Dhaka ১১:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেবে বাংলাদেশ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু যাত্রা ও সার্কাস শিল্পকে অশ্লীলতামুক্ত করে নিজস্ব গৌরবে ফিরিয়ে আনতে হবে: প্রতিমন্ত্রী খৈয়ম সংসদে সরকারি ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেন চাইলেন জামায়াত এমপি বাংলাদেশই হবে পরবর্তী বিনিয়োগ গন্তব্য: অর্থ উপদেষ্টা কালীগঞ্জে চোরাই মোটরসাইকেল সিন্ডিকেটের সন্ধান, গ্রেপ্তার ৩ কালীগঞ্জ থানায় ওসির মতবিনিময় সভা নিয়ে বিতর্ক, সাংবাদিকদের ক্ষোভ পোরসায় আমের আড়তে জমজমাট বেচাকেনা সূচকের ঊর্ধ্বগতি, ডিএসইতে লেনদেন ১ হাজার ২১১ কোটি টাকা জেলা-উপজেলা হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা করা হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

কালীগঞ্জ থানায় ওসির মতবিনিময় সভা নিয়ে বিতর্ক, সাংবাদিকদের ক্ষোভ

কালীগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৯:০৮:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • / 11

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা করেছেন। তবে সভায় সাংবাদিকদের আমন্ত্রণের ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতা এবং স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্ব সম্পর্কে ওসির অনবগতির মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, কালীগঞ্জে জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত অনেক পেশাদার সাংবাদিককে সভার বিষয়ে আগে থেকে অবহিত করা হয়নি। ফলে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় অনেক সংবাদকর্মী গুরুত্বপূর্ণ এই মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি। সাংবাদিকদের দাবি, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথভাবে সবাইকে জানানো হলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।

সভাকালে ওসি জেল্লাল হোসেন স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠন ‘টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরাম’-এর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সম্পর্কে অবগত নন বলে মন্তব্য করেন। এছাড়া কালীগঞ্জে কার্যরত আরও কয়েকটি সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্ব সম্পর্কেও তিনি জানেন না বলে জানান। তার এ বক্তব্য উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।

স্থানীয় সাংবাদিকদের মতে, একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচিতি ও সমন্বয় বৃদ্ধি করা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্ব সম্পর্কে অনবগত থাকা এবং সকল সাংবাদিককে সমানভাবে আমন্ত্রণ না জানানোয় পুলিশের সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে সম্প্রতি এক নারী মাদক ব্যবসায়ীর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ওই নারী প্রকাশ্যে দাবি করেন, তিনি প্রতি মাসে থানার পুলিশকে ৬০ হাজার টাকা দিয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করেন। যদিও এ অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এমন প্রেক্ষাপটে মতবিনিময় সভায় মাদক, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পুলিশের জবাবদিহিতা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, মাদক ব্যবসায়ীকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন।

সভায় ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন, কালীগঞ্জ থানা এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক নির্মূল এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবে। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহলের অভিমত, জনস্বার্থে পুলিশ ও সাংবাদিকদের পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্ব সম্পর্কে অনবগতি এবং অনেক পেশাদার সাংবাদিককে আমন্ত্রণ না দেওয়ার কারণে মতবিনিময় সভাটি তার প্রত্যাশিত উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারেনি। তারা ভবিষ্যতে পুলিশ প্রশাসনকে সকল সাংবাদিকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে আরও স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

কালীগঞ্জ থানায় ওসির মতবিনিময় সভা নিয়ে বিতর্ক, সাংবাদিকদের ক্ষোভ

প্রকাশের সময় : ০৯:০৮:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা করেছেন। তবে সভায় সাংবাদিকদের আমন্ত্রণের ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতা এবং স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্ব সম্পর্কে ওসির অনবগতির মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, কালীগঞ্জে জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত অনেক পেশাদার সাংবাদিককে সভার বিষয়ে আগে থেকে অবহিত করা হয়নি। ফলে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় অনেক সংবাদকর্মী গুরুত্বপূর্ণ এই মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি। সাংবাদিকদের দাবি, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথভাবে সবাইকে জানানো হলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।

সভাকালে ওসি জেল্লাল হোসেন স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠন ‘টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরাম’-এর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সম্পর্কে অবগত নন বলে মন্তব্য করেন। এছাড়া কালীগঞ্জে কার্যরত আরও কয়েকটি সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্ব সম্পর্কেও তিনি জানেন না বলে জানান। তার এ বক্তব্য উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।

স্থানীয় সাংবাদিকদের মতে, একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচিতি ও সমন্বয় বৃদ্ধি করা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্ব সম্পর্কে অনবগত থাকা এবং সকল সাংবাদিককে সমানভাবে আমন্ত্রণ না জানানোয় পুলিশের সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে সম্প্রতি এক নারী মাদক ব্যবসায়ীর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ওই নারী প্রকাশ্যে দাবি করেন, তিনি প্রতি মাসে থানার পুলিশকে ৬০ হাজার টাকা দিয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করেন। যদিও এ অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এমন প্রেক্ষাপটে মতবিনিময় সভায় মাদক, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পুলিশের জবাবদিহিতা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, মাদক ব্যবসায়ীকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন।

সভায় ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন, কালীগঞ্জ থানা এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক নির্মূল এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবে। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহলের অভিমত, জনস্বার্থে পুলিশ ও সাংবাদিকদের পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্ব সম্পর্কে অনবগতি এবং অনেক পেশাদার সাংবাদিককে আমন্ত্রণ না দেওয়ার কারণে মতবিনিময় সভাটি তার প্রত্যাশিত উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারেনি। তারা ভবিষ্যতে পুলিশ প্রশাসনকে সকল সাংবাদিকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে আরও স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।