আলোচনায় মধুপুর ফল্ট, ৬.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে কোটি মানুষের প্রাণহানির শঙ্কা
- প্রকাশের সময় : ০১:০৩:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
- / 92
বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। দেশের তিনটি প্রধান ভূমিকম্পন বলয়ের মধ্যে মধুপুরে একটি বলয় রয়েছে, যা মধুপুর ফল্ট নামে পরিচিত। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এ ফল্টের কারণে টাঙ্গাইলসহ সারাদেশে উচ্চমাত্রার ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে।
শুক্রবার ও শনিবার দেশে বেশ কয়েকবার ভূমিকম্পের পর মধুপুর ফল্টের নাম আলোচনায় এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধুপুর ফল্টে ৬ থেকে ৬.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হলে টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও ঢাকার প্রায় ১ কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে।
ঢাকা থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মধুপুর অঞ্চলে ৭ থেকে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প ঘটতে পারে বলে ভূতাত্ত্বিকরা জানিয়েছেন। বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিকম্প হয়েছে, যার মধ্যে কিছু মধুপুর ফল্টের কাছাকাছি। ২০১৯ সালে টাঙ্গাইলে ৪.২ মাত্রার ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল মধুপুর ছিল।
২০১০ সালের এক গবেষণায় বলা হয়, মধুপুর ফল্টে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ৭২ হাজার পাকা ভবন ধসে যেতে পারে এবং আরও ৫৬ হাজার ভবনে আংশিক ক্ষতি হবে। অন্য গবেষণায় বলা হয়েছে, সীমান্তের টেকটোনিক প্লেটের কারণে ৮.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকায় ২ লাখ ৩৮ হাজার ভবন ধসে পড়তে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভূমিকম্প নিয়ে সচেতনতা কার্যক্রম হয়নি। জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সাবেক সভাপতি অজয় মৃ বলেন, “আমরা শঙ্কিত, কারণ আমরা মধুপুর ফল্টের ওপরই বসবাস করছি। সরকারকে আমাদের সচেতন করতে হবে।”
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মীর মো. মোজাম্মেল হক বলেন, মধুপুর ফল্ট যেকোনো সময় সক্রিয় হতে পারে। ৬ থেকে ৬.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হলে টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও ঢাকার বিস্তীর্ণ অংশ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন জানিয়েছেন, মধুপুর ফল্ট নিয়ে যথেষ্ট প্রস্তুতি নেই। তবে স্থানীয়দের সচেতন করার জন্য মহড়া পরিচালনা করা হবে। টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক জানে আলম জানান, জেলার উত্তর অংশ রেড জোনে রয়েছে এবং ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ধার অভিযানে কমিউনিটি ভলান্টিয়ারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।




















