Dhaka ০৫:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ছেলে-নাতির বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, থানায় ৯০ বছরের বৃদ্ধা খুব শিগগিরই শেষ হবে ইরান যুদ্ধ: ট্রাম্প প্রিয়াঙ্কা-প্রকৃতি আমায় ক্ষমা করে দিও প্রেসক্লাব যশোরের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন ১৯ সেপ্টেম্বর এক্সপ্রেসওয়েতে মোটরসাইকেল রেসে তরুণের মৃত্যু, লাশ ফেলে পালাল বন্ধুরা মধুখালীতে বস্তাবন্দি অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার বালিয়াকান্দি প্রেসক্লাবের সভাপতি আতিক, সাধারণ সম্পাদক লিটন নওগাঁর নাসরিন সিদ্দিকী বালিকা বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ অবস্থা, খোলা মাঠেই চলছে পাঠদান কালীগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান র‍্যালি অনুষ্ঠিত নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে : রিজভী

ভিলেজ পলিটিক্স সামাজিক ব্যাধি, অবসান হওয়া জরুরি

রাসেল মোল্লা বাঁধন
  • প্রকাশের সময় : ১০:১৬:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / 143

 

বর্তমানে রাজনীতির সবচেয়ে নিচু স্তর হিসেবে গ্রাম্য রাজনীতিকে বিবেচনা করা হয়, যেখানে গ্রামের সাধারণ মানুষ স্বার্থান্বেষী মহলের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। এসব নিরীহ মানুষ কঠোর পরিশ্রমে মাটিকে সোনা ফলাতে সক্ষম হলেও, কারো হৃদয়ে আঘাত করা তাদের স্বভাবসিদ্ধ ছিল না। অথচ, গ্রাম্য রাজনীতির বিষাক্ত প্রভাবে সেই মানবিক মূল্যবোধ আজ বিলীন হওয়ার পথে! আজ আমাদের সম্প্রীতির গ্রামীণ পরিবেশ যেন কোথাও হারিয়ে গেছে। হারিয়ে গেছে গ্রামের ময়মুরব্বিদের সালিশ-বিচারের প্রতিধ্বনি।

ছোটবেলায় দেখতাম—গ্রামের মুরব্বিরা বিকেল হলেই একসঙ্গে বসতেন, কেউ হুঁকো টানতেন, কেউ মুড়ি আর খেজুরের গুড় নিয়ে আসতেন। কিন্তু আসল উদ্দেশ্য ছিল সালিশ। গ্রামের কোনো বিরোধ, পারিবারিক কলহ, জমির সীমানা নিয়ে ঝগড়া—সবকিছু সমাধান হতো সেখানে। মজলুমের কান্না শোনা হতো, অপরাধীর শাস্তি হতো। জরিমানা, জুতাপেটা, লজ্জাজনক ক্ষমা প্রার্থনা—এসব ছিল সালিশের রায়।
এখন সামাজিক ঐক্যের চেয়ে ব্যক্তিগত লাভ-ক্ষতি ও অহংকার এখন মানুষের মধ্যে বেশি কাজ করে।
সব সামাজিকতা আজ কোথাও যেন বিলীন, কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে আবহমান বাংলার গ্রামীণ ইতিহাস-ঐতিহ্য।

আমরা সব সময় দেখে এসেছি, শুনে এসেছি আমাদের গ্রামের সাধারণ মানুষদের উদার মনোভাবের কথা। তাদের কোমল হৃদয়, ভ্রাতৃত্ববোধ, বন্ধু ভাবাপন্ন আচার নিষ্ঠার কথা কিন্তু তা যেন আজ শুধুই এক রূপকথার গল্প।

 

লেখক: গণমাধ্যম কর্মী

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ভিলেজ পলিটিক্স সামাজিক ব্যাধি, অবসান হওয়া জরুরি

প্রকাশের সময় : ১০:১৬:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

 

বর্তমানে রাজনীতির সবচেয়ে নিচু স্তর হিসেবে গ্রাম্য রাজনীতিকে বিবেচনা করা হয়, যেখানে গ্রামের সাধারণ মানুষ স্বার্থান্বেষী মহলের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। এসব নিরীহ মানুষ কঠোর পরিশ্রমে মাটিকে সোনা ফলাতে সক্ষম হলেও, কারো হৃদয়ে আঘাত করা তাদের স্বভাবসিদ্ধ ছিল না। অথচ, গ্রাম্য রাজনীতির বিষাক্ত প্রভাবে সেই মানবিক মূল্যবোধ আজ বিলীন হওয়ার পথে! আজ আমাদের সম্প্রীতির গ্রামীণ পরিবেশ যেন কোথাও হারিয়ে গেছে। হারিয়ে গেছে গ্রামের ময়মুরব্বিদের সালিশ-বিচারের প্রতিধ্বনি।

ছোটবেলায় দেখতাম—গ্রামের মুরব্বিরা বিকেল হলেই একসঙ্গে বসতেন, কেউ হুঁকো টানতেন, কেউ মুড়ি আর খেজুরের গুড় নিয়ে আসতেন। কিন্তু আসল উদ্দেশ্য ছিল সালিশ। গ্রামের কোনো বিরোধ, পারিবারিক কলহ, জমির সীমানা নিয়ে ঝগড়া—সবকিছু সমাধান হতো সেখানে। মজলুমের কান্না শোনা হতো, অপরাধীর শাস্তি হতো। জরিমানা, জুতাপেটা, লজ্জাজনক ক্ষমা প্রার্থনা—এসব ছিল সালিশের রায়।
এখন সামাজিক ঐক্যের চেয়ে ব্যক্তিগত লাভ-ক্ষতি ও অহংকার এখন মানুষের মধ্যে বেশি কাজ করে।
সব সামাজিকতা আজ কোথাও যেন বিলীন, কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে আবহমান বাংলার গ্রামীণ ইতিহাস-ঐতিহ্য।

আমরা সব সময় দেখে এসেছি, শুনে এসেছি আমাদের গ্রামের সাধারণ মানুষদের উদার মনোভাবের কথা। তাদের কোমল হৃদয়, ভ্রাতৃত্ববোধ, বন্ধু ভাবাপন্ন আচার নিষ্ঠার কথা কিন্তু তা যেন আজ শুধুই এক রূপকথার গল্প।

 

লেখক: গণমাধ্যম কর্মী