রাজবাড়ীতে রাতের অন্ধকারে কৃষকের সবজি ক্ষেত বিনষ্টের অভিযোগ
- প্রকাশের সময় : ০৭:৫৪:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
- / 20
রাজবাড়ীর সদর উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জেরে রাতের অন্ধকারে এক কৃষকের সবজি ক্ষেত বিনষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক।
বুধবার (২৪ জুন) দিবাগত রাতে সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামের খন্দকারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজবাড়ী সদর থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সোহেল মন্ডল।
ভুক্তভোগী সোহেল মন্ডল একই গ্রামের বিলায়েত মন্ডলের ছেলে। অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে বাগমারা গ্রামের রোমান (২৬), মোহন মোল্লা (৪২), বিপুল (৪০), জহুরুল শিকদার ওরফে গেদা (৪৬), বাশি মোল্লা (৩৫) এবং রুবেল খন্দকারকে (৩৫)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় মাস আগে সোহেল মন্ডল স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে পুকুরসহ প্রায় পৌনে দুই একর জমি তিন বছরের জন্য ইজারা নেন। এরপর তিনি পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেন এবং পুকুরপাড়ে বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ করেন। মাছ ও সবজির সুরক্ষার জন্য চারপাশে নেটজালের বেড়াও স্থাপন করা হয়।
তিনি জানান, প্রায় ৬ হাজার শসা, ২ হাজার ৩০০টি করলা এবং ২৬০টি লাউয়ের বীজ বপন করা হয়েছিল। বীজগুলো অঙ্কুরিত হয়ে চারা বড় হতে শুরু করেছিল। কিন্তু বুধবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা নেটজালের বেড়া কেটে ফেলে এবং সবজির চারা উপড়ে পুকুরে নিক্ষেপ করে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরপাড়ের চারপাশে থাকা নেটজালের বেড়া বিভিন্ন স্থানে কাটা অবস্থায় রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা চারাগুলো সংগ্রহ করছেন।
সোহেল মন্ডল বলেন, “আমি সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে জমিটি ইজারা পাই। এরপর থেকেই কয়েকজন ব্যক্তি আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। তারা বলেছিল, আমি যেন এই জমিতে চাষাবাদ করতে না পারি। আমার ধারণা, তারাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। এতে আমার প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।”
ঘটনার পর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও মিজানপুর ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জনি খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, “একটি সম্ভাবনাময় সবজি বাগান নষ্ট করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।”
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, “ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।






















