Dhaka ১১:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
পতিত সরকারের উন্নয়নের সূচকের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই : ড. তিতুমীর নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কবর রচনা করা হয়েছে: সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদ থেকে বিরোধীদলের ওয়াকআউট ভিলেজ পলিটিক্স সামাজিক ব্যাধি, অবসান হওয়া জরুরি জাককানইবির নতুন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হুদা ৬৪ জেলার দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপ কালুখালীতে গৃহবধূ মীমকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, ঘাতকদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন পাংশায় ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে কিশোরীর আত্মহত্যা নওগাঁয় সরকারি মালামাল ধ্বংস ও নিষ্পত্তিতে বিশেষ অবদান, কোর্ট ইন্সপেক্টরকে পুলিশ সুপারের সম্মাননা রাণীনগরে ৬ বছরের শিশুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২ কিশোর

ভিলেজ পলিটিক্স সামাজিক ব্যাধি, অবসান হওয়া জরুরি

রাসেল মোল্লা বাঁধন
  • প্রকাশের সময় : ১০:১৬:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / 55

 

বর্তমানে রাজনীতির সবচেয়ে নিচু স্তর হিসেবে গ্রাম্য রাজনীতিকে বিবেচনা করা হয়, যেখানে গ্রামের সাধারণ মানুষ স্বার্থান্বেষী মহলের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। এসব নিরীহ মানুষ কঠোর পরিশ্রমে মাটিকে সোনা ফলাতে সক্ষম হলেও, কারো হৃদয়ে আঘাত করা তাদের স্বভাবসিদ্ধ ছিল না। অথচ, গ্রাম্য রাজনীতির বিষাক্ত প্রভাবে সেই মানবিক মূল্যবোধ আজ বিলীন হওয়ার পথে! আজ আমাদের সম্প্রীতির গ্রামীণ পরিবেশ যেন কোথাও হারিয়ে গেছে। হারিয়ে গেছে গ্রামের ময়মুরব্বিদের সালিশ-বিচারের প্রতিধ্বনি।

ছোটবেলায় দেখতাম—গ্রামের মুরব্বিরা বিকেল হলেই একসঙ্গে বসতেন, কেউ হুঁকো টানতেন, কেউ মুড়ি আর খেজুরের গুড় নিয়ে আসতেন। কিন্তু আসল উদ্দেশ্য ছিল সালিশ। গ্রামের কোনো বিরোধ, পারিবারিক কলহ, জমির সীমানা নিয়ে ঝগড়া—সবকিছু সমাধান হতো সেখানে। মজলুমের কান্না শোনা হতো, অপরাধীর শাস্তি হতো। জরিমানা, জুতাপেটা, লজ্জাজনক ক্ষমা প্রার্থনা—এসব ছিল সালিশের রায়।
এখন সামাজিক ঐক্যের চেয়ে ব্যক্তিগত লাভ-ক্ষতি ও অহংকার এখন মানুষের মধ্যে বেশি কাজ করে।
সব সামাজিকতা আজ কোথাও যেন বিলীন, কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে আবহমান বাংলার গ্রামীণ ইতিহাস-ঐতিহ্য।

আমরা সব সময় দেখে এসেছি, শুনে এসেছি আমাদের গ্রামের সাধারণ মানুষদের উদার মনোভাবের কথা। তাদের কোমল হৃদয়, ভ্রাতৃত্ববোধ, বন্ধু ভাবাপন্ন আচার নিষ্ঠার কথা কিন্তু তা যেন আজ শুধুই এক রূপকথার গল্প।

 

লেখক: গণমাধ্যম কর্মী

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ভিলেজ পলিটিক্স সামাজিক ব্যাধি, অবসান হওয়া জরুরি

প্রকাশের সময় : ১০:১৬:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

 

বর্তমানে রাজনীতির সবচেয়ে নিচু স্তর হিসেবে গ্রাম্য রাজনীতিকে বিবেচনা করা হয়, যেখানে গ্রামের সাধারণ মানুষ স্বার্থান্বেষী মহলের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। এসব নিরীহ মানুষ কঠোর পরিশ্রমে মাটিকে সোনা ফলাতে সক্ষম হলেও, কারো হৃদয়ে আঘাত করা তাদের স্বভাবসিদ্ধ ছিল না। অথচ, গ্রাম্য রাজনীতির বিষাক্ত প্রভাবে সেই মানবিক মূল্যবোধ আজ বিলীন হওয়ার পথে! আজ আমাদের সম্প্রীতির গ্রামীণ পরিবেশ যেন কোথাও হারিয়ে গেছে। হারিয়ে গেছে গ্রামের ময়মুরব্বিদের সালিশ-বিচারের প্রতিধ্বনি।

ছোটবেলায় দেখতাম—গ্রামের মুরব্বিরা বিকেল হলেই একসঙ্গে বসতেন, কেউ হুঁকো টানতেন, কেউ মুড়ি আর খেজুরের গুড় নিয়ে আসতেন। কিন্তু আসল উদ্দেশ্য ছিল সালিশ। গ্রামের কোনো বিরোধ, পারিবারিক কলহ, জমির সীমানা নিয়ে ঝগড়া—সবকিছু সমাধান হতো সেখানে। মজলুমের কান্না শোনা হতো, অপরাধীর শাস্তি হতো। জরিমানা, জুতাপেটা, লজ্জাজনক ক্ষমা প্রার্থনা—এসব ছিল সালিশের রায়।
এখন সামাজিক ঐক্যের চেয়ে ব্যক্তিগত লাভ-ক্ষতি ও অহংকার এখন মানুষের মধ্যে বেশি কাজ করে।
সব সামাজিকতা আজ কোথাও যেন বিলীন, কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে আবহমান বাংলার গ্রামীণ ইতিহাস-ঐতিহ্য।

আমরা সব সময় দেখে এসেছি, শুনে এসেছি আমাদের গ্রামের সাধারণ মানুষদের উদার মনোভাবের কথা। তাদের কোমল হৃদয়, ভ্রাতৃত্ববোধ, বন্ধু ভাবাপন্ন আচার নিষ্ঠার কথা কিন্তু তা যেন আজ শুধুই এক রূপকথার গল্প।

 

লেখক: গণমাধ্যম কর্মী