Dhaka ০১:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্রোয়েশিয়াকে বিদায় করে শেষ ষোলোয় পর্তুগাল

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১১:১৩:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • / 19

একদিকে রোনালদোর পর্তুগাল, অন্যদিকে লুকা মদরিচের ক্রোয়েশিয়া— উতুঙ্গ উত্তেজনা প্রত্যাশিতই ছিল। মাঠেও দেখা গেল সেই রূপ। যেখানে অবশ্য শেষ হাসি পর্তুগালের, তারা জিতেছে ২-১ ব্যবধানে।

তাতে শেষ বত্রিশের বাঁধা পেরিয়ে গেলো পর্তুগিজরা। ক্রোয়েশিয়ার স্বপ্ন ভেঙে জায়গা করে নিলো ষোলোতে ৷ সেই সাথে জয়ের পথে হয়েছে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, নক আউটে জালের দেখা পেয়েছেন রোনালদো।

আগের পাঁচ বিশ্বকাপে ৮টি নক আউট ম্যাচ খেলেও গোল পাননি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এবার ষষ্ঠ বিশ্বকাপে এসে সেই খরা কাটালেন৷ পেনাল্টি থেকে গোল করেছেন তিনি। গোল পেয়েছেন গঞ্জালো রামোসও।

ম্যাচটাকে অবশ্য দুইভাগে ভাগ করা যায়। নিরুত্তাপ প্রথমার্ধ, যা ছিল পর্তুগালের দখলে। দ্বিতীয়ার্ধও গেছে বটে পর্তুগালের পক্ষে, তবে এবার লড়াই করতে হয়েছে। ভাগ্যকে পাশে পেতে হয়েছে।

টরন্টোয় প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিটে বলের দখল, আক্রমণ বা সুযোগ তৈরি— সব দিকেই এগিয়ে ছিল রবার্তো মার্তিনেজের পর্তুগাল। তবে দুর্দান্ত গোলকিপিং ও দৃঢ় রক্ষণে ভর করে সমতা ধরে রাখে ক্রোয়েশিয়া।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই সম্পূর্ণ বদলে যাওয়া এক ক্রোয়েশিয়াকে দেখা যায়। শুরু করে আক্রমণ। ৪৮ মিনিটে মাতেও কোভাচিচের শট অসাধারণভাবে পা বাড়িয়ে ঠেকিয়ে দেন পর্তুগিজ গোলরক্ষক।

তবে ৫৩ মিনিটে আর আটকে রাখা যায়নি। কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় ক্রোয়াটরা। যোসিপ স্তানিশিচের বাড়ানো বল পেয়ে যান ইভান পেরিসিচ। অভিজ্ঞ এই তারকা নিখুঁত শটে তা জড়িয়ে দেন জালে।

গোলের পরও থেমে থাকেনি ক্রোয়েশিয়া। ৫৬ মিনিটে ভ্লাশিচের পাস থেকে ইগর মাতানোভিচ ফের বল জালে পাঠান। কিন্তু অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়ে যায়। ব্যবধান দ্বিগুণ হয়নি।

এই ধাক্কা সামলে দ্রুত ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় পর্তুগাল। ৫৮ মিনিটে রাফায়েল লিয়াও দূরপাল্লার দুর্দান্ত বাঁকানো শটে লিভাকোভিচকে পরাস্ত করলেও বল ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।

অন্যদিকে পাল্টা আক্রমণে ৫৯ মিনিটে আবারো গোলের খুব কাছে পৌঁছে যায় ক্রোয়েশিয়া। মার্টিন বাতুরিনার পাস থেকে পেতার সুসিচ নিচু শট নিলে দারুণ সেভ করে পর্তুগালকে রক্ষা করেন দিয়োগো কস্তা।

একই মিনিটে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ থামাতে ভিটিনিয়াকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক লুকা মদরিচ।

এবার ৬১ মিনিটে দর্শকরা ভেবেছিলেন অবশেষে ইতিহাস গড়েছেন রোনালদো। হোয়াও ক্যানসেলোর দুর্দান্ত পাস বক্সে নিয়ন্ত্রণ করে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান এই ফরোয়ার্ড।

কিন্তু উদযাপন শুরু হতেই সহকারী রেফারি অফসাইডের পতাকা তুলেন। পরে ভিএআর পর্যালোচনায়ও সেই সিদ্ধান্ত বহাল থাকায় হতাশ হতে হয় রোনালদোকে। হতাশ হতে হয় পর্তুগালকে।

এমতাবস্থায় বড় সিদ্ধান্ত নেন পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। একসাথে চারটি পরিবর্তন করেন তিনি। এই পরিবর্তনের পর আক্রমণের গতি আরো বাড়িয়ে দেয় পর্তুগাল। সুবাদে চলে আসে গোলও।

