Dhaka ০১:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন ইসলামী রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা, বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনা হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে দেবাশীষ রায় চৌধুরীর শপথ এশিয়ান গেমসে শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব নি‌শ্চি‌তে জোর বাংলা‌দে‌শের কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং সন্দেহে এক রাতে আটক ৬২৪ উত্তরপ্রদেশে পর্যটকবাহী বাসে আগুন, নিহত ৯ প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানালেন তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছালেন শি জিনপিং, স্বাগত জানালেন ট্রাম্প বোয়িংয়ের আরও ১১ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি বাংলাদেশের নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে বিশ্বনেতাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

কষ্টের শেষ নেই বারুগ্রাম আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দাদের

ইমদাদুল হক রানা, বালিয়াকান্দি
  • প্রকাশের সময় : ০৫:৩১:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ জুন ২০২৫
  • / 122

মানুষ বাঁচে স্বপ্নে। কিন্তু বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন নিরাপদ আশ্রয়। বারুগ্রামবাসী এখন শুধু আশায় বেঁচে আছে। রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বারুগ্রাম আশ্রয়ন প্রকল্পের নুয়ে পড়া ১৮০টি ঘর এখন কেবল ইট-পাথরের জঞ্জাল।

২০০১ সালে শতাধিক ভূমিহীন পরিবার বুকভরা আশা নিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল এই নতুন ঠিকানায়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই স্বপ্ন এখন কেবল টিন-ভাঙা চাল, ফাটল ধরা দেয়াল আর পানিতে ভিজে যাওয়া মেঝের মাঝে আটকে গেছে।

ভাঙা ঘরের এক কোণে বসে থাকা আবুল কাশেম মোল্লা। যিনি প্রকল্পের সভাপতি। হতাশার দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলেন, সে সময় আমাদের আশ্রয়নের পাশাপাশি কর্মের ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছিল। নতুন করে বাচাঁর স্বপ্ন, আশার আলো আমাদের লোকালয় থেকে ৩ কিলোমিটার দুরে বসত করার সাহস জুগিয়েছিল।  আশ্রয় তো পেলাম, কিন্তু পেটের ভাত পেলাম না। কাজ নেই, উপার্জন নেই। এই ঘর আমাদের মাথার ছাদ, আবার বেকারত্বের অভিশাপ আমাদের নিত্যদিনের কান্না।

সাধারণ সম্পাদক সুজন শেখ এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, এখানে আমাদের শিশুরা কেবল ক্ষুধা, দারিদ্র  শেখে, শিক্ষা নয়। লেখাপড়া যেন এদের জন্য এক অলীক কল্পনা। লোকালয় থেকে ৩ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত বারুগ্রাম আবাসন প্রকল্প। এখানে নেই কোন শিক্ষার ব্যাবস্থা। ৩ কিলোমিটার দুরে নতুন চর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে হয় কোমল মতি বাচ্চাদের প্রাথমিক শিক্ষার জন্য।

বর্ষা এলেই শুরু হয় আরেক যুদ্ধ। কাঁচা রাস্তাগুলো যেন জলকাদায় ডুবে গিয়ে পথ নয়, হয়ে ওঠে বন্ধ দরজা। কোনোরকমে পলিথিন আর পুরোনো কাপড়ে ছাউনি দিয়ে দিন পার করছেন অনেকে। ঘর গুলো ভেঙে পড়ছে। সাথে ভেঙে পড়ছে একেকটা পরিবারের স্বপ্ন। সরকারি সহযোগিতার কথা থাকলেও বাসিন্দারা জানালেন, এখন পর্যন্ত তারা কোনো ভিজিডি বা ভিজিএফ কার্ডের সুবিধা পাননি। দিন দিন তাদের জীবন হয়ে উঠছে আরও দুর্বিষহ।

