Dhaka ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
রাখাইনে মিয়ানমারের বিমান বাহিনীর অভিযানে ৪৯ জন নিহত রূপপুরের জ্বালানি পরিবহনে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারে অস্বীকৃতি ‘কারিগরি বিষয়’ জাতিসংঘে বাংলাদেশের মর্যাদাপূর্ণ অংশগ্রহণ, অভিনন্দন মন্ত্রিসভার পুলিশ ভেরিফিকেশনে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে জাবিতে ছাত্রশক্তির লাল কার্ড পত্নীতলায় ২৫ বোতল আরসি কাফসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেফতার কাতারের এলএনজি সরবরাহ বন্ধ, চাপে ভারত-পাকিস্তান-ইতালি-বাংলাদেশ অবৈধ ২২ অনলাইন পেমেন্ট এগ্রিগেটর প্ল্যাটফর্ম নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কবার্তা জাবির ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের নতুন সভাপতি মুনতাকিমুল বারী ন্যাম ভবনে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীকে বারান্দায়ও ঘুমাতে হতো: পুলিশ নির্বাচনে প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করতে হাইকোর্টের রুল

প্রতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইনহাউস কোচিংয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০১:১৫:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • / 84

 

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, প্রিটেস্ট ও টেস্ট পরীক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য ইনহাউস কোচিংয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে। একইসঙ্গে স্থানীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষকদের সম্মানীর বিষয়টিও নির্ধারণ করার আহ্বানও জানান তিনি।

বুধবার রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষাজীবনের সময়ক্ষেপণ কমাতে পরীক্ষা সূচিতে পরিবর্তনের কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দুই বছরের কোর্স শেষ হওয়ার পরই যেন পাবলিক পরীক্ষা নেওয়া যায়, সেই লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এ কারণে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশের লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া, আগামী ২ জুলাই শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা।

তিনি বলেন, বর্তমানে একজন শিক্ষার্থী ছয় বছর বয়সে স্কুলে ভর্তি হয়ে এসএসসি শেষ করতে ১৬ বছর বয়সে পৌঁছায়। এরপর উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় শেষ হতে আরও দীর্ঘ সময় লেগে যায়। অতীতে পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশে অতিরিক্ত সময় লাগায় একজন শিক্ষার্থীর উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় শেষ করতে প্রায় ২০ বছর বয়স হয়ে যেত। এতে শিক্ষার্থীদের উৎপাদনশীল সময় নষ্ট হয় এবং দেশের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি আরও বলেন, এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরীক্ষা ও ফল প্রকাশের সময়কে সমন্বিত করার চেষ্টা করছে। ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে রমজান ও ঈদকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মতামত নিয়েই পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হচ্ছে। তবে নির্ধারিত কোর্স শেষ করা হবে বলে তিনি জানান।

পরীক্ষায় অনিয়ম ও নকলের বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, নকলের ধরন বদলেছে। এ কারণে পাবলিক পরীক্ষা সংক্রান্ত আইন পরিবর্তন করা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানে নকল বা ডিজিটাল জালিয়াতির প্রমাণ মিললে শুধু পরীক্ষার্থী নয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানকেও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধেও সরকার সক্রিয় রয়েছে বলে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত পরীক্ষায় আমি নিজে বিভিন্ন পর্যায়ে তদারকি করেছি এবং সম্ভাব্য দুর্বল জায়গা শনাক্তের চেষ্টা করেছি। এবার সারা দেশে একক প্রশ্নপত্র ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোথাও প্রশ্নফাঁস বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতে অনেক শিক্ষককে অতিরিক্ত খাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হতো, ফলে যথাযথ মূল্যায়ন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকত। এখন পরীক্ষক প্রশিক্ষণ বাড়ানো, পরীক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সীমিত সংখ্যক খাতা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খাতা স্যাম্পলিংয়ের মাধ্যমে মূল্যায়নের মানও পর্যবেক্ষণ করা হবে।

এ সময় ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর আক্তারুজ্জামান, সচিব অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

প্রতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইনহাউস কোচিংয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০১:১৫:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

 

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, প্রিটেস্ট ও টেস্ট পরীক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য ইনহাউস কোচিংয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে। একইসঙ্গে স্থানীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষকদের সম্মানীর বিষয়টিও নির্ধারণ করার আহ্বানও জানান তিনি।

বুধবার রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষাজীবনের সময়ক্ষেপণ কমাতে পরীক্ষা সূচিতে পরিবর্তনের কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দুই বছরের কোর্স শেষ হওয়ার পরই যেন পাবলিক পরীক্ষা নেওয়া যায়, সেই লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এ কারণে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশের লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া, আগামী ২ জুলাই শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা।

তিনি বলেন, বর্তমানে একজন শিক্ষার্থী ছয় বছর বয়সে স্কুলে ভর্তি হয়ে এসএসসি শেষ করতে ১৬ বছর বয়সে পৌঁছায়। এরপর উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় শেষ হতে আরও দীর্ঘ সময় লেগে যায়। অতীতে পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশে অতিরিক্ত সময় লাগায় একজন শিক্ষার্থীর উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় শেষ করতে প্রায় ২০ বছর বয়স হয়ে যেত। এতে শিক্ষার্থীদের উৎপাদনশীল সময় নষ্ট হয় এবং দেশের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি আরও বলেন, এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরীক্ষা ও ফল প্রকাশের সময়কে সমন্বিত করার চেষ্টা করছে। ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে রমজান ও ঈদকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মতামত নিয়েই পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হচ্ছে। তবে নির্ধারিত কোর্স শেষ করা হবে বলে তিনি জানান।

পরীক্ষায় অনিয়ম ও নকলের বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, নকলের ধরন বদলেছে। এ কারণে পাবলিক পরীক্ষা সংক্রান্ত আইন পরিবর্তন করা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানে নকল বা ডিজিটাল জালিয়াতির প্রমাণ মিললে শুধু পরীক্ষার্থী নয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানকেও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধেও সরকার সক্রিয় রয়েছে বলে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত পরীক্ষায় আমি নিজে বিভিন্ন পর্যায়ে তদারকি করেছি এবং সম্ভাব্য দুর্বল জায়গা শনাক্তের চেষ্টা করেছি। এবার সারা দেশে একক প্রশ্নপত্র ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোথাও প্রশ্নফাঁস বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতে অনেক শিক্ষককে অতিরিক্ত খাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হতো, ফলে যথাযথ মূল্যায়ন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকত। এখন পরীক্ষক প্রশিক্ষণ বাড়ানো, পরীক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সীমিত সংখ্যক খাতা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খাতা স্যাম্পলিংয়ের মাধ্যমে মূল্যায়নের মানও পর্যবেক্ষণ করা হবে।

এ সময় ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর আক্তারুজ্জামান, সচিব অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার উপস্থিত ছিলেন।