Dhaka ১০:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
রাবেয়া-কাদের স্মৃতি পাঠাগারের উদ্যোগ: ওরা অকারণে নাটকের কুশীলবদের সংবর্ধনা নিলামে উঠছে ম্যারাডোনার ‘হাত দিয়ে গোল’ দেওয়া সেই ঐতিহাসিক বল অভিনয়ে নয়, নিজের বায়োপিকে ফিরতে চান পপি সেই মিন্নির কারাজীবনের অজানা অধ্যায় সামনে এলো বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সংখ্যক লাল কার্ড দেখেছে ব্রাজিল মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী রাম মন্দিরে দানের কোটি কোটি রুপি আত্মসাৎ, ভারতজুড়ে তোলপাড় রাজধানীর আজিজ সুপার মার্কেট থেকে নারী চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার দুই বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটক ভিসা চালু করছে ভারত প্রক্সি পরীক্ষায় ধরা পড়ে চাকরি হারালেন পিএসসির কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক

রাম মন্দিরে দানের কোটি কোটি রুপি আত্মসাৎ, ভারতজুড়ে তোলপাড়

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৩৫:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
  • / 2

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্বোধন করা অযোধ্যার রাম মন্দির আবারও আলোচনায়। তবে এবার ধর্মীয় নয়, বরং কোটি কোটি রুপির অনুদান আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক।

উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় অবস্থিত এই মন্দিরটি বর্তমানে ভারতের অন্যতম বড় তীর্থস্থান। প্রতি বছর প্রায় ৫ কোটি ভক্ত এখানে দর্শনে আসেন।

কিন্তু সম্প্রতি ভক্তদের দেওয়া নগদ অর্থ, সোনা ও রুপার অলংকার ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।
ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে কেন্দ্রীয় তদন্তের আবেদন জানিয়ে একাধিক আবেদন জমা পড়েছে।

একই সঙ্গে উত্তর প্রদেশ সরকার তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে। তবে মন্দির পরিচালনাকারী শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রায় ২ দশমিক ৭ একর জায়গাজুড়ে নির্মিত তিনতলা এই মন্দিরে প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০ হাজার দর্শনার্থী আসেন। ছুটির দিন ও ধর্মীয় উৎসবে এই সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ভক্তদের অনুদান সংগ্রহের জন্য মন্দির চত্বরে প্রায় ৩৫টি দানবাক্স রয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ট্রাস্টের আয় ছিল ৩ দশমিক ২৭ বিলিয়ন রুপি। বিপুল এই আয়ের কারণে এটি দেশের অন্যতম ধনী ধর্মীয় ট্রাস্টে পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি অযোধ্যার সাবেক এক স্থানীয় বিধায়ক অভিযোগ করেন, মন্দিরের অনুদানের অন্তত ৭ কোটি রুপি গায়েব হয়ে গেছে। তবে ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এই অভিযোগ নাকচ করে বলেন, দানবাক্স খোলা থেকে অর্থ গণনা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া নজরদারির আওতায় এবং নিরীক্ষার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তাই অনিয়মের সুযোগ নেই।

এই বিতর্কের সূত্রপাত করেন ট্রাস্টের সাবেক হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মহিপাল সিং। তিনি দাবি করেন, অনুদানের অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী গণনায় অসংগতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে প্রাণনাশের হুমকির কথা উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ঘটনাটি সামনে আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনেও শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন। একই দাবি তুলেছেন দলের সংসদ সদস্য অবধেশ প্রসাদ। এমনকি ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় কয়েকজন নেতাও নিরপেক্ষ তদন্তের পক্ষে মত দিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভক্তদের মধ্যেও এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, ভক্তদের দান মন্দিরের উন্নয়ন ও তীর্থযাত্রীদের সেবায় ব্যয় হওয়ার কথা, ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়। অনেকেই এই অভিযোগকে ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর গুরুতর আঘাত হিসেবে দেখছেন।

এরই মধ্যে বিশেষ তদন্ত দল সরকারের কাছে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য আরও সময় চাওয়া হয়েছে।

উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন, যাদের কাছে এ বিষয়ে তথ্য বা প্রমাণ রয়েছে, তারা যেন তদন্তকারীদের কাছে তা জমা দেন। তার ভাষায়, সত্য অবশ্যই সামনে আসবে।

এদিকে সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি দিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, ভক্তদের দেওয়া অনুদান শুধু অর্থ নয়, এটি কোটি কোটি মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতীক। তাই এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া জরুরি।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

রাম মন্দিরে দানের কোটি কোটি রুপি আত্মসাৎ, ভারতজুড়ে তোলপাড়

প্রকাশের সময় : ০৮:৩৫:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্বোধন করা অযোধ্যার রাম মন্দির আবারও আলোচনায়। তবে এবার ধর্মীয় নয়, বরং কোটি কোটি রুপির অনুদান আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক।

উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় অবস্থিত এই মন্দিরটি বর্তমানে ভারতের অন্যতম বড় তীর্থস্থান। প্রতি বছর প্রায় ৫ কোটি ভক্ত এখানে দর্শনে আসেন।

কিন্তু সম্প্রতি ভক্তদের দেওয়া নগদ অর্থ, সোনা ও রুপার অলংকার ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।
ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে কেন্দ্রীয় তদন্তের আবেদন জানিয়ে একাধিক আবেদন জমা পড়েছে।

একই সঙ্গে উত্তর প্রদেশ সরকার তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে। তবে মন্দির পরিচালনাকারী শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রায় ২ দশমিক ৭ একর জায়গাজুড়ে নির্মিত তিনতলা এই মন্দিরে প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০ হাজার দর্শনার্থী আসেন। ছুটির দিন ও ধর্মীয় উৎসবে এই সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ভক্তদের অনুদান সংগ্রহের জন্য মন্দির চত্বরে প্রায় ৩৫টি দানবাক্স রয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ট্রাস্টের আয় ছিল ৩ দশমিক ২৭ বিলিয়ন রুপি। বিপুল এই আয়ের কারণে এটি দেশের অন্যতম ধনী ধর্মীয় ট্রাস্টে পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি অযোধ্যার সাবেক এক স্থানীয় বিধায়ক অভিযোগ করেন, মন্দিরের অনুদানের অন্তত ৭ কোটি রুপি গায়েব হয়ে গেছে। তবে ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এই অভিযোগ নাকচ করে বলেন, দানবাক্স খোলা থেকে অর্থ গণনা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া নজরদারির আওতায় এবং নিরীক্ষার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তাই অনিয়মের সুযোগ নেই।

এই বিতর্কের সূত্রপাত করেন ট্রাস্টের সাবেক হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মহিপাল সিং। তিনি দাবি করেন, অনুদানের অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী গণনায় অসংগতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে প্রাণনাশের হুমকির কথা উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ঘটনাটি সামনে আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনেও শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন। একই দাবি তুলেছেন দলের সংসদ সদস্য অবধেশ প্রসাদ। এমনকি ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় কয়েকজন নেতাও নিরপেক্ষ তদন্তের পক্ষে মত দিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভক্তদের মধ্যেও এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, ভক্তদের দান মন্দিরের উন্নয়ন ও তীর্থযাত্রীদের সেবায় ব্যয় হওয়ার কথা, ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়। অনেকেই এই অভিযোগকে ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর গুরুতর আঘাত হিসেবে দেখছেন।

এরই মধ্যে বিশেষ তদন্ত দল সরকারের কাছে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য আরও সময় চাওয়া হয়েছে।

উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন, যাদের কাছে এ বিষয়ে তথ্য বা প্রমাণ রয়েছে, তারা যেন তদন্তকারীদের কাছে তা জমা দেন। তার ভাষায়, সত্য অবশ্যই সামনে আসবে।

এদিকে সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি দিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, ভক্তদের দেওয়া অনুদান শুধু অর্থ নয়, এটি কোটি কোটি মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতীক। তাই এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া জরুরি।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস