সেই ‘ডলার’ প্রসঙ্গ নিয়ে ভিন্ন কথা রামিসার বাবার
- প্রকাশের সময় : ০৯:৫০:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
- / 14
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আলোচিত ‘ডলার’ নামের ব্যক্তির কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।
তিনি বলেন, “কারাগারে থাকার সময় কারও পরামর্শে আইনগত বা অন্য কোনো সুবিধা পাওয়ার আশায় আসামি সোহেল রানা ডলারের নাম উল্লেখ করে থাকতে পারে। এর বাইরে অন্য কোনো কারণ আছে বলে মনে হয় না।”
সম্প্রতি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা চিৎকার করে বলেন, “আপনারা মেইন আসামি ডলারকে ধরেন, সে রামিসাকে মেরেছে।” এরপর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তদন্তে ডলার নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এদিকে বহুল আলোচিত এ ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় আগামীকাল রোববার (৭ জুন) ঘোষণা করা হবে। ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ রায় ঘোষণা করবেন।
রাষ্ট্রপক্ষ সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে। তাদের মতে, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও জবানবন্দির মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে বলেন, “সোহেল রানা শিশু রামিসাকে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করেন। পরে গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় স্বপ্না আক্তার তাকে সহযোগিতা করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরার মাধ্যমে তাদের অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। তাই আমরা তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রার্থনা করছি।”
অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা মূলত আসামির জবানবন্দির ভিত্তিতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরির ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়নি। তাই কেবল জবানবন্দির ভিত্তিতে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া সমীচীন হবে না।
তিনি আদালতের কাছে সোহেল রানার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন জানিয়ে বলেন, ঘটনার সময় তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন। আর স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে লাশ গোপনের অভিযোগ ছাড়া অন্য কোনো প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ সাক্ষীদের বক্তব্যে পাওয়া যায়নি।
এর আগে আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে সোহেল রানা নিজের অপরাধ স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১৯ মে সকালে পল্লবীর একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার নিখোঁজ হয়। পরে প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তারের ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যরা শয়নকক্ষের মেঝেতে শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির ভেতরে তার কাটা মাথা দেখতে পান।
এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থল থেকে এবং সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।
গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অহিদুজ্জামান দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
























