পাংশায় চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, পরিবারের দাবি ‘পরিকল্পিত হত্যা’
- প্রকাশের সময় : ০১:৩৬:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
- / 52
রাজবাড়ীর পাংশায় চোর সন্দেহে মো. জজ আলী বিশ্বাস (৩৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার কসবামাজাইল ইউনিয়নের দড়ি বাংলাট এলাকায় করিম মণ্ডলের মিলসংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জজ আলী বিশ্বাস পাট্টা ইউনিয়নের মাজাইল গ্রামের মো. শুরাই বিশ্বাসের ছেলে। তিনি কৃষিকাজ করতেন এবং তিন সন্তানের জনক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কসবামাজাইল ও পাট্টা ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। গত ২২ জুন মাজাইল গ্রামের জামিন বিশ্বাসকে দড়ি বাংলাট এলাকায় পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়। পরিবারের দাবি, ওই মামলার আসামিরা জামিনে এসে জজ আলীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।
নিহতের স্ত্রী বলেন, রাতে তাঁর স্বামী বাড়ির পাশে নদীতে মাছ ধরতে যান। রাত সাড়ে ৩টার দিকে কসবামাজাইল ইউনিয়নের আরিফ ফোন করে তাঁকে ডেকে নিয়ে যান। পরে সকালে তিনি জানতে পারেন, তাঁর স্বামীকে চোর অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
নিহতের বাবা শুরাই বিশ্বাস অভিযোগ করেন, দুই মাস আগে তাঁর ভাই জামিন বিশ্বাসকে হত্যার ঘটনায় মামলা করার পর আসামিরা মামলা তুলে নিতে হুমকি দিয়ে আসছিল। তাঁর অভিযোগ, জামিনে এসে এবার তাঁর ছেলেকে চোর অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
পাট্টা ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব মো. মাহামুল হাসান অন্তর দাবি করেন, জজ আলী ইউনিয়ন যুবদলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তাঁকে রাতে তুলে নিয়ে পানির মোটর চুরির অভিযোগে ইট ও লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।
তবে স্থানীয়ভাবে জজ আলীকে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, চোর সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে আহত করার খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো এজাহার দেওয়া হয়নি। এজাহার পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।























