গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
শ্রমিক অসন্তোষ ও সহিংসতায় পোশাক খাতে ৩ দিনে ক্ষতি দেড় হাজার কোটি টাকা

স্টাফ রিপোর্টার
- প্রকাশের সময় : ০৯:০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / 26

শ্রমিক অসন্তোষ, কারখানায় হামলা-ভাঙচুর ও অব্যাহত সড়ক অবরোধের কারণে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে দেশের তৈরি পোশাক খাত। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারানোর ঝুঁকি বাড়ছে। গত তিন দিনেই (১ থেকে ৩ নভেম্বর) এ খাতে অন্তত ১ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকার উৎপাদন ও রপ্তানি ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ফলে নতুন ক্রয়াদেশ, রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থানে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ভারত, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়ার মতো প্রতিযোগী দেশগুলো যখন আন্তর্জাতিক বাজারে আধিপত্য বাড়াচ্ছে, তখন দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতায় বাজার হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে বিদেশি ক্রেতারা উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহের সময়সীমা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এমনকি কিছু ক্রেতা আগামী দুই মাসের ক্রয়াদেশ কমানো কিংবা অর্ডার প্রতিযোগী দেশগুলোতে স্থানান্তরের চিন্তা করছেন।
বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত গড়ে প্রতিদিন ৪৬১টি কারখানা বন্ধ থাকায় রপ্তানি মূল্যে প্রায় ৮৫৯ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে বিকেএমইএর হিসাবে, গত তিন দিনে নিট খাতে উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ নিটপণ্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “মজুরি বোর্ড গঠনের পরও আন্দোলনের নামে দেশে নৈরাজ্য ও সম্পদ ধ্বংস করা হচ্ছে। সাধারণ শ্রমিকরা এতে জড়িত নন। ঘন ঘন এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে গার্মেন্টস শিল্প টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে। আর্থিক ক্ষতি হয়তো সামাল দেওয়া যাবে, কিন্তু দেশের ইমেজ সংকটের দায় কে নেবে?”
বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান জানান, বারবার আন্দোলনের কারণে বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশকে ঝুঁকিপূর্ণ গন্তব্য বিবেচনা করছেন। ফলে উচ্চমূল্যের পোশাকের অর্ডার কমিয়ে সাধারণ মানের পোশাকের ক্রয়াদেশ দিচ্ছেন। ওজনে রপ্তানি বাড়লেও টাকার অঙ্কে সার্বিক আয় কমে যাচ্ছে। তিনি দেশের ইমেজ রক্ষায় সরকার, মালিক ও শ্রমিক—সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
এদিকে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাসলিমা আখতার বলেন, “সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে, এখন তাদের কাজ করার সময় দিতে হবে। কারখানায় কোনো শ্রমিক নিজ থেকে আগুন বা ভাঙচুর চালাতে পারে না, এতে বাইরের ইন্ধন থাকতে পারে। কারণ কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিলে দিনশেষে শ্রমিকদের রুটি-রুজিই বন্ধ হয়ে যাবে।”
Tag :