৬৪ মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে রেনাতো ভেইগাকে বক্সের মাঝেই টেনে ধরেন নিকোলা ভ্লাশিচ। ভিএআর পর্যালোচনার পর পর্তুগালের পক্ষে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি।

৬৮ মিনিটে স্পট-কিক নিতে এসে কোনো ভুল করেননি রোনালদো। ডানদিকে জোরালো শটে লিভাকোভিচকে পরাস্ত করে ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরান পর্তুগিজ অধিনায়ক। সেই সাথে কাটান নিজের খরা।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে দলকে ম্যাচে ফেরান তিনি। যা চলতি আসরে তার তৃতীয় গোল। তবে সমতা ফেরার পর আরো আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে ক্রোয়াটরা। ৭৫ মিনিটে তো প্রায় গোল পেয়ে যাচ্ছিলো।

মাতেও কোভাচিচের মাঝমাঠ থেকে নিয়ে আসা বল জোরালোভাবে পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরে আসা বল পেয়ে দ্বিতীয়বার শট নেন কোভাচিচ। এবার অবিশ্বাস্য এক সেভ করে দলকে রক্ষা করেন দিয়োগো কস্তা।

৮১ মিনিটে রোনালদোকে বদলি হিসেবে তুলে নিলেন কোচ রবার্তো মার্তিনেজ।

এদিকে নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়েও দুই দল মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালাতে থাকে।

ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে যাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই রাফায়েল লিয়াওয়ের ভাসানো ক্র দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান থেকে লাফিয়ে শক্তিশালী হেডে বল জালে পাঠান বদলি গঞ্জালো রামোস।

২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। যখন মনে হচ্ছিলো হয়তো এবার সব শেষ, তখনই দেখা গেল নাটকীয়তার আরো বাকি। ম্যাচে ৯০‍+১৩ মিনিটে গোল করে বসে ক্রোয়েশিয়া। চলতে থাকে সমতায় ফেরার উদযাপন।

কিন্তু উদ্‌যাপন শেষ হতেই নামল বিষাদ। মনিটর দেখে রেফারি জানালেন অফসাইডে বাতিল গোল। তারপরই বাজল শেষ বাঁশি। রোনালদোর মুখে ফুটল হাসি, লুকা মদরিচ ভাসলেন হতাশায়।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ক্রোয়েশিয়াকে বিদায় করে শেষ ষোলোয় পর্তুগাল

প্রকাশের সময় : ১১:১৩:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

একদিকে রোনালদোর পর্তুগাল, অন্যদিকে লুকা মদরিচের ক্রোয়েশিয়া— উতুঙ্গ উত্তেজনা প্রত্যাশিতই ছিল। মাঠেও দেখা গেল সেই রূপ। যেখানে অবশ্য শেষ হাসি পর্তুগালের, তারা জিতেছে ২-১ ব্যবধানে।

তাতে শেষ বত্রিশের বাঁধা পেরিয়ে গেলো পর্তুগিজরা। ক্রোয়েশিয়ার স্বপ্ন ভেঙে জায়গা করে নিলো ষোলোতে ৷ সেই সাথে জয়ের পথে হয়েছে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, নক আউটে জালের দেখা পেয়েছেন রোনালদো।

আগের পাঁচ বিশ্বকাপে ৮টি নক আউট ম্যাচ খেলেও গোল পাননি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এবার ষষ্ঠ বিশ্বকাপে এসে সেই খরা কাটালেন৷ পেনাল্টি থেকে গোল করেছেন তিনি। গোল পেয়েছেন গঞ্জালো রামোসও।

ম্যাচটাকে অবশ্য দুইভাগে ভাগ করা যায়। নিরুত্তাপ প্রথমার্ধ, যা ছিল পর্তুগালের দখলে। দ্বিতীয়ার্ধও গেছে বটে পর্তুগালের পক্ষে, তবে এবার লড়াই করতে হয়েছে। ভাগ্যকে পাশে পেতে হয়েছে।

টরন্টোয় প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিটে বলের দখল, আক্রমণ বা সুযোগ তৈরি— সব দিকেই এগিয়ে ছিল রবার্তো মার্তিনেজের পর্তুগাল। তবে দুর্দান্ত গোলকিপিং ও দৃঢ় রক্ষণে ভর করে সমতা ধরে রাখে ক্রোয়েশিয়া।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই সম্পূর্ণ বদলে যাওয়া এক ক্রোয়েশিয়াকে দেখা যায়। শুরু করে আক্রমণ। ৪৮ মিনিটে মাতেও কোভাচিচের শট অসাধারণভাবে পা বাড়িয়ে ঠেকিয়ে দেন পর্তুগিজ গোলরক্ষক।

