Dhaka ০৪:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
অপপ্রচারের মাধ্যমে সরকারের কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে : রিজভী ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লাইট চালু সাড়ে ৬ বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ হাজার ৭১২ জন জেআইসিতে আটকে তারেক রহমানকেও নির্যাতন করা হয়েছিল : চিফ প্রসিকিউটর নওগাঁয় ডিবির অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার তনু হত্যা মামলায় ফের গ্রেপ্তার সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান মজুতদারির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, ভেবেচিন্তে করবেন: আইনমন্ত্রী জ্বালানি খাত অস্থিতিশীল করতে একটি চক্র সক্রিয় : প্রধানমন্ত্রী স্ত্রী মশা দমনে যুক্তরাষ্ট্রে ছাড়া হবে ৬ লাখ পুরুষ মশা ড্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চিকিৎসক সমাবেশ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

স্ত্রী মশা দমনে যুক্তরাষ্ট্রে ছাড়া হবে ৬ লাখ পুরুষ মশা

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১২:৩২:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / 21

মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে নতুন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রায় ৬ লাখ পুরুষ এশিয়ান টাইগার মশা ছাড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব পুরুষ মশার শরীরে রয়েছে ‘ওলবাকিয়া’ নামের একটি প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া। পুরুষ মশা মানুষকে কামড়ায় না।

এই পদ্ধতিতে ওলবাকিয়াযুক্ত পুরুষ মশাগুলোকে ব্যাকটেরিয়াবিহীন স্ত্রী মশার সঙ্গে মিলিত হতে দেওয়া হয়। ফলে স্ত্রী মশার ডিম ফুটে বাচ্চা হয় না। এভাবে ধীরে ধীরে মশার সংখ্যা কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়।

মশা নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ‘বি সেফ মসকুইটো কন্ট্রোল’-এর প্রতিষ্ঠাতা টড মন্টগোমারি এ উদ্যোগ নিয়েছেন। গ্রীষ্মের শেষ নাগাদ ওয়াশিংটনের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় প্রায় ৬ লাখ পুরুষ মশা ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে ২৫ জন গ্রাহক এ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছেন। প্রত্যেক গ্রাহক ১৬ সপ্তাহ ধরে প্রতি সপ্তাহে ১ হাজার ৫০০টি করে পুরুষ মশা পাচ্ছেন।

মন্টগোমারি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক এলাকায় উষ্ণ ও আর্দ্র দিনের সংখ্যা বাড়ছে। এতে রোগ ছড়ানো মশার বংশবিস্তার ও সক্রিয় থাকার সময়ও বাড়ছে। তাই মশা নিয়ন্ত্রণে রাসায়নিক কীটনাশকের বিকল্প খুঁজে বের করা প্রয়োজন।

মূলত এশিয়ান টাইগার মশার বিরুদ্ধে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। মশাটি যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় প্রজাতি নয়। তবে এটি ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের জীবাণু ছড়াতে পারে। উত্তর ভার্জিনিয়ায় স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর মশাবাহিত রোগ নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে।

মন্টগোমারি জানান, কীটনাশকের ব্যবহার কমানোই তাঁর উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। তাঁর কয়েকজন গ্রাহক পরিবার ও পোষা প্রাণীর ওপর রাসায়নিক কীটনাশকের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও উদ্বিগ্ন। তাই তারা মশা নিয়ন্ত্রণে এই বিকল্প পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন।

তবে ওলবাকিয়া পদ্ধতি নতুন নয়। সিঙ্গাপুরে ২০১৬ সাল থেকে ‘প্রজেক্ট ওলবাকিয়া’ নামে বড় পরিসরে এ ধরনের কর্মসূচি চলছে। সেখানে প্রতি সপ্তাহে এক কোটিরও বেশি পুরুষ মশা ছাড়ার কথা জানা গেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ওলবাকিয়াযুক্ত মশা ব্যবহারের মাধ্যমে এডিস ইজিপ্টাই মশার সংখ্যা কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মশা নিয়ন্ত্রণে এই পদ্ধতি নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে।

সূত্র: এএফপি

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

স্ত্রী মশা দমনে যুক্তরাষ্ট্রে ছাড়া হবে ৬ লাখ পুরুষ মশা

প্রকাশের সময় : ১২:৩২:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে নতুন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রায় ৬ লাখ পুরুষ এশিয়ান টাইগার মশা ছাড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব পুরুষ মশার শরীরে রয়েছে ‘ওলবাকিয়া’ নামের একটি প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া। পুরুষ মশা মানুষকে কামড়ায় না।

এই পদ্ধতিতে ওলবাকিয়াযুক্ত পুরুষ মশাগুলোকে ব্যাকটেরিয়াবিহীন স্ত্রী মশার সঙ্গে মিলিত হতে দেওয়া হয়। ফলে স্ত্রী মশার ডিম ফুটে বাচ্চা হয় না। এভাবে ধীরে ধীরে মশার সংখ্যা কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়।

মশা নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ‘বি সেফ মসকুইটো কন্ট্রোল’-এর প্রতিষ্ঠাতা টড মন্টগোমারি এ উদ্যোগ নিয়েছেন। গ্রীষ্মের শেষ নাগাদ ওয়াশিংটনের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় প্রায় ৬ লাখ পুরুষ মশা ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে ২৫ জন গ্রাহক এ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছেন। প্রত্যেক গ্রাহক ১৬ সপ্তাহ ধরে প্রতি সপ্তাহে ১ হাজার ৫০০টি করে পুরুষ মশা পাচ্ছেন।

মন্টগোমারি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক এলাকায় উষ্ণ ও আর্দ্র দিনের সংখ্যা বাড়ছে। এতে রোগ ছড়ানো মশার বংশবিস্তার ও সক্রিয় থাকার সময়ও বাড়ছে। তাই মশা নিয়ন্ত্রণে রাসায়নিক কীটনাশকের বিকল্প খুঁজে বের করা প্রয়োজন।

মূলত এশিয়ান টাইগার মশার বিরুদ্ধে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। মশাটি যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় প্রজাতি নয়। তবে এটি ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের জীবাণু ছড়াতে পারে। উত্তর ভার্জিনিয়ায় স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর মশাবাহিত রোগ নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে।

মন্টগোমারি জানান, কীটনাশকের ব্যবহার কমানোই তাঁর উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। তাঁর কয়েকজন গ্রাহক পরিবার ও পোষা প্রাণীর ওপর রাসায়নিক কীটনাশকের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও উদ্বিগ্ন। তাই তারা মশা নিয়ন্ত্রণে এই বিকল্প পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন।

তবে ওলবাকিয়া পদ্ধতি নতুন নয়। সিঙ্গাপুরে ২০১৬ সাল থেকে ‘প্রজেক্ট ওলবাকিয়া’ নামে বড় পরিসরে এ ধরনের কর্মসূচি চলছে। সেখানে প্রতি সপ্তাহে এক কোটিরও বেশি পুরুষ মশা ছাড়ার কথা জানা গেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ওলবাকিয়াযুক্ত মশা ব্যবহারের মাধ্যমে এডিস ইজিপ্টাই মশার সংখ্যা কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মশা নিয়ন্ত্রণে এই পদ্ধতি নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে।

সূত্র: এএফপি