Dhaka ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভারতে যুবকের দেহে মিলল নারীর প্রজনন অঙ্গ, বিস্মিত চিকিৎসকেরা মারা গেলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের গোপালগঞ্জ জেলা সভাপতি রাশিয়া ও ইউক্রেন জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে: ট্রাম্প তিন বছরের শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা, লাশ লুকানো হয় ঘরের আলনার পেছনে জনগণের প্রতিটি পয়সা দেশের স্বার্থে ব্যয় করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী বালিয়াকান্দীতে ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা দেখতে হাজারো মানুষের ভিড় মান্দায় বৃদ্ধকে ফাঁদে ফেলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, গ্রেফতার ১ শৈলকুপায় ইটভাটায় ট্রাক্টরচাপায় মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু

পোকায় ধরা মায়ের মরদেহ পড়ে ছিল সপ্তাহজুড়ে, জানেন না যুগ্ম সচিব-বুয়েট শিক্ষক ছেলেরা

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৯:১৮:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
  • / 120

ঢাকার মিরপুর-১১ এলাকায় একটি ফ্ল্যাট থেকে নুরজাহান বেগম (৭২) নামে এক বৃদ্ধার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের একটি বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

পুলিশের ধারণা, অন্তত সাত থেকে আট দিন আগে ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় মরদেহে পচন ধরে এবং পোকা জন্মেছে।

পল্লবী থানার ওসি মো. হাসান বাসির জানান, নুরজাহান বেগম তার মেয়ের সঙ্গে একই বাসায় থাকলেও আলাদা কক্ষে অবস্থান করতেন। কয়েকদিন কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে মেয়েটি এক নার্সকে ডেকে আনেন। নার্স কক্ষে গিয়ে বৃদ্ধাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা মরদেহ উদ্ধার করে।

ওসি বলেন, বৃদ্ধার মেয়ের দেওয়া তথ্য সন্তোষজনক মনে হয়নি। তিনি মৃত্যুর সঠিক সময়ও বলতে পারেননি। তাই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃদ্ধার মেয়ের স্বামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ছিলেন, যিনি প্রায় পাঁচ বছর আগে মারা যান।

পুলিশ জানায়, যে কক্ষে নুরজাহান বেগম থাকতেন সেটি ছিল অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন ও আবর্জনায় ভরা। কক্ষের পরিবেশ দেখে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও পরিচর্যার অভাবে ছিলেন।

তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, মৃত নুরজাহান বেগমের তিন ছেলে সমাজে উচ্চপদে প্রতিষ্ঠিত। তাদের একজন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, একজন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং অন্যজন কানাডাপ্রবাসী। তবে কেউই মায়ের সঙ্গে থাকতেন না।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অন্তত এক সপ্তাহ আগে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

পোকায় ধরা মায়ের মরদেহ পড়ে ছিল সপ্তাহজুড়ে, জানেন না যুগ্ম সচিব-বুয়েট শিক্ষক ছেলেরা

প্রকাশের সময় : ০৯:১৮:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

ঢাকার মিরপুর-১১ এলাকায় একটি ফ্ল্যাট থেকে নুরজাহান বেগম (৭২) নামে এক বৃদ্ধার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের একটি বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

পুলিশের ধারণা, অন্তত সাত থেকে আট দিন আগে ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় মরদেহে পচন ধরে এবং পোকা জন্মেছে।

পল্লবী থানার ওসি মো. হাসান বাসির জানান, নুরজাহান বেগম তার মেয়ের সঙ্গে একই বাসায় থাকলেও আলাদা কক্ষে অবস্থান করতেন। কয়েকদিন কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে মেয়েটি এক নার্সকে ডেকে আনেন। নার্স কক্ষে গিয়ে বৃদ্ধাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা মরদেহ উদ্ধার করে।

ওসি বলেন, বৃদ্ধার মেয়ের দেওয়া তথ্য সন্তোষজনক মনে হয়নি। তিনি মৃত্যুর সঠিক সময়ও বলতে পারেননি। তাই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃদ্ধার মেয়ের স্বামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ছিলেন, যিনি প্রায় পাঁচ বছর আগে মারা যান।

পুলিশ জানায়, যে কক্ষে নুরজাহান বেগম থাকতেন সেটি ছিল অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন ও আবর্জনায় ভরা। কক্ষের পরিবেশ দেখে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও পরিচর্যার অভাবে ছিলেন।

তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, মৃত নুরজাহান বেগমের তিন ছেলে সমাজে উচ্চপদে প্রতিষ্ঠিত। তাদের একজন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, একজন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং অন্যজন কানাডাপ্রবাসী। তবে কেউই মায়ের সঙ্গে থাকতেন না।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অন্তত এক সপ্তাহ আগে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।