Dhaka ১২:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
নিজ দেশে মেসির সবচেয়ে বড় ভাস্কর্য উন্মোচন শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে ৪ দিনেই মিললো সাড়ে ১৭ লাখ টাকা রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে ভূকম্পন অনুভূত রাজবাড়ীতে সাবেক স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া ১৪ দিনে নামিয়ে আনার লক্ষ্য সরকারের : বাণিজ্যমন্ত্রী জাবিতে দুই দিনব্যাপী শিক্ষা-সাহিত্য বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে কালীগঞ্জে বিএনপি ও যুবদলের সতর্ক অবস্থান এখন পর্যন্ত নকআউট পর্বে কারা উঠল, ছিটকে গেল কারা? হরিণাকুণ্ডুতে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা, মাদক নির্মূলে ‘অপারেশন চলবে’ দেশে বর্তমানে ৬৪টি জিআই পণ্য নিবন্ধিত রয়েছে : শিল্পমন্ত্রী

জাবিতে দুই দিনব্যাপী শিক্ষা-সাহিত্য বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

জাবি প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৩৩:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • / 29

 

বাংলা একাডেমি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বাংলা বিভাগের যৌথ উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী শিক্ষা ও সাহিত্যবিষয়ক জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারে শিশুসাহিত্যিক রোকনুজ্জামান খান (দাদাভাই) এবং নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও সমাজচিন্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

রোববার ও সোমবার (২১-২২ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিকী অনুষদ ভবনের বাংলা বিভাগের সেমিনার কক্ষে যথাক্রমে “রোকনুজ্জামান খান: বাস্তবতাবোধ ও জীবনদর্শন” এবং “রোকেয়া: তাঁর সাহিত্য, শিক্ষাব্রত ও জাগৃতি-সাধনা” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রোকনুজ্জামান খান কেবল একজন সাহিত্যিকই ছিলেন না; তিনি দেশের শিশুকিশোরদের মনন ও মানবিক বিকাশে অসামান্য অবদান রেখেছেন। ‘দাদাভাই’ নামে পরিচিত এই সংগঠক ‘কচিকাঁচার মেলা’ ও দৈনিক ইত্তেফাকের ‘কচিকাঁচার আসর’-এর মাধ্যমে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আলোকিত করেছেন। তাঁর ছড়া, কবিতা ও লেখনীতে সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা অসঙ্গতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ফুটে উঠেছে।

সেমিনারের প্রথম দিনে আলোচনায় অংশ নেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. রশীদ হারুন এবং বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. আবু দায়েন। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির সহপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) পিয়াস মজিদ। বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. খালেদ হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কথাসাহিত্যিক ও গবেষক ড. আনিস রহমান।

দ্বিতীয় দিনের সেমিনারে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের সাহিত্য, শিক্ষাচিন্তা এবং নারী জাগরণে তাঁর ঐতিহাসিক অবদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, প্রতিকূল সামাজিক পরিবেশে নারী শিক্ষার প্রসারে রোকেয়ার সাহসী উদ্যোগ ও সংগ্রাম আজও প্রেরণার উৎস। সাহিত্য ও সমাজচিন্তার মাধ্যমে তিনি নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় অংশ নেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা এবং দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির অনুবাদ উপবিভাগের উপপরিচালক সায়েরা হাবীব। এদিন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাবন্ধিক ড. মোরশেদ শফিউল হাসান।

অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারহানা আখতার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, বাংলা একাডেমি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই জাতীয় সেমিনার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের জ্ঞানচর্চা ও গবেষণাকে সমৃদ্ধ করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সেমিনারে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক ও সাহিত্যপ্রেমীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দুই দিনের আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

জাবিতে দুই দিনব্যাপী শিক্ষা-সাহিত্য বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

প্রকাশের সময় : ০৮:৩৩:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

 

বাংলা একাডেমি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বাংলা বিভাগের যৌথ উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী শিক্ষা ও সাহিত্যবিষয়ক জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারে শিশুসাহিত্যিক রোকনুজ্জামান খান (দাদাভাই) এবং নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও সমাজচিন্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

রোববার ও সোমবার (২১-২২ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিকী অনুষদ ভবনের বাংলা বিভাগের সেমিনার কক্ষে যথাক্রমে “রোকনুজ্জামান খান: বাস্তবতাবোধ ও জীবনদর্শন” এবং “রোকেয়া: তাঁর সাহিত্য, শিক্ষাব্রত ও জাগৃতি-সাধনা” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রোকনুজ্জামান খান কেবল একজন সাহিত্যিকই ছিলেন না; তিনি দেশের শিশুকিশোরদের মনন ও মানবিক বিকাশে অসামান্য অবদান রেখেছেন। ‘দাদাভাই’ নামে পরিচিত এই সংগঠক ‘কচিকাঁচার মেলা’ ও দৈনিক ইত্তেফাকের ‘কচিকাঁচার আসর’-এর মাধ্যমে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আলোকিত করেছেন। তাঁর ছড়া, কবিতা ও লেখনীতে সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা অসঙ্গতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ফুটে উঠেছে।

সেমিনারের প্রথম দিনে আলোচনায় অংশ নেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. রশীদ হারুন এবং বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. আবু দায়েন। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির সহপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) পিয়াস মজিদ। বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. খালেদ হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কথাসাহিত্যিক ও গবেষক ড. আনিস রহমান।

দ্বিতীয় দিনের সেমিনারে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের সাহিত্য, শিক্ষাচিন্তা এবং নারী জাগরণে তাঁর ঐতিহাসিক অবদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, প্রতিকূল সামাজিক পরিবেশে নারী শিক্ষার প্রসারে রোকেয়ার সাহসী উদ্যোগ ও সংগ্রাম আজও প্রেরণার উৎস। সাহিত্য ও সমাজচিন্তার মাধ্যমে তিনি নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় অংশ নেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা এবং দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির অনুবাদ উপবিভাগের উপপরিচালক সায়েরা হাবীব। এদিন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাবন্ধিক ড. মোরশেদ শফিউল হাসান।

অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারহানা আখতার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, বাংলা একাডেমি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই জাতীয় সেমিনার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের জ্ঞানচর্চা ও গবেষণাকে সমৃদ্ধ করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সেমিনারে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক ও সাহিত্যপ্রেমীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দুই দিনের আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।