Dhaka ০৪:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
কালুখালীতে মেয়ের ফেসবুক স্ট্যাটাসের জেরে বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ জবির মার্কেটিং স্পোর্টস ক্লাবের নতুন নেতৃত্বে নিয়াজ ও খোকা নওগাঁয় বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন সোসাইটির শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত জাতিসংঘে তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন জাতিসংঘ নিখুঁত নয়, তবে এটি অপরিহার্য: ড. খলিলুর রহমান গারো পাহাড়ের পাদদেশে ধারণ করা ‘ইত্যাদি’, দেখা যাবে আজ এশিয়ান গেমসে নারী হকিতে প্রথম পয়েন্ট পেল বাংলাদেশ নওগাঁ সীমান্তে ১১ বোতল ভারতীয় কিংডিল সিরাপ উদ্ধার জ্বালানি তেলের দামবৃদ্ধিতে বেড়েছে সবজির দাম ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে একদিনে যুক্তরাজ্যে ৭৮১ অভিবাসনপ্রত্যাশী

স্ট্রিট ফুডকে ভ্যাটের আওতায় আনার দাবি রেস্তোরাঁ মালিকদের

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৫৭:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • / 74

দেশের হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতে বিদ্যমান নীতি বৈষম্য দূর করতে স্ট্রিট ফুড ব্যবসাকে ভ্যাটের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, একই ধরনের ব্যবসা পরিচালনা করলেও স্ট্রিট ফুড বিক্রেতারা ভ্যাট দেন না এবং কোনো সরকারি সংস্থার কার্যকর নজরদারির আওতায়ও থাকেন না। অন্যদিকে ক্যাটারিং সেবাদাতাদের রেস্তোরাঁর তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি ভ্যাট দিতে হয়, যা ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় বৈষম্য তৈরি করছে।

শুক্রবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে সংগঠনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন সমিতির নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান।

লিখিত বক্তব্যে ইমরান হাসান বলেন, বিদ্যমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাংক খাতের সংকটের মধ্যেও সরকার ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রণয়নের চেষ্টা করেছে। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানান। তবে এলপিজি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির কারণে রেস্তোরাঁ খাতের পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে, যা এ শিল্পকে গভীর সংকটে ফেলেছে। অথচ বাজেটে এই খাতকে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বর্তমানে রেস্তোরাঁ খাতে ৫ শতাংশ এবং ক্যাটারিং সেবায় ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়। এই ভ্যাট বৈষম্য দূর করার পাশাপাশি স্ট্রিট ফুডসহ সব ধরনের খাদ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। তার মতে, এতে বাজারে চলমান অসম প্রতিযোগিতা কমবে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।

রেস্তোরাঁ পরিচালনায় প্রশাসনিক জটিলতার কথাও তুলে ধরেন ইমরান হাসান। তিনি বলেন, একটি রেস্তোরাঁ চালু ও পরিচালনার জন্য বর্তমানে বিভিন্ন দপ্তর থেকে ১০ থেকে ১২টি অনুমোদন নিতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। এতে ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি কার্যকর তদারকিও বাধাগ্রস্ত হয়। এ পরিস্থিতিতে খাতটিকে একটি সমন্বিত কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থার আওতায় এনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর প্রস্তাব দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে হোটেল-রেস্তোরাঁ শিল্পের জন্য পৃথক শিল্পনীতি প্রণয়নের দাবিও জানানো হয়। ইমরান হাসান বলেন, একটি স্বতন্ত্র শিল্পনীতি থাকলে লাইসেন্সিং, কর ও ভ্যাট ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং উদ্যোক্তা সহায়তাসহ বিভিন্ন বিষয় একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা সম্ভব হবে। বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার পৃথক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে উদ্যোক্তাদের অতিরিক্ত ব্যয় ও নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সহ-সভাপতি শাহ সুলতান খোকন, যুগ্ম মহাসচিব ফিরোজ আলম সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিকুর ইসলামসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

স্ট্রিট ফুডকে ভ্যাটের আওতায় আনার দাবি রেস্তোরাঁ মালিকদের

প্রকাশের সময় : ০৭:৫৭:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

দেশের হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতে বিদ্যমান নীতি বৈষম্য দূর করতে স্ট্রিট ফুড ব্যবসাকে ভ্যাটের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, একই ধরনের ব্যবসা পরিচালনা করলেও স্ট্রিট ফুড বিক্রেতারা ভ্যাট দেন না এবং কোনো সরকারি সংস্থার কার্যকর নজরদারির আওতায়ও থাকেন না। অন্যদিকে ক্যাটারিং সেবাদাতাদের রেস্তোরাঁর তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি ভ্যাট দিতে হয়, যা ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় বৈষম্য তৈরি করছে।

শুক্রবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে সংগঠনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন সমিতির নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান।

লিখিত বক্তব্যে ইমরান হাসান বলেন, বিদ্যমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাংক খাতের সংকটের মধ্যেও সরকার ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রণয়নের চেষ্টা করেছে। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানান। তবে এলপিজি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির কারণে রেস্তোরাঁ খাতের পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে, যা এ শিল্পকে গভীর সংকটে ফেলেছে। অথচ বাজেটে এই খাতকে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বর্তমানে রেস্তোরাঁ খাতে ৫ শতাংশ এবং ক্যাটারিং সেবায় ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়। এই ভ্যাট বৈষম্য দূর করার পাশাপাশি স্ট্রিট ফুডসহ সব ধরনের খাদ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। তার মতে, এতে বাজারে চলমান অসম প্রতিযোগিতা কমবে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।

রেস্তোরাঁ পরিচালনায় প্রশাসনিক জটিলতার কথাও তুলে ধরেন ইমরান হাসান। তিনি বলেন, একটি রেস্তোরাঁ চালু ও পরিচালনার জন্য বর্তমানে বিভিন্ন দপ্তর থেকে ১০ থেকে ১২টি অনুমোদন নিতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। এতে ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি কার্যকর তদারকিও বাধাগ্রস্ত হয়। এ পরিস্থিতিতে খাতটিকে একটি সমন্বিত কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থার আওতায় এনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর প্রস্তাব দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে হোটেল-রেস্তোরাঁ শিল্পের জন্য পৃথক শিল্পনীতি প্রণয়নের দাবিও জানানো হয়। ইমরান হাসান বলেন, একটি স্বতন্ত্র শিল্পনীতি থাকলে লাইসেন্সিং, কর ও ভ্যাট ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং উদ্যোক্তা সহায়তাসহ বিভিন্ন বিষয় একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা সম্ভব হবে। বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার পৃথক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে উদ্যোক্তাদের অতিরিক্ত ব্যয় ও নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সহ-সভাপতি শাহ সুলতান খোকন, যুগ্ম মহাসচিব ফিরোজ আলম সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিকুর ইসলামসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।