যাপক অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ, টিস্যু ক্ষয় এবং রক্তনালির মারাত্মক ক্ষতি হয়। একবার কামড়ে এটি প্রায় ৭০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত বিষ প্রবেশ করাতে পারে, যেখানে মাত্র ৫ মিলিগ্রামই একজন মানুষের প্রাণনাশের জন্য যথেষ্ট।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের বসতির কাছাকাছি বসবাসের প্রবণতা এবং দ্রুত আক্রমণাত্মক আচরণের কারণেই এই সাপের কামড়ে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রাণঘাতী হলেও সময়মতো অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা গেলে জীবন রক্ষা সম্ভব— এটাই বিশেষজ্ঞদের সবচেয়ে বড় আশার কথা।

সূত্র: ইয়াহু