বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot

জাবিতে সিএলসি পরিচালক নিয়োগ নিয়ে উত্তেজনা, তালা ভেঙে উপাচার্যকে উদ্ধার ছাত্রদলের

জাবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ১১:০১:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / 25

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের (সিএলসি) পরিচালক নিয়োগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে রেজিস্ট্রার ভবনের ফটকে তালা দিয়ে অবস্থান নেন ইনস্টিটিউটের একদল শিক্ষার্থী। পরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তালা ভেঙে উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বের করে আনেন।

শিক্ষার্থীরা ইনস্টিটিউটের নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকে পরিচালক নিয়োগের দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ, ইনস্টিটিউটের বিষয়সংশ্লিষ্টতা ও শিক্ষকদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে পরিচালক নিয়োগ দেওয়া উচিত।

ইনস্টিটিউটের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহজালাল মাহমুদ বলেন, তাঁদের দাবি, ইনস্টিটিউটের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মধ্য থেকে পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হোক। তাঁরা কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে আন্দোলন করছেন না; বরং ইনস্টিটিউটের একাডেমিক অগ্রগতি ও পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ দাবি জানিয়েছেন।

এর আগে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনে সিন্ডিকেট সভা শুরু হয়। সভা শেষে সন্ধ্যার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম ভবন থেকে বের হতে গিয়ে ফটকে তালা দেখতে পান। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবরের নেতৃত্বে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন। পরে তাঁরা তালা ভেঙে উপাচার্য, উপ-উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বের করে আনেন। এরপর উপাচার্যকে তাঁর ঢাকার কর্মসূচিতে যোগ দিতে গাড়িতে তুলে দেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা বা প্রয়োজন হলে তাঁরা তাঁর সঙ্গে দেখা করে কথা বলতে পারেন। তবে রেজিস্ট্রার ভবনে তালা দিয়ে একাডেমিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অধিকার তাঁদের নেই। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের এবং এর পেছনে কোনো শিক্ষকের ইন্ধন রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, গত সোমবার সিএলসির পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়। এ নিয়োগের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে প্রথমে কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রশাসনের কাছে দাবি তুলে ধরেন। পরে সিন্ডিকেট সভা চলাকালে একটি পক্ষ রেজিস্ট্রার ভবনে তালা দেয়। খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে তালা ভেঙে উপাচার্যকে বের করে আনেন।

এর আগে সোমবার (২ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অফিস আদেশে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা নাজমুল মানছুরকে সিএলসি ইনস্টিটিউটের পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়। ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় তাঁকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়।

নতুন পরিচালক নিয়োগের পর ইনস্টিটিউটের শিক্ষকদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল হক হামীম এ নিয়োগের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে প্রশাসনের কাছে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ইনস্টিটিউটের বিষয়সংশ্লিষ্টতা ও শিক্ষকদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে পরিচালক নিয়োগ দেওয়া উচিত ছিল।

এদিকে, অধ্যাপক মানছুরকে দায়িত্ব গ্রহণ না করতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অধ্যাপক হামীমের বিরুদ্ধে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অধ্যাপক মানছুর এ বিষয়ে উপাচার্যকে অবহিত করেছেন। উপাচার্য অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

 

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

জাবিতে সিএলসি পরিচালক নিয়োগ নিয়ে উত্তেজনা, তালা ভেঙে উপাচার্যকে উদ্ধার ছাত্রদলের

প্রকাশের সময় : ১১:০১:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের (সিএলসি) পরিচালক নিয়োগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে রেজিস্ট্রার ভবনের ফটকে তালা দিয়ে অবস্থান নেন ইনস্টিটিউটের একদল শিক্ষার্থী। পরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তালা ভেঙে উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বের করে আনেন।

শিক্ষার্থীরা ইনস্টিটিউটের নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকে পরিচালক নিয়োগের দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ, ইনস্টিটিউটের বিষয়সংশ্লিষ্টতা ও শিক্ষকদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে পরিচালক নিয়োগ দেওয়া উচিত।

ইনস্টিটিউটের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহজালাল মাহমুদ বলেন, তাঁদের দাবি, ইনস্টিটিউটের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মধ্য থেকে পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হোক। তাঁরা কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে আন্দোলন করছেন না; বরং ইনস্টিটিউটের একাডেমিক অগ্রগতি ও পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ দাবি জানিয়েছেন।

এর আগে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনে সিন্ডিকেট সভা শুরু হয়। সভা শেষে সন্ধ্যার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম ভবন থেকে বের হতে গিয়ে ফটকে তালা দেখতে পান। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবরের নেতৃত্বে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন। পরে তাঁরা তালা ভেঙে উপাচার্য, উপ-উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বের করে আনেন। এরপর উপাচার্যকে তাঁর ঢাকার কর্মসূচিতে যোগ দিতে গাড়িতে তুলে দেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা বা প্রয়োজন হলে তাঁরা তাঁর সঙ্গে দেখা করে কথা বলতে পারেন। তবে রেজিস্ট্রার ভবনে তালা দিয়ে একাডেমিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অধিকার তাঁদের নেই। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের এবং এর পেছনে কোনো শিক্ষকের ইন্ধন রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, গত সোমবার সিএলসির পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়। এ নিয়োগের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে প্রথমে কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রশাসনের কাছে দাবি তুলে ধরেন। পরে সিন্ডিকেট সভা চলাকালে একটি পক্ষ রেজিস্ট্রার ভবনে তালা দেয়। খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে তালা ভেঙে উপাচার্যকে বের করে আনেন।

এর আগে সোমবার (২ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অফিস আদেশে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা নাজমুল মানছুরকে সিএলসি ইনস্টিটিউটের পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়। ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় তাঁকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়।

নতুন পরিচালক নিয়োগের পর ইনস্টিটিউটের শিক্ষকদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল হক হামীম এ নিয়োগের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে প্রশাসনের কাছে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ইনস্টিটিউটের বিষয়সংশ্লিষ্টতা ও শিক্ষকদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে পরিচালক নিয়োগ দেওয়া উচিত ছিল।

এদিকে, অধ্যাপক মানছুরকে দায়িত্ব গ্রহণ না করতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অধ্যাপক হামীমের বিরুদ্ধে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অধ্যাপক মানছুর এ বিষয়ে উপাচার্যকে অবহিত করেছেন। উপাচার্য অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।