বালিয়াকান্দিতে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ
- প্রকাশের সময় : ১১:১১:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 107
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোছাঃ তাজমুন্নাহারের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, ফাইল আটকে রাখা ও নিয়মিত অফিস না করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় অসন্তোষ বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা চত্বরে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সামনে “উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোছাঃ তাজমুন্নাহারের বিরুদ্ধে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন—প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার, বালিয়াকান্দি, রাজবাড়ী” লেখা ব্যানার নিয়ে শতাধিক শিক্ষক মানববন্ধনের প্রস্তুতি নেন। তবে পরবর্তীতে অজ্ঞাত কারণে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।
শিক্ষকদের লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের মার্চে যোগদানের পর থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিভিন্ন বিল ও প্রশাসনিক ফাইলে স্বাক্ষর দিতে বিলম্ব করছেন এবং অর্থ দাবি করছেন। স্লিপ ফান্ড, কন্টিনজেন্সি বিল, ক্ষুদ্র মেরামত বিল, টাইম স্কেলের বকেয়া, ২০১০ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বেতন সমতাকরণের বকেয়া, বিদ্যুৎ বিল এবং পিআরএল-সংক্রান্ত ফাইল দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। বিশেষ করে ১১৬ জন শিক্ষকের শ্রান্তি বিনোদন ভাতা কয়েক মাস ধরে স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে বলে দাবি শিক্ষকদের।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বদলি প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে। চাপড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শম্পা বিশ্বাসের কাছ থেকে বদলির জন্য সাত হাজার টাকা এবং গাড়াকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাশিদুল ইসলামের কাছ থেকে বেতন সমতাকরণের বকেয়া বিল বাবদ ৭৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
শিক্ষকদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সপ্তাহে তিন দিনের বেশি অফিস করেন না। অধিকাংশ সময় সোমবার বিকেলে অফিসে এসে বুধবার সকালে বিদ্যালয় পরিদর্শনের কথা বলে অফিস ত্যাগ করেন। অনেক সপ্তাহে তাঁকে অফিসে পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে ফিরে যাচ্ছেন। ফোনেও অনেক সময় যোগাযোগ করা যায় না বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
শিক্ষকদের পক্ষ থেকে সহকারী শিক্ষক রাশিদুল ইসলাম জেলা প্রশাসক, রাজবাড়ী বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিবাদ করলে বদলি, শোকজ এমনকি চাকরি থেকে বরখাস্তের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, ফলে শিক্ষক সমাজের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোছাঃ তাজমুন্নাহারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তবিবুর রহমান বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি বালিয়াকান্দিতে গেছে। তিনি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, ফিরে এসে বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষকরা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
