তবে ৫৩ মিনিটে আর আটকে রাখা যায়নি। কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় ক্রোয়াটরা। যোসিপ স্তানিশিচের বাড়ানো বল পেয়ে যান ইভান পেরিসিচ। অভিজ্ঞ এই তারকা নিখুঁত শটে তা জড়িয়ে দেন জালে।

গোলের পরও থেমে থাকেনি ক্রোয়েশিয়া। ৫৬ মিনিটে ভ্লাশিচের পাস থেকে ইগর মাতানোভিচ ফের বল জালে পাঠান। কিন্তু অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়ে যায়। ব্যবধান দ্বিগুণ হয়নি।

এই ধাক্কা সামলে দ্রুত ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় পর্তুগাল। ৫৮ মিনিটে রাফায়েল লিয়াও দূরপাল্লার দুর্দান্ত বাঁকানো শটে লিভাকোভিচকে পরাস্ত করলেও বল ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।

অন্যদিকে পাল্টা আক্রমণে ৫৯ মিনিটে আবারো গোলের খুব কাছে পৌঁছে যায় ক্রোয়েশিয়া। মার্টিন বাতুরিনার পাস থেকে পেতার সুসিচ নিচু শট নিলে দারুণ সেভ করে পর্তুগালকে রক্ষা করেন দিয়োগো কস্তা।

একই মিনিটে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ থামাতে ভিটিনিয়াকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক লুকা মদরিচ।

এবার ৬১ মিনিটে দর্শকরা ভেবেছিলেন অবশেষে ইতিহাস গড়েছেন রোনালদো। হোয়াও ক্যানসেলোর দুর্দান্ত পাস বক্সে নিয়ন্ত্রণ করে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান এই ফরোয়ার্ড।

কিন্তু উদযাপন শুরু হতেই সহকারী রেফারি অফসাইডের পতাকা তুলেন। পরে ভিএআর পর্যালোচনায়ও সেই সিদ্ধান্ত বহাল থাকায় হতাশ হতে হয় রোনালদোকে। হতাশ হতে হয় পর্তুগালকে।

এমতাবস্থায় বড় সিদ্ধান্ত নেন পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। একসাথে চারটি পরিবর্তন করেন তিনি। এই পরিবর্তনের পর আক্রমণের গতি আরো বাড়িয়ে দেয় পর্তুগাল। সুবাদে চলে আসে গোলও।

৬৪ মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে রেনাতো ভেইগাকে বক্সের মাঝেই টেনে ধরেন নিকোলা ভ্লাশিচ। ভিএআর পর্যালোচনার পর পর্তুগালের পক্ষে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি।

৬৮ মিনিটে স্পট-কিক নিতে এসে কোনো ভুল করেননি রোনালদো। ডানদিকে জোরালো শটে লিভাকোভিচকে পরাস্ত করে ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরান পর্তুগিজ অধিনায়ক। সেই সাথে কাটান নিজের খরা।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে দলকে ম্যাচে ফেরান তিনি। যা চলতি আসরে তার তৃতীয় গোল। তবে সমতা ফেরার পর আরো আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে ক্রোয়াটরা। ৭৫ মিনিটে তো প্রায় গোল পেয়ে যাচ্ছিলো।

মাতেও কোভাচিচের মাঝমাঠ থেকে নিয়ে আসা বল জোরালোভাবে পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরে আসা বল পেয়ে দ্বিতীয়বার শট নেন কোভাচিচ। এবার অবিশ্বাস্য এক সেভ করে দলকে রক্ষা করেন দিয়োগো কস্তা।

৮১ মিনিটে রোনালদোকে বদলি হিসেবে তুলে নিলেন কোচ রবার্তো মার্তিনেজ।

এদিকে নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়েও দুই দল মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালাতে থাকে।

ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে যাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই রাফায়েল লিয়াওয়ের ভাসানো ক্র দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান থেকে লাফিয়ে শক্তিশালী হেডে বল জালে পাঠান বদলি গঞ্জালো রামোস।

২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। যখন মনে হচ্ছিলো হয়তো এবার সব শেষ, তখনই দেখা গেল নাটকীয়তার আরো বাকি। ম্যাচে ৯০‍+১৩ মিনিটে গোল করে বসে ক্রোয়েশিয়া। চলতে থাকে সমতায় ফেরার উদযাপন।

কিন্তু উদ্‌যাপন শেষ হতেই নামল বিষাদ। মনিটর দেখে রেফারি জানালেন অফসাইডে বাতিল গোল। তারপরই বাজল শেষ বাঁশি। রোনালদোর মুখে ফুটল হাসি, লুকা মদরিচ ভাসলেন হতাশায়।