প্রবীণদের জন্য ট্রেন ভ্রমণ ফ্রি, মেট্রোরেলে ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড়
- প্রকাশের সময় : ০৭:১০:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
- / 17
৬৫ বছর ও তদূর্ধ্ব প্রবীণ নাগরিকদের জন্য ট্রেনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ভ্রমণ এবং মেট্রোরেলে ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে এ সুবিধার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ ঘোষণা দেন।
বাজেট বক্তৃতায় তিনি জানান, প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের অংশ হিসেবে ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে সিনিয়র সিটিজেনরা ট্রেনে বিনামূল্যে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে রাজধানীর পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন মেট্রোরেলে তাদের জন্য ২৫ শতাংশ বিশেষ ভাড়া ছাড় কার্যকর করা হবে।
এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম সারা দেশে বিস্তৃত করা হবে। আগামী অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যার জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৮ লাখে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাসিক প্রতিবন্ধী ভাতা ১ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ভাতাভোগীর সংখ্যা ১ লাখে উন্নীত করা হবে। স্তরভেদে তাদের মাসিক ভাতা ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১৮ দশমিক ৯৫ লাখ মা ও শিশুকে মাসিক ৮৫০ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ক্যানসারসহ ছয়টি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের এককালীন আর্থিক সহায়তা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাজেটে বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতায় অবসর গ্রহণের সময় মোট সঞ্চিত অর্থের ৩০ শতাংশ গ্র্যাচুইটি হিসেবে প্রদানের সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়।
অন্যদিকে, সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ২০ হাজার টাকা অপরিবর্তিত রাখা হলেও খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের ভাতা ৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের ভাতা ৪০ হাজার টাকা, বীর উত্তম ৩০ হাজার টাকা এবং বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক পরিবারের ভাতা ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের জন্য মাসিক ২০ হাজার টাকা এবং আহতদের জন্য ক্যাটাগরি অনুযায়ী ২০ হাজার, ১৫ হাজার ও ১০ হাজার টাকা ভাতা অব্যাহত থাকবে বলে বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে বাজেট ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে পূরণের পরিকল্পনা করেছে সরকার।





















