ঘানার সঙ্গে ড্র, তবু আতঙ্কের কিছু দেখছে না ইংল্যান্ড
- প্রকাশের সময় : ১০:৪৯:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
- / 4
ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দাপুটে জয়ের পর ইংল্যান্ডকে নিয়ে যে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছিল, ঘানার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র সেই উচ্ছ্বাসে অনেকটাই পানি ঢেলে দিয়েছে। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে ঘানার রক্ষণভাগ ভেদ করতে ব্যর্থ হয়ে ০-০ সমতায় মাঠ ছাড়ে থমাস টুখেলের দল।
তবে হতাশাজনক এই ফলের পরও ইংল্যান্ড শিবিরে উদ্বেগের কোনো ছাপ নেই। দলের মিডফিল্ডার ডেকলান রাইস ম্যাচ শেষে বলেছেন, গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রাখার সুযোগ এখনও তাদের হাতেই আছে।
ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে প্রশংসা কুড়িয়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু ঘানা সম্পূর্ণ ভিন্ন কৌশল নেয়। নিজেদের অর্ধে গুটিয়ে থেকে শক্ত রক্ষণ গড়ে তোলে আফ্রিকান দলটি। পুরো ম্যাচে ৭৮ শতাংশের বেশি সময় বলের দখল ইংল্যান্ডের কাছে থাকলেও ভালো আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি তারা।
ঘানার কোচ কার্লোস কুইরোজ ম্যাচ শেষে খোঁচা দিয়ে বলেন, ইংল্যান্ডের কাছে কোনো সমাধান ছিল না। টুখেল অবশ্য প্রতিপক্ষের কৌশলের প্রশংসা করে বলেন, গভীর রক্ষণভাগ নিয়ে খেলা দলের বিপক্ষে সুযোগ তৈরি করা সহজ নয়। ঘানা ০-০ ড্রকে জয়ের মতো করেই উদ্যাপন করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইংল্যান্ডের আক্রমণে সবচেয়ে বড় হতাশার নাম হ্যারি কেইন। ঘানার রক্ষণে তিনি প্রায় অদৃশ্য ছিলেন। প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের বক্সে মাত্র দুইবার বল ছুঁয়েছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। শেষ দিকে পাওয়া একটি ভালো সুযোগও কাজে লাগাতে পারেননি।
উইংয়ে অ্যান্থনি গর্ডনও প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হন। বদলি হিসেবে নামা বুকায়ো সাকা অন্তত কিছুটা প্রাণ ফেরান ইংল্যান্ডের আক্রমণে। তার নেওয়া একটি শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ঘানার গোলরক্ষক বেঞ্জামিন আসারে। ফলে আগামী ম্যাচে সাকা ও মার্কাস রাশফোর্ডকে শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ওয়েইন রুনি মনে করেন, পানামার বিপক্ষে ম্যাচে টুখেল দলে পরিবর্তন আনবেন। তার মতে, ঘানার মতো নিচু রক্ষণভাগের বিপক্ষে আরও বেশি ক্রস করা প্রয়োজন ছিল, যা ইংল্যান্ড যথেষ্ট করেনি। মিডফিল্ডেও সৃজনশীলতার অভাব ছিল স্পষ্ট। মরগান গিবস-হোয়াইট বা অ্যাডাম হোয়ার্টনের মতো খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি অনুভূত হয়েছে। একই সঙ্গে দলে না থাকা কোল পামার ও ফিল ফোডেনের সৃজনশীলতাও ইংল্যান্ডকে সাহায্য করতে পারত।
তবে ম্যাচের শেষ দিকে জয় পাওয়ার সুযোগ ছিল ইংল্যান্ডের। নিকো ও’রাইলির হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে, আর মার্ক গেহির হেড গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেয় ঘানার রক্ষণভাগ।
অন্যদিকে ঘানাও খালি হাতে ফিরতে পারত না। ম্যাচের শেষ দিকে প্রিন্স কওয়াবেনা আদুকে বক্সের মধ্যে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় পেনাল্টির জোরালো দাবি তোলে তারা। রিপ্লেতে দেখা যায়, ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার এজরি কনসা বলের বদলে খেলোয়াড়ের গায়েই স্পর্শ করেছিলেন। তবে রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দেন। ফলে এক পয়েন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে দুই দলকে। তবু গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে ইংল্যান্ড এবং পানামার বিপক্ষে জয় পেলেই শেষ বত্রিশে গ্রুপসেরা হিসেবে ওঠার সম্ভাবনা থাকবে তাদের সামনে।
সূত্র : বিবিসি


























