Dhaka ১১:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেল ভারতের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ দক্ষিণ চীনে আঘাত হেনেছে টাইফুন ‘নউল’ ফ্রান্স-স্পেনে ভয়াবহ দাবানল: নিরাপদ আশ্রয়ে আড়াই লক্ষাধিক মানুষ শাহজালাল বিমানবন্দরের আগুন নিয়ন্ত্রণে কালীগঞ্জে মাদক সেবন ও বিক্রির দায়ে তিনজনের কারাদণ্ড শফিকুর-নাহিদ-মামুনুল একসাথে হলে এক সপ্তাহের মধ্যেই সরকার পতন স্থগিত হওয়া এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের আহ্বান ১৮ বছরের কম বয়সীরা যেন মোবাইল ব্যবহার করতে না পারে: ভূমিমন্ত্রী ৫৬ বছর বয়সে ৩য় বারের মতো বাবা হলেন কাঞ্চন মল্লিক

কষ্টের শেষ নেই বারুগ্রাম আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দাদের

ইমদাদুল হক রানা, বালিয়াকান্দি
  • প্রকাশের সময় : ০৫:৩১:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ জুন ২০২৫
  • / 111

মানুষ বাঁচে স্বপ্নে। কিন্তু বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন নিরাপদ আশ্রয়। বারুগ্রামবাসী এখন শুধু আশায় বেঁচে আছে। রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বারুগ্রাম আশ্রয়ন প্রকল্পের নুয়ে পড়া ১৮০টি ঘর এখন কেবল ইট-পাথরের জঞ্জাল।

২০০১ সালে শতাধিক ভূমিহীন পরিবার বুকভরা আশা নিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল এই নতুন ঠিকানায়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই স্বপ্ন এখন কেবল টিন-ভাঙা চাল, ফাটল ধরা দেয়াল আর পানিতে ভিজে যাওয়া মেঝের মাঝে আটকে গেছে।

ভাঙা ঘরের এক কোণে বসে থাকা আবুল কাশেম মোল্লা। যিনি প্রকল্পের সভাপতি। হতাশার দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলেন, সে সময় আমাদের আশ্রয়নের পাশাপাশি কর্মের ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছিল। নতুন করে বাচাঁর স্বপ্ন, আশার আলো আমাদের লোকালয় থেকে ৩ কিলোমিটার দুরে বসত করার সাহস জুগিয়েছিল।  আশ্রয় তো পেলাম, কিন্তু পেটের ভাত পেলাম না। কাজ নেই, উপার্জন নেই। এই ঘর আমাদের মাথার ছাদ, আবার বেকারত্বের অভিশাপ আমাদের নিত্যদিনের কান্না।

সাধারণ সম্পাদক সুজন শেখ এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, এখানে আমাদের শিশুরা কেবল ক্ষুধা, দারিদ্র  শেখে, শিক্ষা নয়। লেখাপড়া যেন এদের জন্য এক অলীক কল্পনা। লোকালয় থেকে ৩ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত বারুগ্রাম আবাসন প্রকল্প। এখানে নেই কোন শিক্ষার ব্যাবস্থা। ৩ কিলোমিটার দুরে নতুন চর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে হয় কোমল মতি বাচ্চাদের প্রাথমিক শিক্ষার জন্য।

বর্ষা এলেই শুরু হয় আরেক যুদ্ধ। কাঁচা রাস্তাগুলো যেন জলকাদায় ডুবে গিয়ে পথ নয়, হয়ে ওঠে বন্ধ দরজা। কোনোরকমে পলিথিন আর পুরোনো কাপড়ে ছাউনি দিয়ে দিন পার করছেন অনেকে। ঘর গুলো ভেঙে পড়ছে। সাথে ভেঙে পড়ছে একেকটা পরিবারের স্বপ্ন। সরকারি সহযোগিতার কথা থাকলেও বাসিন্দারা জানালেন, এখন পর্যন্ত তারা কোনো ভিজিডি বা ভিজিএফ কার্ডের সুবিধা পাননি। দিন দিন তাদের জীবন হয়ে উঠছে আরও দুর্বিষহ।

তারা যাদের জন্য ভোট দেয়, যাদের আশায় ঘুমায়, তাদের সেই আশ্রয়ের ঘরই যদি ভেঙে পড়ে, তাহলে তারা দাঁড়াবে কোথায়? বারুগ্রাম আবাসনের প্রতিটি ঘরের ফাটলে যেন জমে আছে দীর্ঘশ্বাস, কান্না আর অনিশ্চয়তার গন্ধ।

বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঘরগুলো অনেক পুরনো। তাই নষ্ট হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

কষ্টের শেষ নেই বারুগ্রাম আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দাদের

প্রকাশের সময় : ০৫:৩১:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ জুন ২০২৫

মানুষ বাঁচে স্বপ্নে। কিন্তু বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন নিরাপদ আশ্রয়। বারুগ্রামবাসী এখন শুধু আশায় বেঁচে আছে। রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বারুগ্রাম আশ্রয়ন প্রকল্পের নুয়ে পড়া ১৮০টি ঘর এখন কেবল ইট-পাথরের জঞ্জাল।

২০০১ সালে শতাধিক ভূমিহীন পরিবার বুকভরা আশা নিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল এই নতুন ঠিকানায়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই স্বপ্ন এখন কেবল টিন-ভাঙা চাল, ফাটল ধরা দেয়াল আর পানিতে ভিজে যাওয়া মেঝের মাঝে আটকে গেছে।

ভাঙা ঘরের এক কোণে বসে থাকা আবুল কাশেম মোল্লা। যিনি প্রকল্পের সভাপতি। হতাশার দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলেন, সে সময় আমাদের আশ্রয়নের পাশাপাশি কর্মের ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছিল। নতুন করে বাচাঁর স্বপ্ন, আশার আলো আমাদের লোকালয় থেকে ৩ কিলোমিটার দুরে বসত করার সাহস জুগিয়েছিল।  আশ্রয় তো পেলাম, কিন্তু পেটের ভাত পেলাম না। কাজ নেই, উপার্জন নেই। এই ঘর আমাদের মাথার ছাদ, আবার বেকারত্বের অভিশাপ আমাদের নিত্যদিনের কান্না।

সাধারণ সম্পাদক সুজন শেখ এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, এখানে আমাদের শিশুরা কেবল ক্ষুধা, দারিদ্র  শেখে, শিক্ষা নয়। লেখাপড়া যেন এদের জন্য এক অলীক কল্পনা। লোকালয় থেকে ৩ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত বারুগ্রাম আবাসন প্রকল্প। এখানে নেই কোন শিক্ষার ব্যাবস্থা। ৩ কিলোমিটার দুরে নতুন চর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে হয় কোমল মতি বাচ্চাদের প্রাথমিক শিক্ষার জন্য।

বর্ষা এলেই শুরু হয় আরেক যুদ্ধ। কাঁচা রাস্তাগুলো যেন জলকাদায় ডুবে গিয়ে পথ নয়, হয়ে ওঠে বন্ধ দরজা। কোনোরকমে পলিথিন আর পুরোনো কাপড়ে ছাউনি দিয়ে দিন পার করছেন অনেকে। ঘর গুলো ভেঙে পড়ছে। সাথে ভেঙে পড়ছে একেকটা পরিবারের স্বপ্ন। সরকারি সহযোগিতার কথা থাকলেও বাসিন্দারা জানালেন, এখন পর্যন্ত তারা কোনো ভিজিডি বা ভিজিএফ কার্ডের সুবিধা পাননি। দিন দিন তাদের জীবন হয়ে উঠছে আরও দুর্বিষহ।

তারা যাদের জন্য ভোট দেয়, যাদের আশায় ঘুমায়, তাদের সেই আশ্রয়ের ঘরই যদি ভেঙে পড়ে, তাহলে তারা দাঁড়াবে কোথায়? বারুগ্রাম আবাসনের প্রতিটি ঘরের ফাটলে যেন জমে আছে দীর্ঘশ্বাস, কান্না আর অনিশ্চয়তার গন্ধ।

বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঘরগুলো অনেক পুরনো। তাই নষ্ট হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”