Dhaka ০৬:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
মধুখালীতে ভাতিজার লাঠির আঘাতে চাচা নিহত শিশুর আঙুল বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগে কনস্টেবল ও স্ত্রী গ্রেফতার শেষবার মেসির খেলা দেখতে টিকিট নিয়ে কাড়াকাড়ি জাতিসংঘে তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন দেশজুড়ে ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস কালুখালীতে মেয়ের ফেসবুক স্ট্যাটাসের জেরে বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ জবির মার্কেটিং স্পোর্টস ক্লাবের নতুন নেতৃত্বে নিয়াজ ও খোকা নওগাঁয় বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন সোসাইটির শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত জাতিসংঘে তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন জাতিসংঘ নিখুঁত নয়, তবে এটি অপরিহার্য: ড. খলিলুর রহমান

জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব সীমিত করতে নির্বাহী আদেশে ট্রাম্পের স্বাক্ষর

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১১:৪৮:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / 55

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত করতে নতুন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) তিনি এ আদেশে স্বাক্ষর করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, দেশটির ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণকারী অধিকাংশ ব্যক্তিই জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। ১৮৬৮ সালে গৃহযুদ্ধের পর এই সংশোধনী সংবিধানে যুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তিদের নাগরিকত্বের সাংবিধানিক অধিকার স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অনেক দম্পতি সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আসছেন, যাতে তাদের সন্তান জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক পরিভাষায় এ ধরনের ভ্রমণকে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বলা হয়।

এই প্রবণতা সীমিত করতেই ট্রাম্প নতুন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। বর্তমানে বিদেশি কূটনীতিকদের সন্তান এবং কিছু বিশেষ শ্রেণির ক্ষেত্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিধান প্রযোজ্য নয়।

ট্রাম্পের স্বরাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার দাবি করেছেন, নতুন আদেশের ফলে মূলত বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্য এবং মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে সন্তান জন্ম দিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া দম্পতিরা প্রভাবিত হবেন।

নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের পর ট্রাম্প বলেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিধানের ব্যাপক অপব্যবহার হয়েছে। কয়েক দশক ধরে এই ব্যবস্থার অপব্যবহার বন্ধ করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মার্কিন অভিবাসনবিষয়ক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ২০ থেকে ২৫ হাজার দম্পতি সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরপরই ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে তার প্রশাসনের ওই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ফেডারেল আদালত স্থগিতাদেশ দেন। আদালতগুলো বলেছিলেন, নির্বাহী আদেশটি মার্কিন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

পরে ট্রাম্প প্রশাসন আদালতের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে। গত ৩০ জুন সুপ্রিম কোর্ট সেই আপিল খারিজ করে দেয়। আদালতের নয় বিচারকের মধ্যে ছয়জন আপিলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।

ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশের পর এর আইনগত বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা এবং মানবাধিকার ও অ্যাডভোকেসি সংস্থা ইউনিডোস ইউএসের নির্বাহী ডেবোরাহ ফ্লেইসচাকার রয়টার্সকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ১৫০ বছরের বেশি সময় ধরে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের এই ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তাই ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব সীমিত করতে নির্বাহী আদেশে ট্রাম্পের স্বাক্ষর

প্রকাশের সময় : ১১:৪৮:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত করতে নতুন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) তিনি এ আদেশে স্বাক্ষর করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, দেশটির ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণকারী অধিকাংশ ব্যক্তিই জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। ১৮৬৮ সালে গৃহযুদ্ধের পর এই সংশোধনী সংবিধানে যুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তিদের নাগরিকত্বের সাংবিধানিক অধিকার স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অনেক দম্পতি সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আসছেন, যাতে তাদের সন্তান জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক পরিভাষায় এ ধরনের ভ্রমণকে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বলা হয়।

এই প্রবণতা সীমিত করতেই ট্রাম্প নতুন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। বর্তমানে বিদেশি কূটনীতিকদের সন্তান এবং কিছু বিশেষ শ্রেণির ক্ষেত্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিধান প্রযোজ্য নয়।

ট্রাম্পের স্বরাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার দাবি করেছেন, নতুন আদেশের ফলে মূলত বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্য এবং মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে সন্তান জন্ম দিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া দম্পতিরা প্রভাবিত হবেন।

নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের পর ট্রাম্প বলেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিধানের ব্যাপক অপব্যবহার হয়েছে। কয়েক দশক ধরে এই ব্যবস্থার অপব্যবহার বন্ধ করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মার্কিন অভিবাসনবিষয়ক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ২০ থেকে ২৫ হাজার দম্পতি সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরপরই ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে তার প্রশাসনের ওই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ফেডারেল আদালত স্থগিতাদেশ দেন। আদালতগুলো বলেছিলেন, নির্বাহী আদেশটি মার্কিন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

পরে ট্রাম্প প্রশাসন আদালতের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে। গত ৩০ জুন সুপ্রিম কোর্ট সেই আপিল খারিজ করে দেয়। আদালতের নয় বিচারকের মধ্যে ছয়জন আপিলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।

ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশের পর এর আইনগত বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা এবং মানবাধিকার ও অ্যাডভোকেসি সংস্থা ইউনিডোস ইউএসের নির্বাহী ডেবোরাহ ফ্লেইসচাকার রয়টার্সকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ১৫০ বছরের বেশি সময় ধরে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের এই ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তাই ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

সূত্র: রয়টার্স