Dhaka ১২:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১০:৫৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • / 19

দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও একুশে পদকপ্রাপ্ত মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই।

দীর্ঘদিন নিউমোনিয়াজনিত জটিলতায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার (২৯ জুন) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে দেশের শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

গত ১৪ জুন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন মুস্তাফা মনোয়ার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)তে নেওয়া হয়। কয়েক দিন আগে তার ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নেওয়ায় কিছুটা আশার সঞ্চার হলেও পরে আবারও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ভেন্টিলেটরে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

এর আগে তার স্ত্রী মেরী মনোয়ার জানিয়েছিলেন, ফুসফুসে মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের কারণে তিনি সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন।

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান।

দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলার পাশাপাশি শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ, টেলিভিশন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদান রেখে তিনি দেশের অন্যতম শ্রদ্ধেয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক কর্মী, সহকর্মী ও অনুরাগীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অনেকে শোকবার্তা দিচ্ছেন। দেশের শিল্প-সংস্কৃতির অঙ্গনে তার অবদান দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

প্রকাশের সময় : ১০:৫৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও একুশে পদকপ্রাপ্ত মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই।

দীর্ঘদিন নিউমোনিয়াজনিত জটিলতায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার (২৯ জুন) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে দেশের শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

গত ১৪ জুন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন মুস্তাফা মনোয়ার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)তে নেওয়া হয়। কয়েক দিন আগে তার ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নেওয়ায় কিছুটা আশার সঞ্চার হলেও পরে আবারও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ভেন্টিলেটরে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

এর আগে তার স্ত্রী মেরী মনোয়ার জানিয়েছিলেন, ফুসফুসে মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের কারণে তিনি সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন।

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান।

দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলার পাশাপাশি শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ, টেলিভিশন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদান রেখে তিনি দেশের অন্যতম শ্রদ্ধেয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক কর্মী, সহকর্মী ও অনুরাগীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অনেকে শোকবার্তা দিচ্ছেন। দেশের শিল্প-সংস্কৃতির অঙ্গনে তার অবদান দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।