Dhaka ০৮:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হেমলতা

সৈয়দা রাজিয়া সুলতানা (শিম্মা)
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৫৬:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 9

 

তোমাকে প্রিয়া হেমলতা লিখতে গিয়েও দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়ে গেলাম,
লেখার জন্য যথেষ্ট কারণ থাকতে হয়,
সে কারণ টা কোথাও আমি অনুধাবন করতে পারলাম না।
আর তুমি আমাকে যত তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেছো
সেটা আমি মর্মে মর্মে বুঝে নিয়েছিলাম,
এতটাই ঘৃণার চোখে দেখতে তুমি আমাকে
যেটা একটা কুকুর বিড়ালও ডিজার্ভ করত না।
আমি তো মানুষ আর কত?
আমাদের দুজনের বিয়েটা কারো সম্মতিতে হয়নি,
তোমার ঠাকুরদা এবং আমার ঠাকুরদা মিলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
আমি আমার কাজ নিয়ে বিভিন্ন দেশ বিদেশ ঘুরে বেড়াতাম।
তোমারটা ঠাকুরদা আমাকে একদিন ফোন করে দেশে ফিরে আসতে বললেন।
আমার ঠাকুরদা তার অনেক আগেই গত হয়ে গেছিলেন।
তোমার ঠাকুরদার কাছে এটাই অনুরোধ করেছিলাম আমি,
আমি কে বা কি করি, আমার আত্মপরিচয় টে যেন তোমার কাছে গোপন রাখা হয়।
সেই মতাবেক কাজ করা হয়েছিল,
আমাদের বিয়েটা হয়ে গেল।
তারপর থেকেই তোমার অকাথ্য অত্যাচার সহ্য করে গেলাম আমি।
আমাকে কখনোই তুমি তোমার বিছানাতে জায়গা দাওনি।
বাড়ির বয়, বেয়ারার যতটুকু সম্মান পেত আমি ততটুকু পেতাম না তোমার কাছে।
আমার পরিচয় আর একজন জানতো তোমাদের ম্যানেজার সাহেব।
দিনদিন তোমাদের ব্যাপারে আমি ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছিলাম,
একটা মানুষের ধৈর্যের সীমা আর কতটুকু থাকতে পারে?
তুমি তোমার মিল, কারখানা, কোম্পানি নিয়ে ব্যস্ত থাকতে।
আমিও তোমার অগোচরে আমার কোম্পানি দেখাশোনা করতাম।
সবকিছুই পতন হয় তোমারও বেলায় তাই হল,
রাতারাতি তোমার কোম্পানি ধ্বংসের মুখে চলে গেল।
আমি সম্পূর্ণ তোমার কোম্পানির দায়িত্ব নিয়ে সব আগের জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করলাম।
তোমার অগোচরে এটা কে করল তুমি খোঁজ করতে থাকলে।
কিন্তু তখন আর তোমার ফিরে আসবার ক্ষমতা নাই আমার কাছে।
খুৃজেও আর পাবে না আমি কোথায় আছি আছি কেমন আছি।
এর চিঠি যখন তুমি পাবে আমি তখন অনেক দূরে উড়াল দিয়েছি।
আর চেষ্টা করলেও আমাকে খুঁজে পাবে না,
জীবনেও আমি আর তোমার সাথে দেখা করব না।
অহংকারীদের পতন হয় হেমলতা তোমারও তাই হল।
তোমাকে ছেড়ে যেতে আমার এখনো এতোটুকু কষ্ট হচ্ছে না।
বরঞ্চ অনুশোচনা হচ্ছে এতোটা বছর আমার জীবনে ধ্বংস করার জন্য।
আমি জানি তুমি আমাকে ছাড়া অনেক ভালো থাকবে।
তোমার আমি এতোটুকু ক্ষতি করিনি ,
তুমি আমার কাছে যেমন কুমারী এসেছিলে সেরকম কুমারী থেকে গেছো।
চিঠির সঙ্গে তোমাকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দিলাম,
অন্য কারো জীবনকে অন্তত ধ্বংস করো না জীবন গড়ে তুলো।
পরিশেষে তোমার জন্য আমার অনেক আশীর্বাদ রইল।

