Dhaka ১২:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধরের ঘটনায় মামলা, তিন পুলিশ প্রত্যাহার কালীগঞ্জে যুব প্রতিনিধি সমাবেশ ও মাদক প্রতিরোধ কমিটি গঠন বাবার স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী রাজবাড়ীতে রাবেয়া-কাদের স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ফল উৎসব হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৫৪ হাজার ৩২৩ হাজি ঢাকা-চট্টগ্রামসহ ১১ অঞ্চলে দমকা হাওয়া-বজ্রবৃষ্টির আভাস ইরানের ইউরেনিয়াম দখল করতে চেয়েছিল মার্কিন বাহিনী, ঠেকিয়েছেন ট্রাম্প গলা টিপে ধরে বলল তুই আসামি, কথা বলবি না : ক্রিকেটার নাঈম হাসান কক্সবাজারে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতিহাসগড়া জয়ে বিশ্বকাপ শুরু স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের

পোকায় ধরা মায়ের মরদেহ পড়ে ছিল সপ্তাহজুড়ে, জানেন না যুগ্ম সচিব-বুয়েট শিক্ষক ছেলেরা

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৯:১৮:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
  • / 50

ঢাকার মিরপুর-১১ এলাকায় একটি ফ্ল্যাট থেকে নুরজাহান বেগম (৭২) নামে এক বৃদ্ধার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের একটি বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

পুলিশের ধারণা, অন্তত সাত থেকে আট দিন আগে ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় মরদেহে পচন ধরে এবং পোকা জন্মেছে।

পল্লবী থানার ওসি মো. হাসান বাসির জানান, নুরজাহান বেগম তার মেয়ের সঙ্গে একই বাসায় থাকলেও আলাদা কক্ষে অবস্থান করতেন। কয়েকদিন কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে মেয়েটি এক নার্সকে ডেকে আনেন। নার্স কক্ষে গিয়ে বৃদ্ধাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা মরদেহ উদ্ধার করে।

ওসি বলেন, বৃদ্ধার মেয়ের দেওয়া তথ্য সন্তোষজনক মনে হয়নি। তিনি মৃত্যুর সঠিক সময়ও বলতে পারেননি। তাই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃদ্ধার মেয়ের স্বামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ছিলেন, যিনি প্রায় পাঁচ বছর আগে মারা যান।

পুলিশ জানায়, যে কক্ষে নুরজাহান বেগম থাকতেন সেটি ছিল অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন ও আবর্জনায় ভরা। কক্ষের পরিবেশ দেখে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও পরিচর্যার অভাবে ছিলেন।

তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, মৃত নুরজাহান বেগমের তিন ছেলে সমাজে উচ্চপদে প্রতিষ্ঠিত। তাদের একজন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, একজন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং অন্যজন কানাডাপ্রবাসী। তবে কেউই মায়ের সঙ্গে থাকতেন না।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অন্তত এক সপ্তাহ আগে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

পোকায় ধরা মায়ের মরদেহ পড়ে ছিল সপ্তাহজুড়ে, জানেন না যুগ্ম সচিব-বুয়েট শিক্ষক ছেলেরা

প্রকাশের সময় : ০৯:১৮:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

ঢাকার মিরপুর-১১ এলাকায় একটি ফ্ল্যাট থেকে নুরজাহান বেগম (৭২) নামে এক বৃদ্ধার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের একটি বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

পুলিশের ধারণা, অন্তত সাত থেকে আট দিন আগে ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় মরদেহে পচন ধরে এবং পোকা জন্মেছে।

পল্লবী থানার ওসি মো. হাসান বাসির জানান, নুরজাহান বেগম তার মেয়ের সঙ্গে একই বাসায় থাকলেও আলাদা কক্ষে অবস্থান করতেন। কয়েকদিন কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে মেয়েটি এক নার্সকে ডেকে আনেন। নার্স কক্ষে গিয়ে বৃদ্ধাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা মরদেহ উদ্ধার করে।

ওসি বলেন, বৃদ্ধার মেয়ের দেওয়া তথ্য সন্তোষজনক মনে হয়নি। তিনি মৃত্যুর সঠিক সময়ও বলতে পারেননি। তাই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃদ্ধার মেয়ের স্বামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ছিলেন, যিনি প্রায় পাঁচ বছর আগে মারা যান।

পুলিশ জানায়, যে কক্ষে নুরজাহান বেগম থাকতেন সেটি ছিল অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন ও আবর্জনায় ভরা। কক্ষের পরিবেশ দেখে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও পরিচর্যার অভাবে ছিলেন।

তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, মৃত নুরজাহান বেগমের তিন ছেলে সমাজে উচ্চপদে প্রতিষ্ঠিত। তাদের একজন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, একজন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং অন্যজন কানাডাপ্রবাসী। তবে কেউই মায়ের সঙ্গে থাকতেন না।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অন্তত এক সপ্তাহ আগে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।