শিশুর আঙুল বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগে কনস্টেবল ও স্ত্রী গ্রেফতার
- প্রকাশের সময় : ০৫:৩৩:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 11
নাটোরে শিশুদের মধ্যে খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে আট বছর বয়সী এক শিশুর ডান হাতের আঙুল বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগে পুলিশের এক কনস্টেবল ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে শহরের বড় হরিশপুর পশ্চিম চেয়াম্যানপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রাতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। আহত শিশুটিকে নাটোর সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছে।
নাটোর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মাহবুর রহমান বলেন, শিশুটিকে ডান হাতের একটি আঙুলের অংশ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতার কনস্টেবল নাটোরে কর্মরত। স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে তিনি ভুক্তভোগী শিশুর বাবার বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন। বুধবার রাতে ওই বাড়িতে পারিবারিকভাবে আয়োজিত পিকনিকে কনস্টেবলের চার বছর বয়সী মেয়ের সঙ্গে শিশুটির ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বৃহস্পতিবার দায়িত্ব পালন শেষে বাসায় ফিরে কনস্টেবল শিশুটিকে জোর করে নিজের বাসায় নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর শিশুটি আহত অবস্থায় নিজের বাড়িতে ফিরে আসে। শিশুটির পরিবারের ভাষ্য, সে জানায়, তাকে ঘরে নিয়ে আঙুলে আঘাত করা হয়েছে।
পরে শিশুটির মা তাকে নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহীতে পাঠানো হয়। ঘটনার পর শিশুটির বাবা থানায় মামলা করেন।
এদিকে ঘটনার পর ওই কনস্টেবল পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে মৌখিক অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে শিশুটি যৌন নিপীড়ন করেছে। তবে এ ঘটনায় মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি বলে সদর থানার ওসি জানিয়েছেন। কনস্টেবল ও তার স্ত্রী পরে বাসা ছেড়ে চলে যান।
পুলিশ জানায়, ঘটনার খবর পেয়ে ওই বাসায় গিয়ে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। সেখানে রক্তের দাগ এবং একটি বিচ্ছিন্ন আঙুলের অংশ পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
শিশুটির বাবা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। তিনি বলেন, একই বাড়িতে বসবাসের কারণে দুই শিশুর মধ্যে চলাফেরা ছিল। পিকনিকে তাদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনাটি তেমন গুরুতর ছিল না। অথচ তার ছেলের ওপর গুরুতর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
সদর থানার ওসি বলেন, কনস্টেবলের মেয়েকে নিপীড়নের বিষয়ে তার মা-বাবা লিখিত অভিযোগ দেননি। তারা মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছিলেন। শিশুদের কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বড়দের প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।






















