মহেশপুরে তালাকপ্রাপ্তা রিনা ফিরলেন স্বামীর সংসারে
ওসির হস্তক্ষেপে পুনর্মিলন, হাসি ফিরল যমজ কন্যাসন্তানের জীবনে
- প্রকাশের সময় : ১১:১৯:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
- / 16
মধ্যযুগীয় মানসিকতার অবসান ঘটিয়ে ঝিনাইদহের মহেশপুরে যমজ কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার কারণে তালাকপ্রাপ্তা রিনা খাতুন অবশেষে স্বামীর সংসারে ফিরে গেছেন। মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসানের মানবিক উদ্যোগ ও মধ্যস্থতায় ভাঙনের মুখে থাকা একটি পরিবারে আবারও মিলনের সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে।
জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে মহেশপুর উপজেলার কাজিরবের ইউনিয়নের নতুন কোলা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী পুরাতন কোলা গ্রামের মৃত পীর বক্সের মেয়ে রিনা খাতুনের বিয়ে হয়। সংসার জীবনের একপর্যায়ে রিনা অন্তঃসত্ত্বা হলে আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে জানা যায়, তার গর্ভে যমজ কন্যাসন্তান রয়েছে। এরপর থেকেই স্বামী ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে রিনার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।
পরিস্থিতির একপর্যায়ে রিনা বাবার বাড়িতে চলে যান। সেখানেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি দুটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। সন্তান জন্মের পরও স্বামী বা তার পরিবারের কেউ শিশুদের দেখতে যাননি। বরং রিনাকে তালাকনামা পাঠানো হয় এবং সন্তানদের বিক্রি করে দেনমোহরের টাকা পরিশোধ করার মতো অমানবিক হুমকির অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কয়েক দফা সালিশ বৈঠকের উদ্যোগ নিলেও সমাধান হয়নি। পরে বিষয়টি মহেশপুর থানা পুলিশের নজরে এলে ওসি মেহেদী হাসান উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে আনেন।
থানায় দীর্ঘ আলোচনার পর স্বামী রাকিবুল ইসলাম নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং কন্যাসন্তানদের প্রতি দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করেন। অন্যদিকে যমজ সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে রিনা খাতুনও অতীতের তিক্ততা ভুলে স্বামীকে ক্ষমা করে দেন।
পরে উভয় পক্ষ নতুন করে সংসার জীবন শুরু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। থানাতেই তাদের পুনর্মিলন সম্পন্ন হয় এবং তারা একসঙ্গে ঘরে ফেরেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, একটি ভাঙনের মুখে থাকা পরিবারকে রক্ষা করে এবং দুটি নিষ্পাপ শিশুকে পিতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়ে মহেশপুর থানা পুলিশ মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
এ বিষয়ে মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, “শিশু দুটির ভবিষ্যৎ ও পরিবারের স্বার্থ বিবেচনা করে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তারা পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা চাই পরিবারটি সুন্দরভাবে জীবনযাপন করুক।”
ঘটনার এমন ইতিবাচক সমাপ্তিতে ভুক্তভোগী পরিবার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী মহেশপুর থানা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।






