ইন্দ্রনীল

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

হেমলতা

প্রকাশের সময় : ০৭:৫৬:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

 

তোমাকে প্রিয়া হেমলতা লিখতে গিয়েও দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়ে গেলাম,
লেখার জন্য যথেষ্ট কারণ থাকতে হয়,
সে কারণ টা কোথাও আমি অনুধাবন করতে পারলাম না।
আর তুমি আমাকে যত তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেছো
সেটা আমি মর্মে মর্মে বুঝে নিয়েছিলাম,
এতটাই ঘৃণার চোখে দেখতে তুমি আমাকে
যেটা একটা কুকুর বিড়ালও ডিজার্ভ করত না।
আমি তো মানুষ আর কত?
আমাদের দুজনের বিয়েটা কারো সম্মতিতে হয়নি,
তোমার ঠাকুরদা এবং আমার ঠাকুরদা মিলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
আমি আমার কাজ নিয়ে বিভিন্ন দেশ বিদেশ ঘুরে বেড়াতাম।
তোমারটা ঠাকুরদা আমাকে একদিন ফোন করে দেশে ফিরে আসতে বললেন।
আমার ঠাকুরদা তার অনেক আগেই গত হয়ে গেছিলেন।
তোমার ঠাকুরদার কাছে এটাই অনুরোধ করেছিলাম আমি,
আমি কে বা কি করি, আমার আত্মপরিচয় টে যেন তোমার কাছে গোপন রাখা হয়।
সেই মতাবেক কাজ করা হয়েছিল,
আমাদের বিয়েটা হয়ে গেল।
তারপর থেকেই তোমার অকাথ্য অত্যাচার সহ্য করে গেলাম আমি।
আমাকে কখনোই তুমি তোমার বিছানাতে জায়গা দাওনি।
বাড়ির বয়, বেয়ারার যতটুকু সম্মান পেত আমি ততটুকু পেতাম না তোমার কাছে।
আমার পরিচয় আর একজন জানতো তোমাদের ম্যানেজার সাহেব।
দিনদিন তোমাদের ব্যাপারে আমি ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছিলাম,
একটা মানুষের ধৈর্যের সীমা আর কতটুকু থাকতে পারে?
তুমি তোমার মিল, কারখানা, কোম্পানি নিয়ে ব্যস্ত থাকতে।
আমিও তোমার অগোচরে আমার কোম্পানি দেখাশোনা করতাম।
সবকিছুই পতন হয় তোমারও বেলায় তাই হল,
রাতারাতি তোমার কোম্পানি ধ্বংসের মুখে চলে গেল।
আমি সম্পূর্ণ তোমার কোম্পানির দায়িত্ব নিয়ে সব আগের জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করলাম।
তোমার অগোচরে এটা কে করল তুমি খোঁজ করতে থাকলে।
কিন্তু তখন আর তোমার ফিরে আসবার ক্ষমতা নাই আমার কাছে।
খুৃজেও আর পাবে না আমি কোথায় আছি আছি কেমন আছি।
এর চিঠি যখন তুমি পাবে আমি তখন অনেক দূরে উড়াল দিয়েছি।
আর চেষ্টা করলেও আমাকে খুঁজে পাবে না,
জীবনেও আমি আর তোমার সাথে দেখা করব না।
অহংকারীদের পতন হয় হেমলতা তোমারও তাই হল।
তোমাকে ছেড়ে যেতে আমার এখনো এতোটুকু কষ্ট হচ্ছে না।
বরঞ্চ অনুশোচনা হচ্ছে এতোটা বছর আমার জীবনে ধ্বংস করার জন্য।
আমি জানি তুমি আমাকে ছাড়া অনেক ভালো থাকবে।
তোমার আমি এতোটুকু ক্ষতি করিনি ,
তুমি আমার কাছে যেমন কুমারী এসেছিলে সেরকম কুমারী থেকে গেছো।
চিঠির সঙ্গে তোমাকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দিলাম,
অন্য কারো জীবনকে অন্তত ধ্বংস করো না জীবন গড়ে তুলো।
পরিশেষে তোমার জন্য আমার অনেক আশীর্বাদ রইল।

ইন্দ্রনীল