Dhaka ০২:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
জাবির মুক্তমঞ্চে মারধরের শিকার শিক্ষার্থী, জাকসু নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ১৫ বছরের মধ্যে মিসরের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াবে ইসরায়েল: ইহুদি নেতার সতর্কবার্তা ভূমিকম্প মোকাবেলায় রাজধানীর ৪৪৫টি নিরাপদ আশ্রয়স্থল চিহ্নিত: ত্রাণমন্ত্রী কালীগঞ্জে আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের চেষ্টা: সাবেক মেয়র বিজুকে ছিনিয়ে নিল মহিলা নেতাকর্মীরা শিক্ষাব্যবস্থায় কোনো ধরনের বৈষম্য রাখা হবে না: শিক্ষামন্ত্রী হরমুজ নিয়ে অগ্রগতি হলেও এখনো আটকা শত শত জাহাজ বিশ্ব দরবারে দেশের মর্যাদা, সম্মান ও দৃঢ় অবস্থান নিশ্চিত করছেন প্রধানমন্ত্রী গত অর্থবছরে দেশে ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী কালুখালীতে জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ কালীগঞ্জে যুবদলের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ

জাবির মুক্তমঞ্চে মারধরের শিকার শিক্ষার্থী, জাকসু নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

জাবি প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় : ১২:৩৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • / 18

 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মুক্তমঞ্চে আর্জেন্টিনা–অস্ট্রিয়া ম্যাচ দেখা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদকসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

অভিযোগকারী নাঈম আহমদ সানি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের চতুর্থ বর্ষের (৫০তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর দেওয়া অভিযোগপত্রে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, বিচার এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে নাঈম আহমদ সানি উল্লেখ করেন, সোমবার (২২ জুন) রাত ১০টার দিকে তিনি অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মুক্তমঞ্চে আর্জেন্টিনা–অস্ট্রিয়া ম্যাচ দেখতে যান। খেলা শুরুর আগে সেখানে একটি রম্য বিতর্ক অনুষ্ঠান চলছিল। নির্ধারিত সময়ের কাছাকাছি এসেও খেলার সম্প্রচার শুরু না হওয়ায় দর্শকদের অনেকে খেলা চালুর দাবি জানান। তিনিও অন্যদের সঙ্গে এ দাবিতে অংশ নেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মাহমুদুল হাসান কিরণ (বাংলা বিভাগ, ৪৮তম ব্যাচ) মঞ্চ থেকে নেমে এসে তাঁর সঙ্গে বাক্‌বিতণ্ডায় জড়ান। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে গেলেও কয়েক মিনিট পর কিরণ, ইমন (পাবলিক হেলথ বিভাগ, ৪৮তম ব্যাচ), সাঞ্জু (দর্শন বিভাগ, ৪৮তম ব্যাচ) এবং আরও কয়েকজন তাঁকে ঘিরে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নাঈমের দাবি, হামলার সময় তাঁকে কিল-ঘুষি ও ধাক্কাধাক্কি করা হয়। গলায় থাকা আর্জেন্টিনার পতাকা পেঁচিয়ে ধরার কারণে শ্বাসরোধের পরিস্থিতিও সৃষ্টি হয়। এতে তাঁর মুখ, গলা ও চোখের আশপাশে আঘাত লাগে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয়।

অভিযোগে তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে টিএসসির একটি ওয়াশরুমে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বিচার ও নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেন।

এ বিষয়ে জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মাহমুদুল হাসান কিরণ বলেন, “খেলা দেখতে অতিরিক্ত দর্শক উপস্থিত হওয়ায় শুরুতে কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ওই শিক্ষার্থীকে উত্তেজিত আচরণ করতে দেখে আমি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করি। এ সময় তাঁর সঙ্গে আমার কথা-কাটাকাটি হয়। পরে আমি সেখান থেকে চলে আসি। এরপর সেখানে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই।”

তিনি আরও বলেন, “পরে জানতে পারি তিনি আহত হয়েছেন। বিষয়টি শুনে আমি তাঁর হলে গিয়ে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করি। তবে তাঁর সঙ্গে দেখা হয়নি। আয়োজনের দায়িত্বে থাকায় সৌজন্যবশত তাঁর খোঁজ নিতে গিয়েছিলাম।”

