Dhaka ০৪:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
মধুখালীতে দুই মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, মাফিয়া পার্টি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পবিপ্রবিতে কুকুর নির্যাতনের অভিযোগ, তদন্তের দাবি শিক্ষার্থীদের পত্নীতলায় পুলিশের অভিযানে ১১ মাদকসেবী আটক : ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা কোটালীপাড়ায় নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণ পাকিস্তানে জোড়া বিস্ফোরণে নিহত ৭ ৬ দিনের সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, রওনা হবেন রোববার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মাদক উদ্ধার বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হকি খেলোয়াড় আবদুস সাদেক মারা গেছেন

জবির ছাত্রী হলে সম্পূরক বৃত্তির অর্থ বিতরণে অসঙ্গতির অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

জবি প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় : ১২:০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • / 10

 

 

দীর্ঘ আন্দোলন ও প্রতীক্ষার পর সম্পূরক বৃত্তির অর্থ পেতে শুরু করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হল নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তির অর্থ বিতরণে অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) হলের একাধিক আবাসিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, মেসে অবস্থানকালে ভাড়ার রসিদ জমা দিয়ে বৃত্তির জন্য আবেদন করলেও হলে ওঠার পর তাদের অনেকেই সম্পূরক বৃত্তির অর্ধেক অর্থ পেয়েছেন। অন্যদিকে, একই হলে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করা কিছু শিক্ষার্থী পুরো অর্থ পেয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোছা. সোনিয়া আক্তার বলেন, “আমি হলে উঠেছি মাত্র এক সপ্তাহ। আমাকে অর্ধেক টাকা দেওয়া হয়েছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে হলে থাকা অনেকেই পুরো টাকা পেয়েছেন। সবাইকে একই নিয়মে অর্থ দেওয়া হলে আপত্তি থাকত না। কিন্তু এ ধরনের বৈষম্য হতাশাজনক।”

এদিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী দাবি করেছেন, তারা কোনো আবেদন না করেও শুধু ব্যাংক হিসাব হালনাগাদ করার পর বৃত্তির অর্থ পেয়েছেন।

শিক্ষার্থী আক্তার মনি বলেন, “আমি কোনো আবেদন করিনি। শুধু স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্ট হালনাগাদ করে ব্যাংক হিসাব নম্বর যুক্ত করেছিলাম। পরে দেখি আমার হিসাবে পুরো ৯ হাজার টাকা জমা হয়েছে। কীভাবে হলো, তা আমি জানি না।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এক আবাসিক শিক্ষার্থী জানান, তিনি এক বছরের বেশি সময় ধরে হলে অবস্থান করলেও সম্পূর্ণ অর্থ পেয়েছেন।

এ বিষয়ে নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আঞ্জুমান আরা বলেন, “বৃত্তির অর্থ বিতরণ বিষয়ে হল প্রশাসনের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে হল কর্তৃপক্ষকে কিছু জানানো হয়নি।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন বলেন, “হলের শিক্ষার্থীদের অর্ধেক অর্থ দেওয়ার কথা ছিল। তবে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। যদি কোথাও অসঙ্গতি হয়ে থাকে, তাহলে সেটি প্রশাসনিক ভুল কিংবা তথ্যগত সমস্যার কারণে হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব।”

হলের শিক্ষার্থীদের তথ্য প্রশাসনের কাছেই রয়েছে, তাহলে তথ্য গোপনের বিষয়টি কীভাবে সম্ভব— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “তাহলে কোথায় ভুল হয়েছে, সেটিও আমরা পর্যালোচনা করে দেখব।”

উল্লেখ্য, আবাসন সংকট নিরসনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৫৬ কোটি টাকার বিশেষ বা সম্পূরক বৃত্তি প্রদানের ঘোষণা দেয়। তবে দীর্ঘ সময় পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হাতে ১০ কোটি টাকা পৌঁছায়। এই অর্থ বিতরণের প্রক্রিয়ায় ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্যের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

জবির ছাত্রী হলে সম্পূরক বৃত্তির অর্থ বিতরণে অসঙ্গতির অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

প্রকাশের সময় : ১২:০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

 

 

দীর্ঘ আন্দোলন ও প্রতীক্ষার পর সম্পূরক বৃত্তির অর্থ পেতে শুরু করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হল নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তির অর্থ বিতরণে অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) হলের একাধিক আবাসিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, মেসে অবস্থানকালে ভাড়ার রসিদ জমা দিয়ে বৃত্তির জন্য আবেদন করলেও হলে ওঠার পর তাদের অনেকেই সম্পূরক বৃত্তির অর্ধেক অর্থ পেয়েছেন। অন্যদিকে, একই হলে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করা কিছু শিক্ষার্থী পুরো অর্থ পেয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোছা. সোনিয়া আক্তার বলেন, “আমি হলে উঠেছি মাত্র এক সপ্তাহ। আমাকে অর্ধেক টাকা দেওয়া হয়েছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে হলে থাকা অনেকেই পুরো টাকা পেয়েছেন। সবাইকে একই নিয়মে অর্থ দেওয়া হলে আপত্তি থাকত না। কিন্তু এ ধরনের বৈষম্য হতাশাজনক।”

এদিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী দাবি করেছেন, তারা কোনো আবেদন না করেও শুধু ব্যাংক হিসাব হালনাগাদ করার পর বৃত্তির অর্থ পেয়েছেন।

শিক্ষার্থী আক্তার মনি বলেন, “আমি কোনো আবেদন করিনি। শুধু স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্ট হালনাগাদ করে ব্যাংক হিসাব নম্বর যুক্ত করেছিলাম। পরে দেখি আমার হিসাবে পুরো ৯ হাজার টাকা জমা হয়েছে। কীভাবে হলো, তা আমি জানি না।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এক আবাসিক শিক্ষার্থী জানান, তিনি এক বছরের বেশি সময় ধরে হলে অবস্থান করলেও সম্পূর্ণ অর্থ পেয়েছেন।

এ বিষয়ে নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আঞ্জুমান আরা বলেন, “বৃত্তির অর্থ বিতরণ বিষয়ে হল প্রশাসনের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে হল কর্তৃপক্ষকে কিছু জানানো হয়নি।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন বলেন, “হলের শিক্ষার্থীদের অর্ধেক অর্থ দেওয়ার কথা ছিল। তবে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। যদি কোথাও অসঙ্গতি হয়ে থাকে, তাহলে সেটি প্রশাসনিক ভুল কিংবা তথ্যগত সমস্যার কারণে হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব।”

হলের শিক্ষার্থীদের তথ্য প্রশাসনের কাছেই রয়েছে, তাহলে তথ্য গোপনের বিষয়টি কীভাবে সম্ভব— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “তাহলে কোথায় ভুল হয়েছে, সেটিও আমরা পর্যালোচনা করে দেখব।”

উল্লেখ্য, আবাসন সংকট নিরসনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৫৬ কোটি টাকার বিশেষ বা সম্পূরক বৃত্তি প্রদানের ঘোষণা দেয়। তবে দীর্ঘ সময় পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হাতে ১০ কোটি টাকা পৌঁছায়। এই অর্থ বিতরণের প্রক্রিয়ায় ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্যের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।