তারা যাদের জন্য ভোট দেয়, যাদের আশায় ঘুমায়, তাদের সেই আশ্রয়ের ঘরই যদি ভেঙে পড়ে, তাহলে তারা দাঁড়াবে কোথায়? বারুগ্রাম আবাসনের প্রতিটি ঘরের ফাটলে যেন জমে আছে দীর্ঘশ্বাস, কান্না আর অনিশ্চয়তার গন্ধ।

বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঘরগুলো অনেক পুরনো। তাই নষ্ট হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

কষ্টের শেষ নেই বারুগ্রাম আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দাদের

প্রকাশের সময় : ০৫:৩১:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ জুন ২০২৫

মানুষ বাঁচে স্বপ্নে। কিন্তু বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন নিরাপদ আশ্রয়। বারুগ্রামবাসী এখন শুধু আশায় বেঁচে আছে। রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বারুগ্রাম আশ্রয়ন প্রকল্পের নুয়ে পড়া ১৮০টি ঘর এখন কেবল ইট-পাথরের জঞ্জাল।

২০০১ সালে শতাধিক ভূমিহীন পরিবার বুকভরা আশা নিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল এই নতুন ঠিকানায়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই স্বপ্ন এখন কেবল টিন-ভাঙা চাল, ফাটল ধরা দেয়াল আর পানিতে ভিজে যাওয়া মেঝের মাঝে আটকে গেছে।

ভাঙা ঘরের এক কোণে বসে থাকা আবুল কাশেম মোল্লা। যিনি প্রকল্পের সভাপতি। হতাশার দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলেন, সে সময় আমাদের আশ্রয়নের পাশাপাশি কর্মের ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছিল। নতুন করে বাচাঁর স্বপ্ন, আশার আলো আমাদের লোকালয় থেকে ৩ কিলোমিটার দুরে বসত করার সাহস জুগিয়েছিল।  আশ্রয় তো পেলাম, কিন্তু পেটের ভাত পেলাম না। কাজ নেই, উপার্জন নেই। এই ঘর আমাদের মাথার ছাদ, আবার বেকারত্বের অভিশাপ আমাদের নিত্যদিনের কান্না।

সাধারণ সম্পাদক সুজন শেখ এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, এখানে আমাদের শিশুরা কেবল ক্ষুধা, দারিদ্র  শেখে, শিক্ষা নয়। লেখাপড়া যেন এদের জন্য এক অলীক কল্পনা। লোকালয় থেকে ৩ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত বারুগ্রাম আবাসন প্রকল্প। এখানে নেই কোন শিক্ষার ব্যাবস্থা। ৩ কিলোমিটার দুরে নতুন চর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে হয় কোমল মতি বাচ্চাদের প্রাথমিক শিক্ষার জন্য।

বর্ষা এলেই শুরু হয় আরেক যুদ্ধ। কাঁচা রাস্তাগুলো যেন জলকাদায় ডুবে গিয়ে পথ নয়, হয়ে ওঠে বন্ধ দরজা। কোনোরকমে পলিথিন আর পুরোনো কাপড়ে ছাউনি দিয়ে দিন পার করছেন অনেকে। ঘর গুলো ভেঙে পড়ছে। সাথে ভেঙে পড়ছে একেকটা পরিবারের স্বপ্ন। সরকারি সহযোগিতার কথা থাকলেও বাসিন্দারা জানালেন, এখন পর্যন্ত তারা কোনো ভিজিডি বা ভিজিএফ কার্ডের সুবিধা পাননি। দিন দিন তাদের জীবন হয়ে উঠছে আরও দুর্বিষহ।

তারা যাদের জন্য ভোট দেয়, যাদের আশায় ঘুমায়, তাদের সেই আশ্রয়ের ঘরই যদি ভেঙে পড়ে, তাহলে তারা দাঁড়াবে কোথায়? বারুগ্রাম আবাসনের প্রতিটি ঘরের ফাটলে যেন জমে আছে দীর্ঘশ্বাস, কান্না আর অনিশ্চয়তার গন্ধ।

বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঘরগুলো অনেক পুরনো। তাই নষ্ট হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”