অভিযোগে নাম থাকা শিক্ষার্থী ইমন বলেন, “কিরণের সঙ্গে তাঁর বাক্‌বিতণ্ডা হতে দেখে আমরা বিষয়টি মীমাংসার জন্য এগিয়ে যাই। তখন সেখানে মবের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তিনি আহত হয়েছেন, তবে আমি এবং সাঞ্জু তাঁকে মারধর করিনি। আমরা মূলত পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিলাম।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. রাশেদুল আলম বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তাঁর অভিযোগপত্রে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদে চলাফেরার নিশ্চয়তা চেয়েছেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

জাবির মুক্তমঞ্চে মারধরের শিকার শিক্ষার্থী, জাকসু নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ১২:৩৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মুক্তমঞ্চে আর্জেন্টিনা–অস্ট্রিয়া ম্যাচ দেখা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদকসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

অভিযোগকারী নাঈম আহমদ সানি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের চতুর্থ বর্ষের (৫০তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর দেওয়া অভিযোগপত্রে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, বিচার এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে নাঈম আহমদ সানি উল্লেখ করেন, সোমবার (২২ জুন) রাত ১০টার দিকে তিনি অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মুক্তমঞ্চে আর্জেন্টিনা–অস্ট্রিয়া ম্যাচ দেখতে যান। খেলা শুরুর আগে সেখানে একটি রম্য বিতর্ক অনুষ্ঠান চলছিল। নির্ধারিত সময়ের কাছাকাছি এসেও খেলার সম্প্রচার শুরু না হওয়ায় দর্শকদের অনেকে খেলা চালুর দাবি জানান। তিনিও অন্যদের সঙ্গে এ দাবিতে অংশ নেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মাহমুদুল হাসান কিরণ (বাংলা বিভাগ, ৪৮তম ব্যাচ) মঞ্চ থেকে নেমে এসে তাঁর সঙ্গে বাক্‌বিতণ্ডায় জড়ান। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে গেলেও কয়েক মিনিট পর কিরণ, ইমন (পাবলিক হেলথ বিভাগ, ৪৮তম ব্যাচ), সাঞ্জু (দর্শন বিভাগ, ৪৮তম ব্যাচ) এবং আরও কয়েকজন তাঁকে ঘিরে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নাঈমের দাবি, হামলার সময় তাঁকে কিল-ঘুষি ও ধাক্কাধাক্কি করা হয়। গলায় থাকা আর্জেন্টিনার পতাকা পেঁচিয়ে ধরার কারণে শ্বাসরোধের পরিস্থিতিও সৃষ্টি হয়। এতে তাঁর মুখ, গলা ও চোখের আশপাশে আঘাত লাগে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয়।

অভিযোগে তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে টিএসসির একটি ওয়াশরুমে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বিচার ও নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেন।

এ বিষয়ে জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মাহমুদুল হাসান কিরণ বলেন, “খেলা দেখতে অতিরিক্ত দর্শক উপস্থিত হওয়ায় শুরুতে কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ওই শিক্ষার্থীকে উত্তেজিত আচরণ করতে দেখে আমি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করি। এ সময় তাঁর সঙ্গে আমার কথা-কাটাকাটি হয়। পরে আমি সেখান থেকে চলে আসি। এরপর সেখানে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই।”

তিনি আরও বলেন, “পরে জানতে পারি তিনি আহত হয়েছেন। বিষয়টি শুনে আমি তাঁর হলে গিয়ে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করি। তবে তাঁর সঙ্গে দেখা হয়নি। আয়োজনের দায়িত্বে থাকায় সৌজন্যবশত তাঁর খোঁজ নিতে গিয়েছিলাম।”

অভিযোগে নাম থাকা শিক্ষার্থী ইমন বলেন, “কিরণের সঙ্গে তাঁর বাক্‌বিতণ্ডা হতে দেখে আমরা বিষয়টি মীমাংসার জন্য এগিয়ে যাই। তখন সেখানে মবের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তিনি আহত হয়েছেন, তবে আমি এবং সাঞ্জু তাঁকে মারধর করিনি। আমরা মূলত পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিলাম।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. রাশেদুল আলম বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তাঁর অভিযোগপত্রে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদে চলাফেরার নিশ্চয়তা চেয়েছেন।